আজকাল ওয়েবডেস্ক: অতিরিক্ত কমপ্লিমেন্টারি টিকিটের চাহিদার কারণেই আইপিএল ফাইনাল ও প্লে-অফ ম্যাচ বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরল বিসিসিআই সূত্র।

জানা গিয়েছে, কর্ণাটক স্টেট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অতিরিক্ত ১০,০৫৭টি বিনামূল্যের টিকিট চেয়েছিল। যার জেরেই শেষ পর্যন্ত ভেন্যু বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রথা অনুযায়ী, ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ঘরের মাঠ হওয়ায় এবার আইপিএল ফাইনাল আয়োজনের কথা ছিল চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে।

তবে আইপিএল চেয়ারম্যান অরুণ ধুমাল জানিয়েছেন, স্টেডিয়ামের আসন সংখ্যা কম হওয়ায় পরিস্থিতি ‘অসহনীয়’ হয়ে উঠেছিল। মাত্র ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামে বিপুল পরিমাণ কমপ্লিমেন্টারি টিকিট বরাদ্দের ফলে সাধারণ সমর্থকদের জন্য খুব কম টিকিটই অবশিষ্ট থাকত বলে দাবি বিসিসিআইয়ের।

উল্লেখ্য, এবারের আইপিএল প্লে-অফের ম্যাচগুলি হবে ধর্মশালা ও নিউ চণ্ডীগড়ে। ২৬ মে ধর্মশালায় প্রথম প্লে-অফ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ২৭ ও ২৯ মে নিউ চণ্ডীগড়ে হবে বাকি দুই প্লে-অফ ম্যাচ।

ফাইনাল ম্যাচ আয়োজন করা হবে ৩১ মে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে। বিসিসিআই সূত্রের দাবি, স্টেডিয়ামের মোট আসনসংখ্যার ১৫ শতাংশ কমপ্লিমেন্টারি টিকিট পাওয়ার অধিকার রয়েছে কেএসসিএ-র।

কিন্তু তার বাইরে আরও ১০,০৫৭টি টিকিট চাওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে রাজ্যের বিধায়ক ও বিধান পরিষদের সদস্যদের জন্যই প্রায় ৯০০টি পাস প্রয়োজন ছিল। সূত্রের বক্তব্য, ‘প্রতিটি এমএলএ ও এমএলসিকে তিনটি করে কমপ্লিমেন্টারি পাস দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল কেএসসিএ।’

এছাড়াও, বিশেষজ্ঞ কমিটি এবং কর্ণাটক সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতির জন্য আরও ৭৫০টি কমপ্লিমেন্টারি টিকিট প্রয়োজন ছিল। ফলে সাধারণ দর্শকদের জন্য পড়ে থাকত মাত্র প্রায় ২০ হাজার টিকিট।

শুধু তাই নয়, কেএসসিএ কম দামে নির্দিষ্ট সংখ্যক পেইড টিকিটও চেয়েছিল। সূত্রের খবর, রাজ্যের ক্লাবগুলির জন্য দু’হাজার টাকার ৩,০০৭টি টিকিট দাবি করা হয়েছিল বোর্ডের তরফে।

পাশাপাশি, সদস্যদের স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য মেম্বার্স স্ট্যান্ডে ৯০০টি টিকিটও চাওয়া হয়েছিল। এছাড়াও, দু’হাজার টাকা দরে আরও ১০০০টি টিকিট কেনার আগ্রহ দেখায় কেএসসিএ।

লাইফ মেম্বারদের জন্য বিভিন্ন স্ট্যান্ড মিলিয়ে আরও ৩,৫০০টি টিকিটের প্রয়োজন ছিল বলে জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিকেই সামনে রেখে অরুণ ধুমল বলেছিলেন, ‘চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা খুব বেশি নয়। লিগ ম্যাচগুলিতেও খুব কম টিকিট সাধারণ দর্শকদের জন্য পাওয়া গিয়েছিল। আইপিএল ফাইনালে সারা বিশ্বের মানুষের আগ্রহ থাকে। তাই সমর্থকদের জন্য বেশি সংখ্যক টিকিট উপলব্ধ রাখা প্রয়োজন।’