এই ছবিগুলি চেনা দেশপ্রেমের ছকে বাঁধা নয়। এখানে নারী চরিত্ররা শধুই পার্শ্বচরিত্র নন, তাঁরাই গোয়েন্দা অফিসার, এয়ার ফোর্স পাইলট, বিপ্লবী কিংবা সেই সব নীরব নায়িকা, যাঁরা ব্যক্তিগত বিপদের মুখে দাঁড়িয়েও দেশের দায়িত্ব থেকে একচুলও সরে আসেন না। যুদ্ধক্ষেত্র হোক বা ছায়ার আড়ালে -এই ছবিগুলিতে নারী নেতৃত্ব মানেই সাহস, বুদ্ধিমত্তা আর আত্মত্যাগ।
2
8
আলিয়া ভাট (রাজি):
‘রাজি’ ছবিতে আলিয়া ভাটের অভিনয় নিঃসন্দেহে কেরিয়ার-ডিফাইনিং। ১৯৭১-এর যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কাশ্মীরি ছাত্রী সেহমতের চরিত্রে তিনি একদিকে যেমন একজন স্ত্রী, তেমনই একজন আন্ডারকভার ভারতীয় গুপ্তচর, যিনি পাক সেনা পরিবারের মধ্যে ঢুকে পড়েন শুধুমাত্র দেশের স্বার্থে। বিশ্বাসঘাতকতার মানসিক যন্ত্রণা আর কর্তব্যের কঠিন ভার -দুটোকেই সমানভাবে বহন করে সেহমত। চোখের জল আর নীরব ত্যাগেই আলিয়া তুলে ধরেন দেশপ্রেমের সবচেয়ে বেদনাদায়ক রূপ।
3
8
সোনম কাপুর (নীর্জা):
এই হৃদয়বিদারক বায়োপিকে সোনম কাপুর রূপ দেন বাস্তবের সাহসী নায়িকা নীর্জা ভানোতের। ১৯৮৬ সালের বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় শত শত যাত্রীর প্রাণ বাঁচানো এক সাধারণ বিমানসেবিকার অসাধারণ সাহসের কাহিনি। ছবিতে ধরা পড়ে, কীভাবে এক সংবেদনশীল তরুণী ভয়কে জয় করে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন কর্তব্যের কাছে! নীরবেই হয়ে ওঠেন এক শহিদ।
4
8
জাহ্নবী কাপুর (গুঞ্জন সাক্সেনা):
১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের পটভূমিকায় তৈরি এই ছবিতে জাহ্নবী কাপুর অভিনয় করেন ভারতের প্রথম মহিলা কমব্যাট এয়ার ফোর্স পাইলট গুঞ্জন সাক্সেনার ভূমিকায়। পুরুষ-প্রধান ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করে তাঁর দৃঢ়তা, সাহস আর দায়িত্ববোধ ছবির মূল শক্তি। আহত সেনাদের উদ্ধার ও রেকি মিশনে তাঁর ভূমিকা ভারতীয় যুদ্ধ ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়।
5
8
কঙ্গনা রানাউত (মণিকর্ণিকা):
‘মণিকর্ণিকা’য় কঙ্গনা রানাউত রূপ দেন স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক রানি লক্ষ্মীবাঈকে। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়া এক যোদ্ধা রানির অগ্নিময় জীবন তুলে ধরে এই ছবি। সামরিক কৌশল, নির্ভীক নেতৃত্ব এবং ১৮৫৭-র মহাবিদ্রোহে তাঁর কিংবদন্তি আত্মবলিদান, সব মিলিয়ে এক অবিস্মরণীয় প্রতিরোধের দলিল।
6
8
ইয়ামি গৌতম (উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক):
‘উরি’ ছবিতে ইয়ামি গৌতমের চরিত্র পল্লবী শর্মা আধুনিক যুদ্ধের নীরব মস্তিষ্ক। প্রথমে নার্স সেজে আন্ডারকভারে কাজ, তারপর অপারেশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ। তাঁর ভূমিকায় নেই বন্দুক, বদলে আছে বুদ্ধি ও ধৈর্য। ইয়ামি তুলে ধরেন সেই নিঃশব্দ সাহস, যা ছাড়া আধুনিক যুদ্ধ অসম্পূর্ণ।
7
8
সারা আলি খান (এ ওয়াতন মেরে ওয়াতন):
১৯৪২-এর ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের সময় গোপন রেডিও স্টেশন চালানো স্বাধীনতা সংগ্রামী ঊষা মেহতার চরিত্রে সারা আলি খান। এই ছবিতে অস্ত্র নয়, যোগাযোগই হয়ে ওঠে প্রতিরোধের হাতিয়ার। যুবশক্তির সাহস, বুদ্ধি ও নিঃশব্দ লড়াইকে সামনে আনে এই গল্প।
8
8
অন্যা সিং (বর্ডার ২):
‘বর্ডার ২’-এ অন্যা সিং অভিনয় করেছেন ১৯৭১ সালের যুদ্ধে এক নৌসেনা অফিসারের স্ত্রীর চরিত্রে। যুদ্ধের ময়দানে না থেকেও যাঁরা দেশের জন্য লড়াই করেন, সেই ‘সাইলেন্ট ফ্রন্ট’-এর প্রতিনিধিত্ব করে তাঁর চরিত্র। অপেক্ষা, উৎকণ্ঠা আর অদম্য দেশপ্রেম সবটাই ফুটে ওঠে এই সংবেদনশীল ভূমিকায়।