আজকাল ওয়েবডেস্ক: নব্বই মিনিটের রোমহর্ষক লড়াইয়ের নিট ফল ড্র। দুই দলের মধ্যে পয়েন্ট ভাগাভাগি হয়ে গেলেও, তুলনায় দাপট বেশি ছিল ইস্টবেঙ্গলের। অন্তত গোলের সুযোগ তৈরি করার ক্ষেত্রে। তবে এই রেজাল্টে কোনও সমস্যা নেই লাল হলুদের। বরং, খেতাবের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ইস্টবেঙ্গল। চ্যাম্পিয়ন হতে বৃহস্পতিবার জিততে হবে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে। ড্র করলে তাকিয়ে থাকতে হবে মোহনবাগান ম্যাচের দিকে। তবে এদিনের ফুটবলের পর, সরাসরি জিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী অস্কার ব্রুজো।
ইস্টবেঙ্গলের স্প্যানিশ কোচের চোখে-মুখে প্রত্যয় ফুটে ওঠে। শরীরীভাষায় আত্মবিশ্বাস ঝরে পড়ে। বৃহস্পতিবার আইএসএলের শেষ ম্যাচ জিতলেই ২২ বছর পর খেতাব জয়। অন্যদিকে চ্যাম্পিয়ন হতে হলে, অন্তত ছয় গোল বা তারও বেশি করতে হবে মোহনবাগানকে। লোবেরার দলের বর্তমানে যা হাল, সেটা কোনওভাবেই সম্ভব নয়। এমন বিশ্বাস ইস্টবেঙ্গল কোচেরও। অস্কার বলেন, 'আমরা শেষ ম্যাচ জিতে চ্যাম্পিয়ন হব। আমরা সুবিধাজনক জায়গায় আছি। আমরা জিতে চ্যাম্পিয়ন হব। আমরা একটা গোল করলে, মোহনবাগানকেও আরও বেশি গোল করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, ওরা সেটা পারবে না।' ডার্বির আগে বিপক্ষকে নিয়ে ভাল মতো হোমওয়ার্ক সারেন ব্রুজো। তারই প্রতিফলন ঘটল মাঠে। অস্কার বলেন, 'আমাদের জেতা ম্যাচ। আমরা এত সুযোগ পেয়েও জিততে পারিনি। আমরা নিজেদের খেলা খেলেছি। মোহনবাগানের খেলার ধরন জানি। জেমিকে সামনে রেখে খেলবে জানতাম। তবে আমাদের গোল কনভার্ট করতে হবে। এদিকে নজর রাখতে হবে।'
ক্লাবের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনার মুখে দাঁড়িয়ে ইস্টবেঙ্গল। উত্তেজিত প্লেয়ার থেকে কোচ। রবি রাতে ম্যাচ ড্রয়ের পর উচ্ছ্বাস চেপে রাখতে পারেননি ইস্টবেঙ্গল কোচ। এই প্রসঙ্গে অস্কার বলেন, 'আমরা বইয়ের একটা নতুন পাতা খুললাম। যা এতদিন কেউ খোলেনি। সবাই খালি ব্যর্থতা দেখে এসেছে। এবার নতুন কিছু হতে চলেছে। সাফল্যের সাক্ষী থাকবে সমর্থকরা।'
লিগ প্রায় হাতছাড়া হওয়ার মুখে। মোহনবাগানের হাতে আর কিছু নেই। চ্যাম্পিয়ন হতে হলে, শেষ ম্যাচে বিশাল ব্যবধানে জিততে হবে। বর্তমান পারফরম্যান্স অনুযায়ী, যা কোনওভাবে সম্ভব নয়। তবে হাল ছাড়তে চান না মোহনবাগান কোচ। সার্জিও লোবেরা বলেন, 'আমাদের হাতে আর কিছু নেই। এমন পরিস্থিতি আমরা চাইনি। তবে আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করব। নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে।' ম্যাচের শেষদিকে বড় চেহারার দুই বিদেশি ডিফেন্ডারকে বসিয়ে দেন বাগান কোচ। তার কিছুক্ষণ পরই গোল হজম করেন। এটাই কি স্প্যানিশ কোচের বড় ভুল ছিল? তেমন মনে করছেন না লোবেরা। জানান, গোল পাওয়ার জন্য তাঁকে ঝুঁকি নিতেই হত। এমন ক্ষেত্রে মাঝেমধ্যে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। ইস্টবেঙ্গলের খেলার প্রশংসা করেন। অস্কারের সঙ্গে একমত লোবেরা। বাগান কোচ স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এটা তাঁর দেখা সেরা ডার্বিগুলোর মধ্যে অন্যতম। ম্যাচের শেষলগ্নে চোট পান জেসন কামিন্স। বাগান কোচ জানান, চোট গুরুতর। শেষ ম্যাচে হয়ত কামিন্সকে পাওয়া যাবে না।















