আজকাল ওয়েবডেস্ক: আইসিসি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে বহুচর্চিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনার ‘চূড়ান্ত পর্ব’ শুরু হল একপ্রকার লজিস্টিকস বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে।

জানা গিয়েছে, ভিসা জটিলতার কারণে দুই সদস্যের মধ্যে একজন ভিসা পাননি। ফলে, দুই সদস্যের প্রতিনিধি দল ভেঙে এক সদস্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে গিয়েছে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের অ্যান্টি-করাপশন ও সিকিউরিটির প্রধান অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ শনিবার একাই ঢাকায় পৌঁছেছেন। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ঘিরে তৈরি অচলাবস্থা মেটাতেই তাঁর এই সফর বলে জানা গিয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী আইসিসির প্রতিনিধি দলের আর এক শীর্ষকর্তা ভারতীয় নাগরিক হওয়ায় তিনি বাংলাদেশের ভিসা পাননি। ভারতীয় নাগরিকত্ব থাকায় এবং সময়মতো ভিসা না পাওয়ায় বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেননি ওই আইসিসি কর্তা।

ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই আলোচনার সমস্ত দায়ভার এখন একাই এফগ্রেভের কাঁধে। আইসিসির এই সফরকে ‘শেষ চেষ্টা’ হিসেবেই দেখছে ক্রীড়ামহল। কারণ, কূটনৈতিক ও ক্রীড়াক্ষেত্রের এই টানাপড়েন ইতিমধ্যেই ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে চলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উপর ছায়া ফেলেছে ইতিমধ্যেই।

যাবতীয় বিতর্কের মূল কেন্দ্রে রয়েছে নিরাপত্তা ইস্যু। বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যৌথভাবে আইসিসির কাছে আবেদন জানিয়েছে, ভারতে অনুষ্ঠিত হতে চলা বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলি শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হোক।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই এই দাবি তুলেছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, সহকর্মীর অনুপস্থিতিতে প্রাক্তন ব্রিটিশ পুলিশ আধিকারিক অ্যান্ড্রু এফগ্রেভের ওপরেই এখন ভরসা আইসিসির।

আন্তর্জাতিক ক্রীড়া নিরাপত্তা সংক্রান্ত দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এফগ্রেভ বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে আশ্বস্ত করতে একটি বিস্তৃত নিরাপত্তা পরিকল্পনা পেশ করবেন বলে জানা গিয়েছে।

সেই পরিকল্পনার মাধ্যমে ভারতে বিশ্বকাপ চলাকালীন বাংলাদেশ দলের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, এমন বার্তাই দিতে চাইছে আইসিসি, জানিয়েছে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ২৪।

পাশাপাশি, একজন ভারতীয় নাগরিক আইসিসি কর্তার সময়মতো ভিসা না পাওয়া বর্তমান ভারত-বাংলাদেশ রাজনৈতিক সম্পর্কের জটিলতাকেই তুলে ধরছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

যদিও ভিসা ইস্যুতে আইসিসি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে আর তিন সপ্তাহেরও কম সময় বাকি।

ফলে দ্রুত সমাধান সূত্র খুঁজে বের করাই এখন আইসিসি ও বাংলাদেশের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আলোচনা ব্যর্থ হলে, বিশ্বকাপের বল মাঠে গড়ানোর আগেই টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।