আজকাল ওয়েবডেস্ক: দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ২০৮ রান তাড়া করতে লেগেছিল ১৫ ওভার। এদিন ১৫৩ তাড়া করতে লাগল ১০ ওভার। মনে হল যেন নিউজিল্যান্ড একটা অন্য পিচে খেলছে আর ভারত একটা অন্য পিচে।
টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে আট উইকেটে হারিয়ে সিরিজ পকেটে পুরল টিম ইন্ডিয়া। এই নিয়ে টানা নবম টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় নিশ্চিত করল ভারত।
তবে চলতি সিরিজে তিনটি ম্যাচ যেভাবে ভারত জিতেছে, তা ছিল একেবারেই চোখ ধাঁধানো। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফর্ম নিয়ে বিশ্বকাপে নামলে চিন্তায় থাকতে হবে প্রতিপক্ষদের।
একদিকে যেমন অভিষেক ধ্বংসলীলা চালালেন, ফর্ম জারি রাখলেন সূর্যকুমার যাদবও। ঈশান কিষাণও ঝলক দেখিয়ে গেলেন ব্যাট হাতে। এদিন ফের টসে যেতেন সূর্যকুমার যাদব এবং প্রথমে বল সিদ্ধান্ত নেন।
তবে গত ম্যাচের মতো কিউই ব্যাটাররা কেউই সেরকম হাত খুলে মারতে পারেননি। যশপ্রীত বুমরা চার ওভারে দিয়ে গেলেন ১৭ রান। ওয়াশিংটন সুন্দরের জায়গায় দলে আসা রবি বিষ্ণোই চার ওভারে ১৮ রান দিয়ে দুটি উইকেট নিলেন।
এদিন ইনিংসের শুরুতে ডেভন কনওয়েকে(১) টানা পাঁচবার ফেরালেন হর্ষিত রানা। অবশ্য, উইকেটের পিছনে হার্দিক পাণ্ডেয়ারও অবদান অনেকটাই। দৌড়ে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে তিনি যে ক্যাচটা নিলেন সেটা হার্দিক বলেই সম্ভব।
অন্য ওপেনার টিম সেইফার্টের(১২) অফ স্টাম্প গোড়া থেকে উপড়ে ফেলে দেন বুমরা। শুরুতে বল করতে নেমে রবীন্দ্রর(৪) উইকেট পেলেন হার্দিকও। কিউইদের টপ অর্ডারের মধ্যে রান পেয়েছেন একমাত্র গ্লেন ফিলিপস(৪৮)।
তবে ঝোড়ো ইনিংস দেখা যায়নি তাঁর ব্যাট থেকে। ৪০ বলে ৪৮ রান করেছেন। মার্ক চ্যাপম্যান ২৩ বলে ৩২ করে গেলেন। শেষের দিকে মিচেল স্যান্টনারের ১৭ বলে ২৭ রানের দৌলতে নিউজিল্যান্ড পৌঁছয় ১৫৩ রানে।
ভারতের শুরুটা একেবারেই ভাল হয়নি। ম্যাট হেনরির বলে বোল্ড হয়ে গোল্ডেন ডাকে ফিরে যান সঞ্জু স্যামসন। চলতি সিরিজে একেবারেই ফর্মে দেখা যায়নি তাঁকে।
গত ম্যাচে চাপের মুখেও পাল্টা আক্রমণ করেছিলেন ঈশান কিষাণ। এদিনও একই স্ট্র্যাটেজি অবলম্বন করলেন। অভিষেক শর্মাকে সঙ্গে নিয়ে কাউন্টার অ্যাটাক চালালেন। তিনি ফিরলেন ১৩ বলে ২৮ রান করে।
অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব নামার পর কার্যত ধ্বংসলীলা চালালেন দুই তারকা ব্যাটার। যুবরাজ সিংয়ের পর সবথেকে দ্রুততম অর্ধশতরান করলেন অভিষেক(১৪ বল)। নিজেই নিজের রেকর্ড ভাঙলেন তিনি।
মাত্র ২০ বল খেলে তিনি করলেন ৬৮ রান। অন্যদিকে, ফর্ম ফিরে পেয়ে এদিন ২৬ বল খেলে সূর্য করলেন ৫৭ রান। ওপেনিং করার জন্য পিচে নামার মুহূর্ত থেকেই অভিষেক নিজের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন।
কোনওরকম দ্বিধা ছাড়াই ট্র্যাক ধরে এগিয়ে গিয়ে পেস এবং স্পিন উভয়কেই চ্যালেঞ্জ করে মাঠের বাইরে ফেলেন তিনি। দুই তারকা ব্যাটারের পার্টনারশিপে নিউজিল্যান্ডের বোলাররা জেকব ডাফি, ম্যাট হেনরি, কাইল জেমিসন, ইশ সোধি এবং মিচেল স্যান্টনার, চাপের মুখে পড়েছেন সকলেই। এই দুর্দান্ত পার্টনারশিপে ৬০ বল বাকি থাকা অবস্থাতেই ১৫৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে সক্ষম হয় টিম ইন্ডিয়া।
