আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিঃশব্দে এক অধ্যায়ের শেষ। সব ধরনের ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। 

শেষবার পাকিস্তানের জার্সিতে তাঁকে দেখা গিয়েছিল ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পারথ টেস্টে।

৫৪টি টেস্ট, ১১৭টি ওয়ানডে এবং ৬১টি টি–টোয়েন্টি, এই তিন ফরম্যাট মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সরফরাজের সংগ্রহ ৬, ১৬৪ রান। 

ব্যাট হাতে ছ'টি সেঞ্চুরি ও ৩৫টি হাফ সেঞ্চুরির মালিক তিনি। উইকেটের পেছনে ৩১৫টি ক্যাচ ও ৫৬টি স্টাম্পিং। পরিসংখ্যান বলবে তার অবদান কতটা। 

সরফরাজের অধিনায়কত্বেই পাকিস্তান খেলেছে ১০০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। তার নেতৃত্বে টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক সময় বিশ্বের এক নম্বর দল হয়ে ওঠে পাকিস্তান। শুধু তাই নয়, টানা ১১টি টি–টোয়েন্টি সিরিজ জিতে গড়ে বিশ্বরেকর্ড—যা দলটির আত্মবিশ্বাসের নতুন সংজ্ঞা লিখেছিল।

তবে তাঁর নেতৃত্বের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মুহূর্তটি নিঃসন্দেহে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়। ইংল্যান্ডের মাটিতে সেই ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ১৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় পাকিস্তান।  আট বছরের ট্রফি-খরা কাটিয়ে যে জয় এসেছিল, তা আজও পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে এক আবেগময় স্মৃতি হয়ে আছে।

জুনিয়র ও সিনিয়র—দুই স্তরেই আইসিসি ট্রফি জয়ের স্বাদ পেয়েছেন সরফরাজ। ২০০৬ সালে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ জিতেছিলেন। সেবারও ফাইনালে হারিয়েছিল ভারতকে।

মাঠের খেলা শেষ হলেও ক্রিকেট থেকে দূরে যাচ্ছেন না সরফরাজ। বরং নতুন ভূমিকায় শুরু হচ্ছে আরেকটি অধ্যায়। জাতীয় নির্বাচক কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি ইতিমধ্যেই দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব–১৯ দল এবং শাহিন স্কোয়াডের মেন্টর ও ম্যানেজার হিসেবেও কাজ করছেন তিনি।

সিনিয়র টেস্ট দলকেও তিনি নেতৃত্ব দিতে পারবেন। সরফরাজ বলেছেন, ''তিনটি ফরম্যাটে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেব, স্বপ্নেও তা ভাবিনি। ২০০৬ সালের অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপ জয় এবং ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মুহূর্ত আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি হয়ে থাকবে।''