পৃথিবীতে ব্লু বেরির মতো অনেক ফলকে আমরা নীল বলে মনে করি। কিন্তু বাস্তবে সত্যিকারের নীল ফল খুবই বিরল। বিজ্ঞানীদের মতে, এমন একটি গাছ রয়েছে যার ফলে সত্যিই উজ্জ্বল নীল রং দেখা যায়। সেই গাছটির নাম ব্লু কোয়ান্ডং। এর বৈজ্ঞানিক নাম এলিওকার্পাস অ্যাঙ্গাস্টিফোলিয়াস।
2
10
কোথায় পাওয়া যায় এই গাছ? সাধারণত অস্ট্রেলিয়া, পাপুয়া নিউ গিনি এবং ইন্দোনেশিয়া-র গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জঙ্গলে গাছটি জন্মায়। এটি বেশ উঁচু গাছ এবং জঙ্গলের ভেতরে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠে। গাছটিতে ছোট গোল ফল ধরে, যার আকার সাধারণত ১–২ সেন্টিমিটার।
3
10
ফলের রং এত আলাদা কেন? এই ফলের সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হল এর উজ্জ্বল নীল রং। দেখতে অনেকটা নীল কাচের মার্বেলের মতো লাগে। জঙ্গলের সবুজ পাতার মধ্যে এই ফল খুব সহজেই চোখে পড়ে।
4
10
মজার বিষয় হল, এই ফলে আসলে কোনও নীল রংয়ের রঞ্জক পদার্থ নেই। সাধারণত ফলের রং তৈরি হয় বিভিন্ন পিগমেন্টের কারণে। কিন্তু ব্লু কোয়ান্ডং ফলের ক্ষেত্রে তা হয় না।
5
10
বিজ্ঞানীরা যখন এই ফল চেপে রং বের করার চেষ্টা করেন, তখন কোনও নীল রং পাওয়া যায় না। বরং ফলের ভেতরের অংশ ধূসর বা ফ্যাকাশে দেখায়।
6
10
তাহলে নীল রং আসে কোথা থেকে? বিজ্ঞানীদের গবেষণায় জানা গিয়েছে, ফলটির খোসার ভেতরে খুব সূক্ষ্ম স্তরের কোষ রয়েছে। এই স্তরগুলো এমনভাবে সাজানো থাকে যে সূর্যের আলো ফলের গায়ে পড়লে বিশেষভাবে নীল আলো প্রতিফলিত হয়।
7
10
এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় স্ট্রাকচারাল কালারেশন। অর্থাৎ রং তৈরি হয় রাসায়নিক রঞ্জক থেকে নয়, বরং গঠন ও আলোর প্রতিফলনের কারণে। প্রকৃতিতে একই ধরনের ঘটনা ময়ূরের পালক বা কিছু প্রজাপতির ডানায়ও দেখা যায়।
8
10
বিজ্ঞানীদের মতে, এই উজ্জ্বল নীল রং পাখিদের আকৃষ্ট করার জন্যই তৈরি হয়েছে। জঙ্গলের মধ্যে এই ফল সহজে চোখে পড়ে। পাখিরা ফল খেয়ে বীজ দূরে দূরে ছড়িয়ে দেয়। এর ফলে নতুন জায়গায় আবার গাছ জন্মাতে পারে।
9
10
কেন এটি এত বিশেষ? প্রকৃতিতে সত্যিকারের নীল ফল প্রায় নেই বললেই চলে। বেশিরভাগ 'নীল' ফল আসলে গাঢ় বেগুনি বা বেগুনি-নীল রঙের। তাই ব্লু কুয়ান্ডংকে পৃথিবীর একমাত্র সত্যিকারের নীল ফলধারী গাছ বলা হয়।
10
10
ছোট্ট এই ফলটি প্রকৃতির এক অদ্ভুত বিস্ময়। কারণ এখানে রং তৈরি হয়েছে রসায়নের কারণে নয়, বরং আলো ও গঠনের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের জন্য।