আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাকিস্তান ক্রিকেটে ফের নেতৃত্ব পরিবর্তনের জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। 

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ঢাকা টেস্টে ১০৪ রানের লজ্জাজনক হারের পর টেস্ট অধিনায়ক শান মাসুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।

পাকিস্তানের বিভিন্ন মহলে তাঁর অধিনায়কত্ব এবং দলের পারফরম্যান্স নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে। 

এমন পরিস্থিতিতে আবারও বাবর আজমকে টেস্ট দলের নেতৃত্বে ফেরানোর আলোচনা জোরদার হয়েছে।

দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশের সিরিজ শেষ হওয়ার পর বাবর আজমকে টেস্ট অধিনায়ক করার পরিকল্পনা নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের  কিছু প্রভাবশালী মহল সক্রিয় হয়ে উঠেছে। চলতি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে পাকিস্তানের সামনে এখনও সাতটি টেস্ট ম্যাচ বাকি রয়েছে এবং সেই ম্যাচগুলোতে নতুনভাবে দলকে গুছিয়ে তুলতে বাবরকেই উপযুক্ত মনে করা হচ্ছে।

২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে শান মাসুদের অধিনায়কত্বে পাকিস্তান ১৫টি টেস্টের মধ্যে ১১টিতেই হেরেছে। অন্যদিকে হাঁটুর চোটের কারণে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট খেলতে পারেননি বাবর আজম। তবে ১৮ মে থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্রের দাবি, শুধু বোর্ড নয়, দলের ভিতরেও বাবরকে আবার অধিনায়ক হিসেবে দেখতে আগ্রহী অনেক ক্রিকেটার। বর্তমানে বাংলাদেশ সফরে পাকিস্তান দলের তিন ফরম্যাটের তিন অধিনায়কই রয়েছেন। ওয়ানডে অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি, টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সলমন আলি আঘা এবং টেস্ট অধিনায়ক শান মাসুদ।


বোর্ডের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাবর যদি দ্বিতীয় টেস্টে ফিরে ভাল ব্যাটিং করেন, তাহলে তাঁকে আবার টেস্ট দলের নেতৃত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি আগামী বছরের বিশ্বকাপের আগে ওয়ানডে দলের অধিনায়ক হিসেবেও তাঁকে ফেরানোর চিন্তাভাবনা চলছে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের তিন ফরম্যাটেরই অধিনায়ক ছিলেন বাবর আজম। ২০২৩ সালের ভারতে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপের ব্যর্থতার পর তাঁকে নেতৃত্ব ছাড়তে হয়। 

পরে ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ফের  টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক করা হলেও খারাপ পারফরম্যান্সের পর তিনি পুনরায় সরে দাঁড়ান।

এদিকে প্রথম টেস্টে হারের পর শান মাসুদ নিজেও ভীষণ হতাশ বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, তিনি এখন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডে স্থায়ী প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়েও ভাবছেন। গত বছর পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি তাকে ‘ডিরেক্টর অব ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যান্ড প্লেয়ার অ্যাফেয়ার্স’ পদ গ্রহণ করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে তখন তিনি চলতি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্র শেষ করতে অধিনায়কত্ব চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।