আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুবভারতীতে স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির বিরুদ্ধে মাত্র একবারই আনন্দ করার সুযোগ পেয়েছিলেন মোহনবাগান সমর্থকরা। তবে নিজেদের এগিয়ে যাওয়ার জন্য নয়। কিশোর ভারতীতে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে ইন্টার কাশী এগিয়ে যাওয়ায়। শেষ মুহূর্তে ম্যাকলারেন গোল করে দলকে জেতালেন বটে। কিন্তু তিনি তো আর জানেন না যে ওদিকে ইস্টবেঙ্গল ততক্ষণে কাশীকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছে। গ্যালারিতে ততক্ষণে খবর এসে গেছে। 

জেমি দলকে জিতিয়ে জামা খুলে সেলিব্রেশন করলেও সমর্থকরা তাতে অংশ নিতে পারলেন না। অংশ নিয়ে হবেই বা কী, টুর্নামেন্টের সেরা হওয়ার খেলা এদিন মোহনবাগান একেবারেই খেলতে পারেনি। সুযোগের বন্যা বয়ে গেল, কর্ণারের বন্যা বয়ে গেল। কিন্তু গোল দেখা গেল না প্রথমার্ধে। শুভাশিস ডার্বির পর বলেছিলেন গোলের বন্যা বইয়ে দেবেন, সেই চেষ্টা চোখে পড়ল কই? উল্টে স্পোর্টিং দিল্লি এগিয়ে গেল আগে গোল দিয়ে। গোটা টিমকে একটা বারের জন্যও ছন্দে দেখা গেল না। প্রথমার্ধে শুরু থেকেই অল আউট আক্রমণে উঠে গিয়েছিল মোহনবাগান। কিন্তু ওই আক্রমণে যাওয়াটাই সার। 

গোল মিসের বন্যা বইয়ে দিলেন দিমি, কামিংসরা। নইলে, মোহনবাগান যা সুযোগ পেয়েছিল সেগুলো কাজে লাগালে লাল হলুদের সঙ্গে গোল পার্থক্য কমে যেত। কামিংস যেটা বাইরে মারলেন ওটা যে মিস করা যায় সেটা নিজেও বিশ্বাস করতে পারবেন না হয়তো। তিন ডিফেন্ডারে দল নামনোয় স্পোর্টিং দিল্লি কাউন্টার অ্যাটাকিং ফুটবলকে অস্ত্র করে নেমেছিল এদিন। ম্যাচের শুরুতেই পাঁচ মিনিটের মাথায় বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি কিক পেয়েছিল এসসি দিল্লি। মহম্মদ আইমেনের শট ক্রসপিসে লেগে বেরিয়ে যায়। ওদিকে ১৪ মিনিটে ইন্টার কাশী এগিয়ে যেতেই উল্লাসে মেতে ওঠে মোহনবাগান গ্যালারি। ব্যস, ওখানেই শেষ। 
আর সারা ম্যাচে অত্যন্ত শোচনীয় ফুটবলের নমুনা দেখা গেল। গোল করা তো দূর, অন টার্গেট শট রাখতেই হাল খারাপ হয়ে গেল। ২২ মিনিটে মেহতাব সিংয়ের একটা ভাসানো হেড সোজা দিল্লি কিপার নোরার হাতে যায়। সহজ সুযোগ নষ্ট করেন সাহালও। সুযোগ নষ্ট করেন ম্যাকলারেন এবং দিমিত্রিও। ৪০ মিনিটে সিটার মিস করেন মনবীর। ফার পোস্টে বল পেয়ে সোজা কিপারের হাতে মারলেন তিনি। ৪২ মিনিটে কামিংস যেটা মিস করলেন সেটা সম্ভবত গোটা ম্যাচের সবথেকে সহজ সুযোগ। ফাঁকা গোলে বক্সের ওপর দিয়ে গ্যালারিতে মারলেন অজি ফরোয়ার্ড। 

দ্বিতীয়ার্ধেও ছবিটা একই। ৫১ মিনিটে কামিংসের কর্নার থেকে মনবীরের হেড ইনসাইড পোস্টে লেগে ফিরে এল। ৬২ মিনিটে উল্টে এগিয়ে যায় স্পোর্টিং দিল্লি। হেডে গোল করে এগিয়ে দেন ক্লারেন্স। আশুতোষ মেহতার থ্রোয়ে সেন্টার থেকে হেডে গোল করেন তিনি। মোহনবাগান সমতা ফেরাল ৮৯ মিনিটে। লিস্টনের কর্ণার থেকে মনবীর হেডে বল জালে জড়ালেন। ম্যাকলারেন গোল করলেন অতিরিক্ত সময়ের একদম শেষে ৯৮ মিনিটে। লিস্টনের মাইনাস থেকে বল গোলে ঢোকাতে ভুল করেননি তিনি। তবে এদিন ম্যাচ জিতেও বিশেষ লাভ হল না। গোল পার্থক্যে লাল হলুদের থেকে পিছিয়ে থাকায় এবারের আইএসএলে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করল মোহনবাগান।