'রেসপেক্ট' বা সম্মান এই শব্দটির অভ্যন্তরীণ যে গভীর অর্থ তাই নিয়ে মতভেদ আছে৷ কখনও কখনও সম্মান শব্দটা কারও প্রতি পছন্দ বা ভাললাগা বা অনুপ্রেরণা অর্থে বোঝায়৷
2
13
অন্যদিকে বয়স এবং সম্পর্কের খাতিরে বড় হওয়ায় কারও কারও প্রতি সম্মান দেখাতে হয় যেমন আত্মীয়-পরিজন। আবার কখনও কোন মানুষের কাজ বা জ্ঞানের প্রতিও সম্মান দেখানো হয় যেমন শিক্ষক, ডাক্তার - এই ধরনের মানুষের প্রতি সম্মান আসলে তাঁর কাজকে স্বীকৃতি দেওয়া৷
3
13
মোটামুটি ভাবে বলা যায়, সম্মান তাঁদেরকেই দেওয়া উচিত যাঁদের একটা বিশেষ জ্ঞান বা ক্ষমতা রয়েছে৷ কিন্তু সম্মানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয় সেটি হল, প্রত্যেকটি মানুষ যেন তাঁর ভাবনাচিন্তা এবং পছন্দ অপছন্দ স্বচ্ছন্দে বেছে নিতে পারে৷
4
13
প্রতিদিনকার জীবনে যেন অন্য মানুষটি নিরাপদ বোধ করে, তাঁর যেন সম্পর্কের কারণে দমবন্ধ না লাগে এবং সে যেন অসম্মানিত বোধ না করে- এই কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা যে কোনও সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রথম এবং প্রধান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
5
13
প্রেমের সম্পর্কে থাকা দু'জন মানুষই সমান৷ প্রত্যেকের স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার রয়েছে৷ একজন অন্যজনের প্রতি কর্তৃত্ব করা একেবারেই উচিত না।
6
13
মতবিরোধ হতেই পারে৷ কিন্তু মতভেদ হলে অন্যজনের মতামত শুনতে হবে, বিশ্বাস করতে হবে এবং তারপর নিজের বিচারবুদ্ধি দিয়ে ভাবার প্রয়োজন থাকলে ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে৷
7
13
একে অপরের কথা মন দিয়ে শোনা এবং বোঝাই সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি৷ এই ভরসার ভিতের উপরই সম্পর্কের সিঁড়ি দাঁড়িয়ে। কীভাবে সম্মান করবেন সঙ্গীকে? সম্মান করা মানে অন্যকে নিজের কথামতো চলতে বাধ্য করা নয়৷
8
13
সম্মান আসলে অন্যের মতামত এবং পছন্দ অপছন্দকে সেই স্বাধীনতা দেওয়া যে স্বাধীনতা পেলে অন্য মানুষটি সম্পর্কে থেকে খুশি থাকবে, নিরাপদ মনে করবে এবং সঙ্গীকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে ভাবতে পারবে৷
9
13
মন খুলে কথা বলা প্রয়োজন। একে অন্যের কথা শোনা প্রয়োজন৷ একজন অন্যজনের ভাবনা এবং প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেবে৷
10
13
প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব পরিধি থাকে৷ সম্পর্কে সেই জায়গাটা দেওয়া প্রয়োজন। একে অন্যের পেশা, পছন্দ এবং ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেবে এবং প্রত্যেক সম্পর্কের যে সীমারেখা থাকে সেই সীমারেখা কখনওই অতিক্রম করা উচিত নয়৷
11
13
সম্পর্কে যেমন সঙ্গীর সম্মান রক্ষা করা কতর্ব্য, তেমনই আত্মসম্মান বজায় রাখাও একান্ত প্রয়োজন। আপনি সম্পর্কে থাকুন বা একাকী জীবন কাটান, আত্মসম্মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আত্মসম্মান থাকলে তবেই আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে এবং জীবনের বাকি সম্পর্ক সুন্দর হয়৷
12
13
কোনও মানুষ পরিপূর্ণ সঠিক হয় না৷ কিন্তু পরিপূর্ণ সঠিক না হলেও প্রত্যেক মানুষের আত্মসম্মানবোধ থাকা জরুরি৷ অন্যেরা কী বলল এই ভেবে নিজের মানসিক শান্তি নষ্ট না করে নিজের সম্পর্কে সঠিক ভাবে জানা এবং নিজের সম্পর্কে ভিতর থেকে খুশি থাকাই আত্মবিশ্বাস।
13
13
সময় মতো খাবার খাওয়া হোক, বই পড়া, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া বা নিজের মনের যত্ন নেওয়া এই সবই আত্মসম্মানের সঙ্গে সম্পর্কিত৷ নিজের ভিতর থেকে নিজেকে নিয়ে অসন্তোষ থাকলে আত্মসম্মানে ঘাটতি হয়৷ এই ঘাটতি থেকেই বাকি সমস্ত সম্পর্কে সমস্যা আসে৷ তাই প্রেমের সম্পর্ক হোক বা পরিবার কিংবা নিছক বন্ধুত্ব, আত্মসম্মান বজায় রাখা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং এটাই ভাল থাকা আর ভাল রাখার চাবিকাঠি৷