আজকাল ওয়েবডেস্ক: একদিন এক কিশোরের হৃদয় ভেঙে গিয়েছিল। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদেছিলেন তিনি। 

২০১৬ সালের সেই রাত। কোপা আমেরিকার ফাইনালের পর যখন লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার জার্সি তুলে রাখার ঘোষণা করেছিলেন, তখন কোটি ভক্তের চোখে ছিল  বিষাদের ছায়া। 
আর্জেন্টিনার প্রতিটি মানুষ ভাবতে শুরু করেছিলেন কী হয়ে গেল হঠাৎ। কেন হল এরকম? 

ছোট্ট এক কিশোরের কাছে লিওনেল মেসি শুধু একজন ফুটবলার ছিলেন না, ছিলেন স্বপ্নের আরেক নাম, অনুপ্রেরণার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

সেই কিশোর এনজো ফার্নান্দেজ কলম তুলে নিয়েছিলেন। মেসির প্রতি ভালবাসা আর অগাধ বিশ্বাসে সেদিনের এনজো আর্জেন্টিনার প্রাণভোমরার কাছে অনুরোধ করেছিলেন, ''লিও, ফিরে এসো তুমি।' হৃদয় উপুড় করে লেখা সেই চিঠি এখন আবার চর্চায়। কী লিখেছিলেন এনজো? তারকা আর্জেন্টাইন লেখেন, ''আমরা কীভাবে তোমাকে বোঝাব, যদি আমরা নিজেরাই ব্যর্থ হই?
আমরা কীভাবে তোমাকে বোঝাব, যখন আমাদের জীবনে কখনওই তোমার কাঁধে থাকা চাপের ১ শতাংশও অনুভব করতে হয়নি?

তুমি প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আয়নায় তাকাও এবং জানতে পারো, ৪ কোটিরও বেশি মানুষ শুধু চায় তুমি সবকিছু নিখুঁতভাবে করো। তাঁরা মনে করে তোমার কাছে সেই দাবি করার অধিকারী তাঁরা। 

আমরা কীভাবে তোমাকে বোঝাব, যদি আমরা এক মুহূর্তের জন্যও না বুঝি যে তুমিও একজন মানুষ? অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী, পৃথিবীর সেরা খেলোয়াড় কিন্তু তবুও একজন মানুষ।

আমরা কীভাবে তোমাকে বোঝাব, যদি আমরা বুঝতে না পারি যে হারার পর আমাদের যে রাগ হয়, তার জন্য তুমি দায়ী নও? সেই রাগের পিছনে অনেক সময় থাকে আমাদের নিজেদের হতাশা, আমাদের নিজেদের অপূর্ণতা।

চলুন, একবার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেদের জিজ্ঞেস করি, যে ছেলেটিকে আমরা আসলে ব্যক্তিগতভাবে চিনি না, তার কাছে আমরা যে প্রত্যাশা রাখি, নিজেদের কাছেও কি তার ১ শতাংশ প্রত্যাশা রাখি?

আমরা কীভাবে তোমাকে বোঝাব, যদি আমরা দেখতে না পাই যে পুরো পৃথিবী তোমার প্রশংসায় মুখর?
ছুটিতে তুমি চাইলে কোনও সমুদ্রসৈকতে আরামে শুয়ে থাকতে পারতে, কিন্তু তার বদলে তুমি সেখানে দৌড়াচ্ছ, দেশের প্রতিনিধিত্ব করছ, শুধু যাতে কেউ এসে এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে না যে তুমি কতটা দৌড়ালে বা জাতীয় সঙ্গীত গাইলে কি না।

লিওনেল, তুমি যা ইচ্ছা করো। কিন্তু দয়া করে থেকে যাওয়ার কথা ভাবো। তবে থেকো আনন্দের জন্য, কারণ এই মানুষগুলো তোমার কাছ থেকে সেটাই কেড়ে নিয়েছে।

এই অযৌক্তিক চাপের পৃথিবীতে তারা ফুটবলের সবচেয়ে সুন্দর জিনিসটাকেই কেড়ে নেয়। সেটা হল আনন্দ। ছোটবেলায় তুমি হয়তো স্বপ্ন দেখেছিলে নিজের দেশের হয়ে খেলবে এবং আনন্দ করবে। 

আর্জেন্টিনার জার্সিতে তোমাকে খেলতে দেখা আমাদের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গর্ব। আনন্দের জন্য খেলো, কারণ তুমি যখন আনন্দ নিয়ে খেলো, তখন আমরা কতটা আনন্দ পাই, তা তুমি কল্পনাও করতে পারবে না।

ধন্যবাদ, এবং ক্ষমা করো...। সেই এনজো ফার্নান্দেজের গোলে আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সমতা ফেরায়। তার পরে লাওতারো মার্টিনেজ গোল করে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে পৌঁছে দেন। লিও মেসি শিশুর আনন্দে নাচছিলেন। ধারাভাষ্যকাররাও অবাক হয়ে যান মেসির প্রতিক্রিয়া দেখে। আরও একটা ম্যাচ। এনজোর মতো গোটা আর্জেন্টিনা চায় মেসি আনন্দ করে ম্যাচটা খেলুক। আর মেসি আনন্দ করে ফুটবল খেলা মানে গোটা আর্জেন্টিনার আনন্দ। বলা ভুল হল, গোটা বিশ্বের আনন্দ।