ইজরায়েল বনাম ইরান: কার পাল্লা কতদূর? কে এগিয়ে অস্ত্রশক্তিতে?
৭ মার্চ ২০২৬ ১৪ : ৪৮
- 1
- 11
পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে ইজরায়েল ও ইরানের সরাসরি সামরিক সংঘাত ঘিরে। তেহরানে সাম্প্রতিক বিমান হামলার পর বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে একাধিক শহর, আর তার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে বাড়ছে আশঙ্কা—এই সংঘাত কি বড় আকারের যুদ্ধে পরিণত হতে পারে? এই পরিস্থিতিতে একটি প্রশ্ন বারবার সামনে আসছে: সামরিক শক্তির বিচারে কে এগিয়ে—ইজ়রায়েল না ইরান?
- 2
- 11
দুই দেশই শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা রাখলেও তাদের শক্তির প্রকৃতি একেবারেই আলাদা। কোথাও জনশক্তি ও ব্যাপক অস্ত্রভাণ্ডার, আবার কোথাও উন্নত প্রযুক্তি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ক্ষমতা—এই দুই ভিন্ন কৌশলের মুখোমুখি সংঘর্ষই আজ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিকে অস্থির করে তুলেছে। ইরানের অন্যতম বড় শক্তি হল তার বিশাল সেনাবাহিনী। আনুমানিক ৬ লক্ষ ১০ হাজার সক্রিয় সেনা রয়েছে তাদের। এর সঙ্গে রয়েছে প্রায় ৩ লক্ষ ৫০ হাজার রিজার্ভ বাহিনী এবং অতিরিক্ত আধাসামরিক বাহিনী। ফলে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ বা আঞ্চলিক প্রতিরক্ষায় ইরানের জনশক্তি বড় সুবিধা এনে দেয়।
- 3
- 11
অন্যদিকে ইজ়রায়েলের স্থায়ী সেনাবাহিনী তুলনামূলকভাবে ছোট—প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার সক্রিয় সেনা। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দ্রুত সেনা মোতায়েনের ক্ষমতা তাদের বড় শক্তি। প্রয়োজনে কয়েক লক্ষ রিজার্ভ সেনাকে দ্রুত ডেকে নেওয়া যায়, ফলে যুদ্ধের সময় বাহিনীর সংখ্যা দ্রুত প্রায় পাঁচ লক্ষে পৌঁছে যেতে পারে।
- 4
- 11
বিমান শক্তির ক্ষেত্রে ইজ়রায়েলকে অনেকেই প্রযুক্তিগত দিক থেকে এগিয়ে বলে মনে করেন। তাদের কাছে রয়েছে ৬০০-রও বেশি বিমান, যার মধ্যে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার এবং গোয়েন্দা নজরদারি প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। নির্ভুল হামলা, রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ—এই তিন ক্ষেত্রেই তারা অত্যন্ত দক্ষ। ফলে জটিল সামরিক অভিযানও তারা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিচালনা করতে পারে।
- 5
- 11
ইরানের বিমানবাহিনীতে তুলনামূলকভাবে কিছু পুরোনো মডেলের বিমান রয়েছে। তবে সেই ঘাটতি পূরণ করতে তারা বিপুল বিনিয়োগ করেছে ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং বহুস্তরীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়। দূর থেকে আঘাত হানা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করার জন্য এই কৌশল তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে। স্থলসেনার ক্ষেত্রেও দুই দেশের কৌশল আলাদা। ইরানের কাছে রয়েছে প্রায় ১৭০০ থেকে ২০০০ ট্যাঙ্ক, হাজার হাজার সাঁজোয়া যান এবং বিপুল রকেট লঞ্চার। বড় মাপের স্থলযুদ্ধ এবং দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযানের জন্য এই বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছে।
- 6
- 11
ইজ়রায়েলের স্থলবাহিনীতে ট্যাঙ্ক ও যানবাহনের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হলেও তারা অত্যাধুনিক লক্ষ্যভেদ প্রযুক্তি, দ্রুত গতিশীলতা এবং আধুনিক আর্টিলারি ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে। দ্রুত আক্রমণ, নির্ভুল লক্ষ্যভেদ এবং যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত অবস্থান বদল—এই কৌশল তাদের সামরিক নীতির মূল ভিত্তি।
- 7
- 11
নৌবাহিনীর ক্ষেত্রেও দুই দেশের কৌশল ভিন্ন। ইরানের নৌ কৌশল মূলত পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ঘিরে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হওয়ায় এই জলপথ অত্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুতগতির আক্রমণ নৌকা, ক্ষেপণাস্ত্রবাহী জাহাজ এবং উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান এই অঞ্চলকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে।
- 8
- 11
ইজ়রায়েলের নৌবাহিনী তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও তাদের সাবমেরিন এবং ক্ষেপণাস্ত্রবাহী জাহাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে সাবমেরিন বাহিনী কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। সামরিক বাজেটের ক্ষেত্রেও বড় পার্থক্য রয়েছে। ইজ়রায়েলের প্রতিরক্ষা বাজেট ইরানের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে তারা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, সাইবার যুদ্ধ ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় বিনিয়োগ করতে পারে। তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল আয়রন ডোম এবং ডেভিড সিলিং, যা শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়।
- 9
- 11
অন্যদিকে ইরানের বাজেট তুলনামূলকভাবে কম এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ রয়েছে। ফলে তারা তুলনামূলক কম খরচে তৈরি করা যায় এমন প্রযুক্তি—যেমন ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র—এর ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে দেখা যায়, সামরিক শক্তির বিচারে দুই দেশ প্রায় কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। ২০২৬ সালের Global Firepower Index অনুযায়ী ইজ়রায়েল বিশ্বের প্রায় ১৫তম শক্তিশালী সামরিক বাহিনী, আর ইরান ১৬তম স্থানে। প্রযুক্তিগত সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক মিত্রতার কারণে ইজ়রায়েল সামান্য এগিয়ে বলে মনে করা হয়।
- 10
- 11
এই সংঘাতে ইজ়রায়েলের বড় কৌশলগত সুবিধা হল তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আমেরিকার সঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা, উন্নত অস্ত্র এবং গোয়েন্দা সহযোগিতা ইজ়রায়েলের শক্তিকে আরও বাড়িয়ে দেয়। বর্তমান সংকটের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা ও সামরিক সম্পদ পাঠিয়েছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
- 11
- 11
