আজকাল ওয়েবডেস্ক: আবারও একটা ব্যর্থতা। একের পর এক মরশুম ধরে এটাই হয়ে চলেছে। ওই কোয়ার্টার বা সেমিতে আটকে যাওয়া। রঞ্জি ট্রফিতে বাংলার ব্যর্থতার ইতিহাস অব্যাহত। এবারও তার অন্যথা হল না। কল্যাণীর মাঠে জম্মু–কাশ্মীরের কাছে সেমিতে হেরে গেল বাংলা। ৬ উইকেটে জিতে প্রথমবার রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে উঠল জম্মু–কাশ্মীর।
এটা ঘটনা, তৃতীয় দিন দুপুর পর্যন্ত ম্যাচ ছিল বাংলার পকেটে। মহম্মদ সামির ৮ উইকেটের সুবাদে মনে হচ্ছিল, ম্যাচ জয় সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৯৯ রানে গুটিয়ে যায় বাংলার ইনিংস। ১২৬ রানের লক্ষ্য মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে বুধবার তুলে নিলেন আকিব নবিরা।
এটা ঘটনা, গ্রুপ পর্বে দুরন্ত পারফরম্যান্স। কিন্তু নকআউটে গেলেই বাংলা যেন হয়ে যায় নখদন্তহীন বাঘ। গত কয়েকবছর ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে এটাই বাংলার ছবি। রঞ্জি, বিজয় হাজারে, সৈয়দ মুস্তাক আলি–সমস্ত টুর্নামেন্টের শুরুতেই ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে আশা জাগায় বাংলা। কিন্তু নকআউট পর্বে স্বপ্নের সলিল সমাধি। বারবার ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ডুবে যাওয়া।
কল্যাণীতে প্রথম ইনিংসে অভিমন্যু ঈশ্বরণদের ৩২৮ রানের জবাবে আকিব নবিদের ইনিংস শেষ হয়েছিল ৩০২ রানে। সামি নেন আট উইকেট। আর ম্যাচে হল ৯ উইকেট। সামি জ্বলে না উঠলে বাংলা হয়ত ওই লিডটাও পেত না। ৯০ রানে ৮ উইকেট পান সামি। চলতি মরশুমে তিন ধরনের ঘরোয়া ক্রিকেটে সামির মোট উইকেট সংখ্যা ৬৮।
দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৯৯ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলা দল। অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ করেন ৫ রান। সুদীপ ঘরামি, সুদীপ চ্যাটার্জিরা ব্যর্থ হন। অনুষ্টুপ করেন ১২। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলার সর্বোচ্চ রান শাহবাজ আহমেদের (২৪)। ম্যাচে নয় উইকেট নেন জম্মু–কাশ্মীরের আকিব নবি।
তৃতীয় দিনের শেষে জম্মু–কাশ্মীরের রান ছিল ২ উইকেট হারিয়ে ৪৩। বুধবার সকালে শুভম পুন্ডিরকে আউট করে অসম্ভবের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন সামি। কিন্তু তা আর হল কই! বংশজ শর্মা করে যান ৪৩। সঙ্গ দিলেন আবদুল সামাদ (৩০)। আকাশ দীপের ৩ উইকেট কোনও কাজে লাগল না। ৬ উইকেটে জিতে প্রথমবার রঞ্জির ফাইনালে গেল জম্মু–কাশ্মীর।
