আজকাল ওয়েবডেস্ক: হর্ষিত রানাকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত। ভারতীয় দলের হেডস্যর গৌতম গম্ভীরের হেডস্যর রানা, এই কারণেই দেশের অলরাউন্ডার একের পর এক ম্যাচে জায়গা পান। 

কিন্তু ভারত-নিউ জিল্যান্ড তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচের পরে হর্ষিত রানার সবথেকে বড় সমালোচক হয়ে গিয়েছেন তাঁর ভক্ত। 

হর্ষিত রানা প্রমাণ করলেন তাঁর উপরে আস্থা  দেখালে তিনি কাজে আসতে পারেন। ৩৩৮ রান করলে ভারত জিতবে, এই পরিস্থিতিতে কিউয়িদের রান তাড়া করতে নেমে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল ভারত। একদিকে কেবল বিরাট কোহলি ছিলেন। ভারতের রান তখন ৬ উইকেটে ১৭৮, এই অবস্থায় ব্যাট করতে নামেন হর্ষিত রানা। তিনি ও বিরাট কোহলি প্রায় অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেলেছিলেন।  চারটি ছক্কা  ও চারটি চারে সাজানো ছিল তাঁর ইনিংস। ৪৩ বলে ৫২ রানের ইনিংস খেলেন হর্ষিত রানা। কোহলির সঙ্গে ৯৯ রানের জুটি গড়েন। রানা আউট হয়ে যাওয়ার পরে কোহলি বাহুভাঙা হয়ে পড়েন। অন্য প্রান্ত থেকে ফিরে যান মহম্মদ সিরাজ। কোহলি আউট হওয়ার পরে ভারতের হার কেবল সময়ের অপেক্ষা হয়ে দাঁড়ায়। 

হর্ষিত রানার খেলার ধরন ভাল লেগেছে শ্রীকান্তের। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে তিরাশির বিশ্বজয়ী দলের সদস্য কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত বলেন, ''বিরাট কোহলি রাজাদের রাজা। ওকে কুর্নিশ জানাতেই হবে। হোয়াট আ নক! স্কোরকার্ড যদি দেখা যায়, তাহলে দেখা যাবে নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে ভারত। ১-২৮, ২-৪৫, ৩-৬৮ এবং ৪-৭১। নীতীশ কুমার রেড্ডি ক্রিজে নেমে ইনিংস গড়ার কাজ করে। পরে ছক্কাও মারে।'' 

শ্রীকান্তের আরও সংযোজন, ''সত্যিকারের গেমচেঞ্জার হল হর্ষিত রানা। রানা যেভাবে ব্যাটিং করেছে, নিউ জিল্যান্ডের ক্রিকেটাররা কাঁপতে শুরু করেছিল। রানার ব্যাটিং আমাকে মুগ্ধ করেছে। ওরা সত্যি সত্যিই কাঁপতে শুরু করেছিল। কী করতে হবে বুঝতে পারছিল না। সহজেই ছক্কা হাঁকাচ্ছিল রানা। দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছে।''  

কোহলি ও হর্ষিত মিলে ৯৯ রান যোগ করেন। তার মধ্যে রানা নিজেই ৫২ রান করেন। সেই প্রসঙ্গ উত্থাপ্পন করে শ্রীকান্ত বলেছেন, ''ওই ৫২ রান ছিল খুব প্রয়োজনীয়। কোহলিকে আশা জাগাচ্ছিল যদিও রান রেট ছিল ১১-র উপরে। রানার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে আস্কিং রেট ১১ থেকে নেমে আসে ১০-এ। নিউ জিল্যান্ড ভয় পেয়ে গিয়েছিল। নিউ জিল্যান্ডের অধিনায়কও ভীত সন্ত্রস্ত ছিল।'' 

লম্বা-চওড়া চেহারার হর্ষিত রানা ফিরে যান ৪৪-তম ওভারে। ভারতের রান তখন ৭ উইকেটে ২৭৭। এযাত্রায় কোহলি অবশ্য ভারতকে জেতাতে পারেননি। কিন্তু কোহলি ও হর্ষিত রানার পার্টনারশিপ কিন্তু ক্রিকেটভক্তদের দীর্ঘদিন মনে থাকবে।