আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের হেড কোচ গৌতম গম্ভীরের তীব্র সমালোচনা করলেন মহম্মদ কাইফ। ভারতের টিম ম্যানেজমেন্টেরও সমালোচনা করতে ছাড়লেন না দেশের প্রাক্তন ক্রিকেটার।
তাদের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ আনলেন কাইফ। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে চোট পান ওয়াশিংটন সুন্দর। বাকি দুটো ওয়ানডে থেকে তিনি ছিটকে গিয়েছেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে যা চিন্তা বাড়িয়েছে ভারতীয় শিবিরে। কিউয়িদের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে কি দেখা যাবে সুন্দরকে? এমন প্রশ্নও উঠতে শুরু করে দিয়েছে। সুন্দর চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়ায় পরিবর্ত হিসেবে আয়ুষ বাদোনিকে দলে নেওয়া হয়েছে।
এই প্রেক্ষিতে মহম্মদ কাইফ প্রশ্ন তুলেছেন, চোট পাওয়ার পরে শুভমন গিলকে বিশ্রাম দেওয়া হল। কিন্তু ওয়াশিংটন সুন্দরের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হল না কেন? তবে কি শুভমন গিলকে রক্ষা করা হচ্ছে? দু'জন প্লেয়ারের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থা কেন?
কাইফ তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে বলেছেন, ''শুভমান গিল যখন চোট পেল, তখন সে কলকাতা টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে আর ব্যাট করতে নামল না। হাইস্কোরিং ম্যাচ ছিল। সবাই মনে করেছিলেন গিল ২০-৩০ রান করলে ভারত ম্যাচটা জিতে নেবে। গিল কিন্তু ব্যাট করতে আর নামেনি। খেলোয়াড়কে পুরোদস্তুর রক্ষা করা হয়েছিল, যাতে আরও বড় চোট না হয়। কিন্তু একই ব্যবহার ওয়াশিংটন সুন্দরের সঙ্গে করা হল না কেন? এর জন্যই আমি মনে করছি সিদ্ধান্তটা সঠিক ছিল না। লোকেশ রাহুলের রানিং বিটুইন দ্য উইকেট প্রভাবিত হয়েছিল। ভারত জিতলেও আমি মনে করি সুন্দরের চোট বাড়লেও বাড়তে পারত।''
ভারত-নিউ জিল্যান্ড প্রথম ওয়ানডে-র শেষে হর্ষিত রানা বলেছিলেন, ''ওয়াশিংটনের সাইড স্ট্রেন। ব্যাটিংয়ের সময়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল ওয়াশিংটন সুন্দর। আমাদের মেডিক্যাল টিম ওর শারীরিক অবস্থা খতিয়ে দেখবে।''
চোটের জন্য ওয়াশিংটন সুন্দর নিউ জিল্যান্ডের ইনিংসে মাত্র পাঁচ ওভার বল করেন। ২৭ রানের বিনিময়ে একটিও উইকেট নেননি।
পরে আট নম্বরে ব্যাট করতে নামেন ওয়াশিংটন সুন্দর। তাঁর আগে হর্ষিত রানাকে ব্যাট করতে পাঠানো হয়। ওয়াশিংটন সুন্দরের রান নিতে কষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু সাত বলে সাত রান করে যান। লোকেশ রাহুলের সঙ্গে ১৬ বলে অপরাজিত ২৭ রানের পার্টনারশিপ গড়েন সুন্দর। ভারত ৬ বল বাকি থাকতে ৪ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয়।
সুন্দরকে নিয়ে ভারতের অবস্থান খেটে গেলেও কাইফ মনে করেন সিদ্ধান্তটা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কাইফ বলছেন, ''চোট ছিল সুন্দরের। প্রতি বলে রান করার দরকার হয়, তাহলে অন্য কাউকে চেষ্টা করা উচিত ছিল। যখন কোন খেলোয়াড় চোটগ্রস্ত হয় এবং চাপের মুখে তাকে মাঠে পাঠানো হয়, তখন চোট আরও বাড়তে পারে। বল ডিপ পয়েন্ট বা স্কোয়ার লেগে গেলেও দুটো রান নিতে পারছিল না। কেবল সিঙ্গলস নিচ্ছিল। ম্যাচটি নিয়ন্ত্রণে ছিল, তবুও আমার মনে হয়েছে একজন চোটগ্রস্ত খেলোয়াড়কে মাঠে পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ। এক সপ্তাহ বা দশ দিনের আঘাত ২০, ২৫, এমনকী ৩০ দিন পর্যন্তও দীর্ঘ হতে পারে।''
গম্ভীরের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করলেন মহম্মদ কাইফ।
