আজকাল ওয়েবডেস্ক: জাতীয় স্তরের রাইফেল শুটার। দশম শ্রেণির ছাত্রী ১৫ বছর বয়সী দময়ন্তী সেনের রহস্যজনক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। নিখোঁজ হওয়ার চব্বিশ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত কিশোরীর কোনও হদিস মেলেনি। দময়ন্তীর তল্লাশির জন্য তৈরি হল পুলিশের 'সিট'।
দময়ন্তীকে খুঁজে বের করতে শুক্রবার দিনভর তৎপরতা চালায় হাওড়া সিটি পুলিশ ও রেল পুলিশ। তাকে উদ্ধারের লক্ষ্যে হাওড়া সিটি পুলিশের তরফে ৪টি দল গঠন করা হয়েছে। এই দলগুলি হাওড়া শহর ছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবারের কাছ থেকে দময়ন্তীর সম্ভাব্য যাতায়াতের স্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশের দলগুলো তল্লাশি চালাচ্ছে।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে মধ্য হাওড়ার উমাচরণ ভট্টাচার্য লেনের বাড়ি থেকে দুধ কিনতে বেরিয়ে আর ফেরেনি দময়ন্তী। তার কাছে কোনও মোবাইল, টাকা বা পরিচয়পত্র ছিল না। নিখোঁজ ডায়েরি করার পর বৃহস্পতিবার হাওড়া ও শ্রীরামপুর স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজে তাকে দেখা গেলেও, শুক্রবারের পর থেকে তার আর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
এমনকী শুক্রবার সকালে শ্রীরামপুরের মাহেশের রথের মেলায় তাকে দেখা গিয়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়লে, পরিবারের সদস্যরা সেখানে ছুটে যান। কিন্তু খালি হাতেই ফিরতে হয় তাঁদের। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার দময়ন্তীর বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেন রাজ্য পুলিশের সদর দপ্তর ভবানী ভবনের দ্বারস্থ হন।
মেয়ের এই আচমকা চলে যাওয়ার ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন মা মৌমিতা রায় সেন। কাঁদতে কাঁদতে এই তিনি জানান, "রাতে ওর বাবা ফোন নিয়ে নেয়। বুধবার রাতে দময়ন্তী ফোন দিতে ভুলে গিয়েছিল, তাই ওর বাবা ফোনটা চেয়ে নিয়েছিল। সেটাই হয়তো মনে লেগে গিয়েছিল।" মৌমিতার আশঙ্কা, খুব শান্ত স্বভাবের দময়ন্তী হয়তো সেই মুহূর্তের অভিমান থেকেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এদিকে, অলিম্পিয়ান জয়দীপ কর্মকারের কাছে প্রশিক্ষণ নেওয়া প্রতিশ্রুতিবান এই শুটারের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ক্রীড়ামহলেও শোকের ছায়া। সম্প্রতি ন্যাশনাল টিমের ট্রায়ালের ডাক পাওয়া দময়ন্তীর এ দিন একটি টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। শিক্ষক বাবা ধ্রুবজ্যোতিবাবু বলেন, "ও ফোন অ্যাডিক্ট নয়, প্রতিদিন নিজেই ফোন দিয়ে দেয়। আমার মেয়েটা যেন হঠাৎ উবে গেল।"
পুলিশি সূত্রে খবর, দময়ন্তীকে খুঁজে বের করতে গোয়েন্দারা সমস্ত সম্ভাব্য স্থানে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছেন। তার খোঁজে ৪টি দল করা হয়েছে। এদিকে চব্বিশ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও মেয়েকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে পরিবার।
















