আজকাল ওয়েবডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে নিরাপত্তা নিয়ে ওঠা উদ্বেগের মধ্যেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য কলকাতাকে নিরাপদ ভেন্যু হিসেবে সমর্থন জানালেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ও পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়া দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারি।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে চলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তিওয়ারি বলেন, বিসিসিআই যদি ভেন্যু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত না নেয়।
তবে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তার কোনও কারণ নেই। তাঁর যুক্তি এর আগে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরাপদে কলকাতায় থেকে গিয়েছেন।
বিশ্বকাপ চলাকালীন একটা ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা নিয়ে কোনওভাবেই প্রশ্ন ওঠার কথা নয়। ২০০৮ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ভারতের হয়ে ১২টি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলা মনোজ তিওয়ারি আরও বলেন, 'আন্তর্জাতিক স্তরের বড় ইভেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে কলকাতার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। এখানে কখনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ খেলাধুলাকে প্রভাবিত করেনি।'
তাঁর মতে, নিরাপত্তার অজুহাতে বাংলাদেশকে কলকাতায় ম্যাচ খেলতে না দেওয়ার কোনও যুক্তি নেই। স্পোর্টস টুডে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিওয়ারি বলেন, কলকাতা অত্যন্ত নিরাপদ ভেন্যু বাংলাদেশের ম্যাচের জন্য। বিসিসিআই যদি ভেন্যু পরিবর্তন না করে, তাহলে এখানে এসে খেলতে তাদের কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। যদি নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে মনে করিয়ে দিতে চাই বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কলকাতায় এসে সম্পূর্ণ নিরাপদে ছিলেন। তিনি যদি নিরাপদে থাকতে পারেন, তাহলে একটা ক্রিকেট দলের ক্ষেত্রেও আলাদা করে ভাবার কোনও কারণ নেই।’
তিনি আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে রাজ্যে খেলাধুলার ক্ষেত্রে রাজনীতি কোনওভাবেই হস্তক্ষেপ করবে না।
তিওয়ারির কথায়, ‘কলকাতা এমন একটা শহর যেখানে অন্তত খেলাধুলা সবসময় রাজনীতির বাইরে থেকেছে। বিসিসিআই যদি এখানে ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে কোনও রকম অশান্তির সম্ভাবনা নেই। মুখ্যমন্ত্রী খুব পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, পুলিশ যদি নিরাপত্তা দিতে অপারগ না হয়, সরকার খেলাধুলার আয়োজনে কোনও হস্তক্ষেপ করবে না।’
প্রসঙ্গত, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ চারটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলবে। এর মধ্যে তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে। ৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে কলকাতায় অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ।
এরপর ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালির বিরুদ্ধে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে একই ভেন্যুতে খেলবে তারা। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নেপালের বিরুদ্ধে।
