আজকাল ওয়েবডেস্ক: টি-২০ বিশ্বকাপের প্রাক্কালে ভারতীয় শিবিরে সুখবর। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ২-০ তে এগিয়ে গেল টিম ইন্ডিয়া। তবে রায়পুরে দ্বিতীয় টি-২০ তে তার থেকেও বড় পাওনা ঈশান কিষাণ এবং সূর্যকুমার যাদব। প্রথমজন দেড় বছর পর জাতীয় দলে ফিরে ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেন। দ্বিতীয়জন দেড় বছর পর করেন অর্ধশতরান। আবার পুরোনো স্কাইয়ের ঝলক দেখা যায়। বিশ্বকাপের আগে যা গৌতম গম্ভীরকে অনেকটা চিন্তামুক্ত করবে। শেষপর্যন্ত ৩২ বলে ৭৬ রান করে আউট হন ঈশান। ৩৭ বলে ৮২ রানে অপরাজিত সূর্য। নিউজিল্যান্ডের বোলারদের নিয়ে ছেলেখেলা করে ভারতীয় ব্যাটাররা। ২০ ওভারের শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ২০৮ করে কিউয়িরা। মাত্র ১৫.২ ওভারে ৩ উইকেটের বিনিময়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ভারত। ২৮ বল বাকি থাকতে ৭ উইকেটে জয়। যা টি-২০ ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড। তৃতীয় উইকেটে ঈশান এবং সূর্যকুমারের জুটিতে ওঠে ১২২ রান।
'ছোট সাইজের পকেট বোমা'। ঈশান কিষাণের ক্ষেত্রে এই কথাটি প্রায়ই ব্যবহৃত হয়। এদিন সেটা কার্যকরী করে দেখালেন বাঁ হাতি। ছয়ের পর ছয়। চারের পর চার। টি-২০ ক্রিকেটে অন্যতম আকর্ষণীয় ইনিংস। ৬ রানে জোড়া উইকেট হারায় টিম ইন্ডিয়া। সেখান থেকে পাওয়ার প্লের শেষে ২ উইকেট হারিয়ে ভারতের রান ছিল ৭৫। প্রথম ওভারেই ফেরেন সঞ্জু স্যামসন। ম্যাচের দ্বিতীয় বলে প্রাণ ফিরে পান। ম্যাট হেনরির বলে ক্যাচ ফস্কান ডেভন কনওয়ে। কিন্তু তার ফায়দা তুলতে পারেননি। একই ওভারের চতুর্থ বলে আউট হন। দুশো রান তাড়া করতে নেমে পরের ওভারে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খায় ভারত। নিজের প্রথম বলে শূন্য রানে ফেরেন অভিষেক। ১.১ ওভারে ৬ রানে ২ উইকেট হারিয়ে প্রবল চাপে পড়ে ভারত। প্রত্যেক ম্যাচেই শুরুটা ঝড়ের গতিতে করেন অভিষেক। তাঁকে শূন্য রানে ফিরিয়ে কিউয়িরা ভেবেছিল ম্যাচ অর্ধেক পকেটে চলে এসেছে। কিন্তু সিলেবাসের বাইরের প্রশ্ন পেয়ে দিশেহারা হয়ে যায় নিউজিল্যান্ডের বোলাররা।
টিম ইন্ডিয়ার বিধ্বংসী ওপেনিং জুটির জন্য হোমওয়ার্ক করেন মিচেল স্যান্টনাররা। কিন্তু দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা ঈশান কিষাণের জন্য তেমন কোনও প্রস্তুতি ছিল না। তারই খেসারত দিতে হল। ঘরোয়া ক্রিকেটে দুরন্ত ছন্দে ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটের 'অবাধ্য ছেলে'। যার ফলে প্রায় দেড় বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকতে হয়। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজে প্রত্যাবর্তন করেন। প্রথম ম্যাচে রান পাননি। এদিন নিজের জাত চেনান। ২১ বলে অর্ধশতরান সম্পূর্ণ করেন। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই ফরম্যাটে দ্রুততম ৫০। এর আগে এই রেকর্ড ছিল অভিষেক শর্মার। ২২ বলে অর্ধশতরান করেন। এদিন তাঁকে ছাপিয়ে যান ঈশান। ৩২ বলে ৭৬ করে আউট হন। বিধ্বংসী ইনিংসে ছিল ৪টি ছয়, ১১টি চার। এই জায়গা থেকে ম্যাচ হারার কোনও সম্ভাবনা ছিল না ভারতের। ১০ ওভারের শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ভারতের রান ছিল ১৩৩।

৪৬৮ দিন, ২৮ ইনিংস পর অর্ধশতরান পেলেন সূর্যকুমার যাদব। শেষবার ২০২৪ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অর্ধশতরান করেন। তারপর থেকে খরা চলছিল। অবশেষে সেটা কাটে। ফিরে আসে সেই পুরোনো শটগুলো। ৮২ রানের মারকুটে ইনিংসে ছিল ৪টি ছয়, ৯টি চার। বিশ্বকাপের আগে অধিনায়কের ফর্ম ফিরে পাওয়া বড় প্রাপ্তি। তবে তার জন্য কৃতিত্ব প্রাপ্য ঈশানের। উইকেটের একপ্রান্তে তাঁর মারমুখী ইনিংসের জন্য থিতু হওয়ার সুযোগ পান সূর্য। একইসঙ্গে আত্মবিশ্বাস ফিরে পান। শুরুটা মন্থর গতিতে করলেও, শেষমেষ হারানো ছন্দ ফিরে পান। শেষপর্যন্ত অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। এদিন রায়পুরে শিশিরের প্রভাব পড়ে নিউজিল্যান্ডের বোলিংয়ে। কিন্তু তাসত্ত্বেও বিশ্বকাপের আগে বোলিং চিন্তা বাড়াবে কিউয়িদের।
অন্যদিকে বিরাট কোহলিকে ছাপিয়ে যান হার্দিক পাণ্ডিয়া। সামনে একমাত্র রোহিত শর্মা। রায়পুরে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচে রেকর্ড ভারতীয় অলরাউন্ডারের। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলেন। শুক্রবার নিজের ১২৬তম টি-২০ খেলেন হার্দিক। কোহলির ম্যাচের সংখ্যা ১২৫। সামনে একমাত্র রোহিত। তাঁর ম্যাচ সংখ্যা ১৫৯। ব্যাট হাতে ২০২৭ রান। সর্বোচ্চ অপরাজিত ৭১। বল হাতে ১০২ উইকেট হার্দিকের।
