আজকাল ওয়েবডেস্ক: আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির কলকাতা সফরে চরম বিশৃঙ্খলার সাক্ষী থেকেছিল সারা ভারত। নাক কাটা গিয়েছিল কলকাতার। গ্রেপ্তার হন আয়োজক শতদ্রু দত্ত। ক্রীড়া দপ্তরের দায়িত্বা কেড়ে নেওয়া হয় প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের হাত থেকে। যাঁরা বিপুল টাকা খরচ করে টিকিট কেটেছিলেন এক ঝলক মেসিকে দেখার জন্য তাঁদের টাকা ফেরতের আশ্বাস দেওয়া হলেও, বাস্তবায়িত হয়নি। রাজ্যে সরকারের পটপরিবর্তন হয়েছে। ক্রীড়া দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন নিশীথ প্রামাণিক। ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিশীথের মুখে মেসি-কাণ্ড। তিনি বললেন, “ঘটনার ফাইল চেয়েছি। তদন্ত হবে। প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলব।”

নিশীথ এদিন বলেন, “মেসি কাণ্ড প্রত্যেকের জন্য দু:খজনক। আমি ফাই চেয়েছি। প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলব।” তৃণমূল সরকারের তরফ থেকে টাকা ফেরতের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। যা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। এই প্রসঙ্গে ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, “এর আগের সরকার প্রতি ক্ষেত্রে অন্তর্ঘাত করেছে। ক্রীড়া থেকে আইনশৃঙ্খলার যা ক্ষতি করেছে তা অপূরণীয়। যারা টিকিট দিয়েছিল তাঁদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে। যাঁরা খেলা দেখতে এসেছিলেন তাঁদের অনেক টাকা ক্ষতি হয়েছে। প্রয়োজনে কলকাতায় এমন একটি ম্যাচ করাব যাতে ওই ক্ষতি পূরণ হয়ে যায়।”

গত বছর ১৩ ডিসেম্বর ‘জি.ও.এ.টি ট্যুর অফ ইন্ডিয়া ২০২৫’-এ কলকাতায় আসেন মেসি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অপেক্ষা করার পরেও মানুষের ভিড় মেসিকে ঘিরে থাকায় ভক্তরা আর্জেন্টিনার ফুটবল তারকাকে এক ঝলকও দেখতে পারেননি। যার ফলে স্টেডিয়ামে বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। যে অনুষ্ঠানটি দুই ঘণ্টাব্যাপী হওয়ার কথা ছিল এবং যেখানে মেসির অভিনেতা শাহরুখ খান, সৌরভ গাঙ্গুলি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল। কিন্তু অনুষ্ঠানটি আধ ঘণ্টারও কম সময়ে শেষ হয়ে যায়। যা ভক্তদের হতাশ করে। এর পরেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয় যুবভারতী।

ওই দিন সকালে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি, সুয়ারেজ ও ডি পলের সঙ্গে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে পৌঁছন। হাজার হাজার ভক্ত সেখানে উপস্থিত ছিলেন শুধু তাঁকে এক ঝলক দেখবেন বলে। তাঁর স্টেডিয়াম প্রদক্ষিণ করার কথা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি বিগড়ে যেতে শুরু করে। মাঠে পৌঁছতেই মেসিকে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ও রাজনীতিবিদরা ঘিরে ধরেন। এর ফলে গ্যালারিতে থাকা দর্শকরা তাঁকে ঠিকমতো দেখতে পাচ্ছিলেন না। এর ফলে ক্ষুব্ধ দর্শকরা কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে আওয়াজ দিতে থাকেন। মাঠের দিকে চেয়ার ও বোতল ছুঁড়ে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করতে থাকেন। এরপরেই মাঠ থেকে বেরিয়ে যান মেসি।

বিশৃঙ্খলার জন্য মেসি এবং কলকাতার তাঁর ভক্তদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠনের করা হয়। মূল উদ্যোক্তা শতদ্রুকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে জামিনে রয়েছেন তিনি। মামলাটি এখনও বিচারাধীন।