আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফিফার অভিজ্ঞ রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ এক সময় বসনিয়ায় পুলিশের অভিযানে আটক হয়েছিলেন। তবে তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অপরাধের প্রমাণ না মেলায় পরে তাঁকে সাক্ষী হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ব্যবসার কারণে মধ্যাহ্নভোজের আমন্ত্রণে বসনিয়ার বিজেলজিনা শহরে গিয়েছিলেন ভিনচিচ। সেই সময় হঠাৎই সেখানে পুলিশ অভিযান চালায়।
অভিযানে তিজানা ম্যাকসিমোভিচ-সহ একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি ছিল, ম্যাকসিমোভিচ ওই যৌন পাচার চক্রের মূলচক্রী। পরের বছর ম্যাকসিমোভিচ আদালতে দোষ স্বীকার করেন এবং তাঁকে এক বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয় আদালত।
পুলিশি অভিযানে মোট ৯ জন মহিলা ও ২৬ জন পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পাশাপাশি চার প্যাকেট কোকেন, ১০টি পিস্তল, তিনটি বুলেটপ্রুফ ভেস্ট এবং ১০ হাজার ইউরোরও বেশি নগদ অর্থ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।
তবে ভিনচিচের বিরুদ্ধে কোনও অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়নি। সাক্ষী হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। স্লোভেনিয়ার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভিনচিচ দাবি করেন, তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিলেন।
তাঁর কথায়, ‘আমি কাকতালীয়ভাবে ওই ফার্মহাউসে উপস্থিত ছিলাম। আমার নিজস্ব একটি সংস্থা রয়েছে। ব্যবসায়িক বৈঠকের জন্য বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় গিয়েছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘লাঞ্চের আমন্ত্রণ গ্রহণ করাটাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। আমি সেই সিদ্ধান্তের জন্য অনুতপ্ত। আমরা টেবিলে বসেছিলাম, হঠাৎ পুলিশ এসে অভিযান চালায়। তারপর যা ঘটেছে, তা সকলেই জানেন।’
ভিনচিচের দাবি, ‘গ্রেপ্তার হওয়া বা আটক হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে আমার বা আমার ব্যবসায়িক অংশীদারদের কোনও সম্পর্ক ছিল না। পুলিশ আমাদের সাক্ষী হিসেবে নিয়ে গিয়েছিল। পরে আমাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।’
অন্যদিকে, স্লোভেনিয়া ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ভ্লাদো সাজনও ভিনচিচের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, ভিনচিচ ভুল সময়ে ভুল জায়গায় হাজির হয়েছিলেন।’
সেই ভিনচিচ এবার বিশ্বকাপের ফাইনাল পরিচালনা করবেন। এবারের টুর্নামেন্টে এটা তাঁর চতুর্থ বিশ্বকাপ। এবার এর আগে আর্জেন্টিনার ম্যাচ পরিচালনা করারও পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে এই স্লোভেনিয়ান রেফারির।
















