সম্পূর্ণা চক্রবর্তী: শনিবার দুপুর। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের মূল প্রবেশদ্বারের বাইরে ঘটে যায় আমূল পরিবর্তন। বিশ্ব বাংলার লোগো সরিয়ে বসে অশোক স্তম্ভ। সরকার বদলের পর প্রথম ডার্বি। শোনা যাচ্ছে মাঠে হাজির থাকতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। বড় ম্যাচের আগের দিন প্রস্তুতি দেখে যান সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কল্যাণ চৌবে। কিন্তু সব শেষে প্রশ্ন একটাই, বদলাবে কি ইস্টবেঙ্গলের ভাগ্য? ১৫ বছর পর সরকার বদলেছে। ২২ বছর পর কি জাতীয় স্তরের ট্রফি ঢুকবে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে? আইএসএলের ইতিহাসে প্রথম ডার্বি জিততে পারবে লাল হলুদ? প্রশ্নের উত্তর পেতে আরও একটা দিনের অপেক্ষা। কিন্তু পাশা ঘোরাতে তৈরি অস্কার ব্রুজো। লাল হলুদের কোচ হিসেবে ডার্বি দিয়ে হাতেখড়ি হয়েছিল অস্কারের। কাকতালীয়ভাবে রবিবার ইস্টবেঙ্গলের কোচ হিসেবে শেষ ডার্বি। কিন্তু এবার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। লিগের তলানিতে নয়, খেতাব লড়াইয়ে ইস্টবেঙ্গল।
ডার্বির আগের দিন যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী দেখায় অস্কারকে। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগের ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে এই ইস্টবেঙ্গলের কোনও মিল নেই। আইএসএলের প্রথম ডার্বি জেতার বিষয়ও আশাবাদী। অস্কার বলেন, 'প্রথম দিন থেকেই বিশেষ অনুভূতি। আমি ইস্টবেঙ্গলের রংটা অনুভব করতে পারি। আমি নিজেকে ইস্টবেঙ্গলের ফ্যান মনে করি। আমরা দুটো ফাইনালে হেরেছি। এটা আমার শেষ ডার্বি। আশা করছি এবার আমরা পরিস্থিতি বদলাতে পারব। ইস্টবেঙ্গল কোনওদিন আইএসএলে মোহনবাগানকে হারাতে পারেনি। এবার ইতিহাস বদলানোর পালা। ২২ বছর পর ট্রফির হাতছানি। আমাদের লক্ষ্য থাকবে প্রথম দুইয়ের মধ্যে শেষ করা। আমি দেড় বছর আগে ইস্টবেঙ্গলে যোগ দিই। মানসিকভাবে খারাপ জায়গায় ছিল ফুটবলাররা। কার্যত ভেঙে পড়েছিল দলটা। কয়েকটা টুর্নামেন্ট আমাদের পক্ষে যায়নি। কিন্তু এবার আমরা খেতাব জেতা নিয়ে কথা বলছি। বিশাল পরিবর্তন। আমাদের মধ্যে জয়ের মানসিকতা এসেছে। আশা করছি ইস্টবেঙ্গলের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে।'
কয়েকদিন আগে পরপর বোমা ফাটান অস্কার। প্রথমে মরশুম শেষে ইস্টবেঙ্গল ছাড়ার কথা জানান। তারপর লাল হলুদের প্রাক্তন তারকা অ্যালভিটো ডি কুনহা, সন্দীপ নন্দী এবং রহিম নবিকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দেন। ডার্বির আগের দিনও কি পরিবেশ তাতিয়ে দেওয়ার মতো কোনও মন্তব্য করবেন? প্রশ্ন শুনেই মুখে স্মিত হাসি স্প্যানিশ কোচের। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, 'আজ আর না। এখন ডার্বি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।' কিন্তু তাসত্ত্বেও নয় নয় করে, অনেক কিছুই বলে দিলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ। যা আরও একবার ক্লাব এবং ইনভেস্টরদের মধ্যে মতপার্থক্য প্রকট করে। অস্কার বলেন, 'আমি আজকে আর কিছু বলতে চাই না। দলের মধ্যে একটা ইতিবাচক মেজাজ আছে। আমি গুরুত্বপূর্ণ নয়। ডার্বি গুরুত্বপূর্ণ। ইস্টবেঙ্গলের একটা ধারণা আছে, ইমামির আলাদা ভাবনা, এবং আমার ভিন্ন চিন্তাধারা। আমি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে যা বলার, আগের সপ্তাহে বদলে দিয়েছি। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডার্বি।' চোটের জন্য চলতি মরশুমের চার অধিনায়কের মধ্যে তিনজনকে পাবে না ইস্টবেঙ্গল। এই তালিকায় রয়েছে সল ক্রেসপো, নাওরেম মহেশ এবং সৌভিক চক্রবর্তী। চোট রয়েছে আনোয়ার আলির। ব্রুজো জানান, চোট পুরোপুরি সারতে প্রায় এক মাস লাগবে। তবে ডার্বি উতরে দিতে তৈরি আনোয়ার। আইএসএলে এই প্রথম ধারেভারে মোহনবাগানকে টক্কর দেবে ইস্টবেঙ্গল। ডার্বিতে বরাবরই আন্ডারডগ হয়ে নামে লাল হলুদ। কিন্তু এবার লড়াই সেয়ানে সেয়ানে। যদিও মোহনবাগানের ভূয়সী প্রশংসা করেন অস্কার। পাশাপাশি হুঙ্কার, খেতাব ধরে রাখার চাপে থাকবে মোহনবাগান। বরং, ইস্টবেঙ্গলের হারানোর কিছু নেই।

অনুশীলন চলাকালীন যুবভারতীর প্র্যাকটিস মাঠে হাজির হন ইমাামি কর্তা বিভাস আগরওয়াল। মাঠের ধারে তাঁর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলতে দেখা যায় অস্কারকে। প্রস্তুতি সারা, মঞ্চ তৈরি। পালাবদলের বাজারে কি ডুববে পালতোলা নৌকা? ডার্বির ২৪ ঘণ্টা আগে সমর্থকদের এমন স্বপ্নই দেখালেন অস্কার।















