আজকাল ওয়েবডেস্ক: রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ। শেষ বল পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা। পরতে পরতে নাটক। ছেলেদের আইপিএলের তুলনায় কোনও অংশে কম নয়। শুক্রবার রাতের ডিওয়াই পাতিল দেখল আরও একটি অবিশ্বাস্য ম্যাচ। নাদিন ডি ক্লার্কের দাপট। প্রথমে বল হাতে, পরে ব্যাট হাতে। একার হাতে হারা ম্যাচ জেতালেন। ভারতের মেয়েদের বিশ্বকাপ জয়ের পর মেয়েদের ক্রিকেট নিয়ে আগ্রহ বেড়ে গিয়েছে। উদ্বোধনই মেয়েদের আইপিএলের আদর্শ বিজ্ঞাপন। শেষ ওভারে ১৮ রানের প্রয়োজন ছিল। প্রথম দুই বলে রান হয়নি। শেষ চার বলে ৬,৪, ৬,৪। শেষ বলে প্রয়োজন ছিল ২ রান। ন্যাট স্কাইভার ব্রান্টকে চার মেরে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু‌কে অবিশ্বাস্য জয় এনে দিলেন ডি ক্লার্ক। নির্ধারিত ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৫৪ রান করেছিল মুম্বই। ৩ উইকেট হাতে নিয়ে জয়সূচক রানে পৌঁছে যায় আরসিবি। ৪৪ বলে ৬৬ রানে অপরাজিত থাকেন ক্লার্ক। ইনিংসে রয়েছে ২টি ছক্কা এবং ৭টি চার। নেন ৪ উইকেট। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচের সেরা দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার। 

টসে জিতে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে ব্যাট করতে পাঠান স্মৃতি মান্ধানা।‌ শুরুতেই ধাক্কা খায় হরমনপ্রীতের দল। মাত্র ৬৭ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারায়। টপ অর্ডার ব্যর্থ। রান পাননি হরমনপ্রীতও। মাত্র ২০ রান করে ফেরেন। ওপেনিংয়ে গুণালন কমোলিনি ৩২ রান করেন। দুই বিদেশি তারকা অ্যামেলিয়া কের এবং ন্যাট স্কাইভার ব্রান্ট ডাহা‌ ব্যর্থ। মুম্বইকে লড়াইয়ে ফেরান নিকোলা ক্যারি এবং সাজীবন সাজানা। বিধ্বংসী মেজাজে পাওয়া যায় ভারতীয় দলের মহিলা ক্রিকেটারকে। ২৫ বলে ৪৫ রান করেন। স্ট্রাইক রেট ১৮০। ৭টি চার এবং একটি ছয়ে ইনিংস সাজান। যোগ্য সঙ্গত দেন ক্যারি। ২৯ বলে ৪০ রান করেন। এই দু'জনের কাঁধে ভর করে দেড়শো রানের গণ্ডি পার করে মুম্বই। ৬ উইকেটের বিনিময়ে ১৫৪ রান তোলে মুম্বই। ৪ উইকেট নেন নাদিন ডি ক্লার্ক। 

রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় বেঙ্গালুরু। রান পাননি স্মৃতি। শুরুটা অবশ্য ভালই করেন। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি। ১৮ রান করে আউট হন। সংক্ষিপ্ত ইনিংসে ছিল ৪টি চার। আরেক ওপেনার গ্রেস হ্যারিস ২৫ রান করেন। ৪০ রানে প্রথম উইকেট হারায় আরসিবি। তারপরই পতনের সূত্রপাত। মাত্র ২৫ রানে ৫ উইকেট হারার বেঙ্গালুরু। ব্যর্থ রিচা ঘোষও। ৬ রানে ফেরেন বিশ্বকাপের তারকা। এই জায়গা থেকে প্রত্যাবর্তন সহজ নয়। কিন্তু নাদিন ডি ক্লার্কের হাত ধরে ম্যাচে ফেরে বেঙ্গালুরু। বল হাতে চার উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে মারমুখী। একাই লড়লেন। শেষ বল পর্যন্ত ম্যাচ নিয়ে যান। তাঁকে কিছুটা সঙ্গত দেন অরুন্ধতী রেড্ডি। ২০ রান করে আউট হন। কিন্তু দলকে জেতানোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন প্রোটিয়া অলরাউন্ডার।