আজকাল ওয়েবডেস্ক: রায়পুরে দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচে টিম ইন্ডিয়াকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলল নিউজিল্যান্ড।বোলারদের দাপটে ম্যাচে ফিরেছিল ভারত। পার্থক্য গড়ে দেন কুলদীপ যাদব। ফেরান দুই সেট ব্যাটার রচিন রবীন্দ্র এবং গ্লেন ফিলিপসকে। কিন্তু তাতে আটকাল না দুশো। নির্ধারিত ওভারের শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে কিউয়িদের রান ২০৮। শুরুটা যেভাবে ঝড়ের গতিতে করেছিল, মনে হয়েছিল টিম ইন্ডিয়ার সামনে আরও বড় রানের টার্গেট খাড়া করবে ব্ল্যাক ক্যাপসরা। কিন্তু নিয়মিত উইকেট হারানোয় মাঝের ওভারগুলোতে খেলা থেকে হারিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। কোনও বড় পার্টনারশিপ গড়ে ওঠেনি। অবশ্য কৃতিত্ব দিতে হবে ভারতীয় বোলারদের। নিয়মিত উইকেট তুলে নেয়। কিন্তু শেষপর্যন্ত দুশোর গণ্ডি পেরোয় নিউজিল্যান্ড। তবে রায়পুরে শিশিরের জন্য এই রান ভারতের নাগালের বাইরে নয়। চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে কিউয়ি বোলারদেরও।
নিউজিল্যান্ডের পতন শুরু ছয় ওভারের মধ্যেই। পরপর দুই ওভারে উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। পাওয়ার প্লের শেষে ২ উইকেট হারিয়ে কিউয়িদের রান ছিল ৪৫। শুরুটা দারুণ করেন ডেভন কনওয়ে এবং টিম সেইফার্ট জুটি। একটা সময় বিনা উইকেট হারিয়ে নিউজিল্যান্ডের রান ছিল ৪৩। মাত্র ২ রানে জোড়া উইকেট হারায়। চতুর্থ ওভারে উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি রানও দেননি হর্ষিত রানা। প্রথম তিন ওভারে ঝড়ের গতিতে শুরু করে ব্ল্যাক ক্যাপসরা। শুক্র সন্ধেয় নতুন বল হাতে দেখা যায় হার্দিক পাণ্ডিয়াকে। অন্যদিকে নিজের প্রথম ২ ওভারে অতিরিক্ত রান দেন অর্শদীপ সিং। এদিন টসে জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাট করতে পাঠান সূর্যকুমার যাদব। দলে দুটো পরিবর্তন হয়। চোটের জন্য ছিটকে যান অক্ষর প্যাটেল। বিশ্রাম দেওয়া হয় যশপ্রীত বুমরাকে।
শুরুতে ভারত কিছুটা ব্যাকফুটে থাকলেও, হর্ষিত এবং বরুণ পাওয়ার প্লের শেষে দলকে ম্যাচে ফেরায়। তবে বেশিক্ষণ কিউয়িদের আটকে রাখতে পারেনি। টি-২০ ক্রিকেটে নিজের ২০০০ রান সম্পূর্ণ করেন রচিন রবীন্দ্র। দুরন্ত ছন্দে ছিলেন। ছয়ের বন্যা বইয়ে দেন। দ্রুত জোড়া উইকেট হারালেও, রচিন এবং ফিলিপসের কাঁধে ভর করে ম্যাচে ফেরে কিউয়িরা। কিন্তু কুলদীপের গুগলিতে খেই হারিয়ে ফেলেন। অন্যদিকে মেজাজ ধরে রাখেন বাঁ হাতি। তবে একদিকে ক্রমাগত উইকেট হারাতে থাকে নিউজিল্যান্ড। প্রত্যেক পার্টনারশিপের শুরুটা ভাল হলেও, ক্ষণস্থায়ী ছিল। সেট হওয়ার পরপরই ফিরে যায় ব্যাটাররা। একদিনের ক্রিকেটে ব্যাক টু ব্যাক শতরান করে দুর্ধর্ষ ছন্দে ছিলেন ড্যারেল মিচেল। কিন্তু এদিন বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি। ১৮ রানে আউট হন। পার্টনারশিপ গড়তে পারেনি কিউয়িরা। নিয়মিত উইকেট হারানোয় ম্যাচে ফেরে ভারত। পার্থক্য গড়ে দেন কুলদীপ। ছন্দে থাকা রচিনকেও ফেরান চায়নাম্যান। ২৭ বলে ৪৪ করে ফেরেন বাঁ হাতি। ইনিংসে ছিল ৪টি ছয়, ২টি চার। একটা সময় মনে হয়েছিল দুশোর গণ্ডি পার করতে পারবে না কিউয়িরা। কিন্তু শেষদিকে দলকে টানেন মিচেল স্যান্টনার। অধিনায়কোচিত ইনিংস। ২৭ বলে ৪৭ রানে অপরাজিত নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার। শিশিরের জন্য শেষদিকে বল করতে অসুবিধা হয় ভারতীয় বোলারদের।
