কৃশানু মজুমদার: কিছু রাত ক্যালেন্ডারের পাতায় শুধু একটি তারিখ হয়ে থাকে। আর কিছু রাত সময়ের গণ্ডি অতিক্রম করে ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে যায়।
রবিবার তেমনই এক রাত। পৃথিবীর নানা প্রান্তের কোটি কোটি মানুষ একই স্বপ্ন, একই উদ্বেগ, একই উত্তেজনা নিয়ে চোখ রাখবেন টিভির পর্দায়, খেলার মাঠে। বিশ্বকাপের ফাইনাল কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, এটি গৌরবজনক এক লড়াই। দুই প্রজন্মের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই।
আর্জেন্টিনার সামনে স্পেন। একদিকে লিওনেল মেসি। অন্যদিকে লামিন ইয়ামাল। সেই মহারণের আগে নিজের দেশের প্রতি অটুট বিশ্বাসের কথা শোনালেন স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজোঁ।
ভারতীয় ফুটবলে তিনি শুধুই একজন বিদেশি কোচ নন। ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকদের কাছে তিনি এক আবেগের নাম। তাঁর হাত ধরেই দীর্ঘ ২২ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে লাল-হলুদ জিতেছে আইএসএল। ফিরে পেয়েছে ভারতসেরার মুকুট। ইস্টবেঙ্গলকে ভারতসেরা করা অস্কার এখন নিউ ইয়র্ক থেকে বহুদূরে। রবিবাসরীয় ফাইনাল নিয়ে তিনি উত্তেজিত।
আজকাল ডট ইনের কাছে একান্ত প্রতিক্রিয়ায় ব্রুজোঁ বলেন, স্পেনের এই ফাইনালে ওঠা কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়। এর পিছনে রয়েছে দীর্ঘ পথচলা, নিরলস পরিশ্রম, অগণিত ত্যাগ আর নিজেদের ফুটবল-দর্শনের প্রতি অটল বিশ্বাস। এই দল প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের শক্তি, নিজেদের ফুটবলের পরিচয় দিয়েছে। দলগত বোঝাপড়া, চরিত্র, শৃঙ্খলা এবং একে অপরের প্রতি আস্থা, এই চার স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়েই স্পেন পৌঁছে গিয়েছে বিশ্বফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে।
তবে সামনে যে প্রতিপক্ষ, তাদের পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অপেক্ষায় রয়েছে আর্জেন্টিনা। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। এমন একটি দল, যারা জানে কীভাবে চাপ সামলাতে হয়, কীভাবে বড় ম্যাচ জিততে হয়। চাপের মুখে নিজেদের সেরাটা তুলে ধরে। অস্কার ব্রুজোঁর কথায়, ''বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে হলে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদেরই হারাতে হবে।'' সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার জন্য তাঁর দেশের ফুটবলাররা প্রস্তুত। তিনি দূর থেকেই ইয়ামালদের হয়ে গলা ফাটাচ্ছেন।
একজন স্পেনীয় হিসেবে, আবার একজন কোচ হিসেবে, নিজের দেশের এই যাত্রায় গর্বিত অস্কার। গোটা টুর্নামেন্টে স্পেন যেভাবে সমষ্টিগত ফুটবল খেলেছে, যেভাবে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলগত শক্তিকে বড় করে দেখিয়েছে, তাতে তাঁর বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে। অস্কারের মতে, এখন আর ভয়ের কোনও জায়গা নেই। কোনও বাড়তি চাপও নয়। এখন সময় শুধু একটি প্রজন্মের সবচেয়ে বড় ম্যাচটিকে উপভোগ করার। কারণ আত্মবিশ্বাস জন্মায় ফলাফল থেকে নয়, সঠিক পথে হাঁটার বিশ্বাস থেকে। আর সেই বিশ্বাস স্পেন এই বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচে অর্জন করেছে।
শেষে অস্কারের আহ্বান, যা কোটি স্প্যানিশ সমর্থকের হৃদস্পন্দনের প্রতিধ্বনি,'ভামোস, এস্পানা।' চলো, স্পেন। ইতিহাস অপেক্ষা করছে। ইতিহাস তৈরির জন্য ছটফট করছেন ইয়ামালরাও।
















