আজ তিনি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পপ তারকা। তাঁর গান, নাচ আর আলাদা কণ্ঠস্বর কোটি মানুষের মন জয় করেছে। কিন্তু ছোটবেলায় সেই কণ্ঠস্বর নিয়েই তাঁকে অপমানিত হতে হয়েছিল। তিনি আন্তর্জাতিক তারকা শাকিরা।
2
10
বিশ্ববিখ্যাত পপ তারকা শাকিরা আজ কোটি কোটি মানুষের প্রিয়। তাঁর গান, নাচ এবং অনন্য গলার স্বর তাঁকে বিশ্বজোড়া জনপ্রিয়তা দিয়েছে। কিন্তু ছোটবেলায় এই গলার স্বরের কারণেই তাঁকে অপমান সহ্য করতে হয়েছিল। সেই ঘটনা অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা হতে পারে।
3
10
শাকিরার জন্ম কলম্বিয়ার বারাঙ্কুইলা শহরে। খুব ছোটবেলা থেকেই তিনি গান গাইতে ভালবাসতেন। স্কুলে পড়ার সময় তিনি সংগীতের প্রতি ভীষণ আগ্রহী ছিলেন। তাই স্কুলের কয়ার বা গানের দলে যোগ দিয়েছিলেন। তখন তাঁর বয়স ছিল প্রায় ১০ বছর।
4
10
একদিন স্কুলের এক শিক্ষক শাকিরার গান শুনে তাঁকে ক্লাস থেকে বের করে দেন। শিক্ষিকার অভিযোগ ছিল, শাকিরার গলার স্বর খুব আলাদা এবং তাঁর গাওয়ার ধরন নাকি 'ছাগলের ডাকের মতো' শোনায়। বিশেষ করে তাঁর দ্রুত ভাইব্রেটো বা গলার কাঁপন শিক্ষকের পছন্দ হয়নি।
5
10
ছোট্ট বয়সে এমন কথা শুনে শাকিরা খুব কষ্ট পেয়েছিলেন। অনেকেই এমন অপমানের পর নিজের স্বপ্ন ছেড়ে দেয়। কিন্তু শাকিরা তা করেননি। তিনি নিজের গানের ধরন বদলানোর পরিবর্তে নিজের কণ্ঠস্বরকে আরও ভালোভাবে গ্রহণ করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, তাঁর গলার এই আলাদা বৈশিষ্ট্যই একদিন তাঁকে সবার থেকে আলাদা পরিচিতি দেবে।
6
10
ধীরে ধীরে তিনি গান শেখা চালিয়ে যান এবং নিজের স্টাইল তৈরি করেন। পরে তাঁর সেই আলাদা কণ্ঠস্বরই তাঁকে বিশ্বজোড়া খ্যাতি এনে দেয়।
7
10
শাকিরার গান 'হিপস ডোন্ট লাই', 'ওয়াকা ওয়াকা', হোয়েনেভার,হোয়ারেভার' সারা বিশ্বে জনপ্রিয় হয়। বিশেষ করে ফুটবল বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ২০১০ 'ওয়াকা ওয়াকা' তাঁকে আরও বেশি পরিচিত করে তোলে।
8
10
আজ শাকিরার গানের ভক্ত পৃথিবীর নানা দেশে ছড়িয়ে রয়েছে। তাঁর গলার স্বরই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়। যে গলার জন্য একসময় তাঁকে অপমান করা হয়েছিল, সেই গলার কারণেই তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন।
9
10
শাকিরার জীবনের এই ঘটনা একটি বড় শিক্ষা দেয়। ওই ঘটনা যেন প্রমা করে, আসলে সকলে সবসময় প্রতিভা বুঝতে পারবে না। কেউ সমালোচনা করতেই পারে। কিন্তু নিজের উপর বিশ্বাস থাকলে এবং পরিশ্রম চালিয়ে গেলে সাফল্য একদিন আসবেই।
10
10
তাই অনেকেই বলেন, শাকিরার গল্প শুধু একজন গায়িকার সাফল্যের কাহিনি নয়, বরং এটি আত্মবিশ্বাস ও নিজের স্বপ্নে বিশ্বাস রাখার এক বড় উদাহরণ।