আজকাল ওয়েবডেস্ক: আইপিএলে শুরুটা দুর্দান্ত করেছেন বৈভব সূর্যবংশী। রাজস্থান রয়্যালসের এই কিশোর চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে গুয়াহাটিতে প্রথম ম্যাচেই ঝড় তুলেছেন। ১৫ বছর বয়সী এই বিস্ময়বালক মাত্র ১৫ বলে অর্ধশতরান করেন। আইপিএলের ইতিহাসে যা তৃতীয় দ্রুততম। 

বৈভবের এই দ্রুত ইনিংসের ফলে রাজস্থান রয়্যালস মাত্র ১২.১ ওভারে ১২৮ রানের লক্ষ্য সহজেই তাড়া করে ফেলে। ম্যাচের পর একটি মজার মুহূর্তও দেখা যায়। রাজস্থানের তারকা ধ্রুব জুড়েল কিশোর বৈভবকে বলেন, ''ভাল খেলেছো, বাচ্চা। আবারও দারুণ খেলেছো।'' 

জবাবে সূর্যবংশী বলেন, ''আজ ম্যাচে নামার আগে রাজভোগ মিষ্টি খেয়েছিলাম।'' বৈভবের এই দুর্দান্ত শুরু ইতিমধ্যেই সবার নজর কেড়েছে। প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার সঞ্জয় বাঙ্গার মনে করছেন, এই কিশোর প্রতিভার সামনে রয়েছে দুর্দান্ত এক মরশুম।

শূন্য রানে জীবন ফিরে পাওয়ার পরে সূর্যবংশী মাত্র ১৫ বলে ৫০ রানে পৌঁছে যান। বৈভবের ইনিংসে সাজানো ছিল চারটি চার ও পাঁচটি ছক্কা। 

পাওয়ারপ্লেতেই রাজস্থান ৭৪ রান তুলে ফেলে। যদিও বৈভব ৫২ রানে আউট হন। ততক্ষণে ম্যাচের রাশ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছিল রাজস্থান। এদিকে সূর্যবংশী প্রসঙ্গে ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার সঞ্জয় বাঙ্গার বলেন, ''বৈভব সূর্যবংশী একেবারে অন্য ধরনের ক্রিকেটার। শক্তিশালী বোলিং আক্রমণকে দাপটের সঙ্গে মোকাবিলা করেছে। আন্তর্জাতিক মানের নতুন বলের বোলার ম্যাট হেনরিকে চাপে ফেলে দিয়েছিল। দু'দিকেই সুইং করাতে পারে খলিল আহমেদ। তাকেও সহজে খেলেছে বৈভব। অংশুল কম্বোজকেও ছেড়ে কথা বলেনি। এমনকী রহস্যময় স্পিনার নূর আহমদের বিরুদ্ধেও আধিপত্য দেখিয়েছে।'' 

এদিকে বৈভবকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি কি ডিফেন্স করার কথাও ভাবেন, নাকি শুধু আক্রমণই করতে চান? জবাবে বৈভব বলেন, ''আমি ডিফেন্স করার কথাও ভাবি, কিন্তু আজ পরিকল্পনা ছিল পাওয়ারপ্লেতেই ম্যাচের সিদ্ধান্ত নিয়ে নেওয়া। কারণ আমরা ওদের কম রানে আটকে রেখেছিলাম।'' 

রাজস্থান কোচদের সমর্থনে বৈভব বলেন, কোচদের কাছ থেকে তিনি পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছেন। কিশোর প্রতিভা জানান, ''কোচরা আমার পাশে রয়েছেন এবং পূর্ণ সমর্থন করছেন। প্রস্তুতিও ভাল হয়েছে। আমরা এখানে আগেই এসে গিয়েছিলাম। কোচরা তারা আমাকে বলেছিলেন ম্যাচ রিড করতে এবং নিজের খেলায় মন দিতে।'' 

বৈভব আরও জানান, তাঁর ওপেনিং পার্টনার যশস্বী জয়সওয়াল  বারবার তাঁকে সিঙ্গল নেওয়ার জন্য বলছিলেন না, বরং বলছিলেন, যদি বল ব্যাটে ঠিকঠাক  আসে, তাহলে 'মারো'। বৈভব বলছেন, ''প্রতিটি বলের পর জয়সওয়াল আমাকে সিঙ্গল নিতে বলেনি। বরং বলছিল,যদি বল ব্যাটে ঠিকঠাক আসে, তাহলে মারো।''

২৭ মার্চ ছিল বৈভবের জন্মদিন। জন্মদিন উদযাপন প্রসঙ্গে বৈভব বলেন, ''সবাই মুখে কেক মাখিয়ে দেয়।  তাই সেদিন আমি তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।''