আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স অব্যাহত রাখল নরওয়ে। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে রাউন্ড অফ ৩২-এ জায়গা নিশ্চিত করল স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দলটি।
ম্যাচ জয়ের পর নিউ ইয়র্কে নিজেদের সমর্থকদের সঙ্গে বিখ্যাত ‘ভাইকিং রো’ উদযাপনে মাতলেন আর্লিং হালান্ডরা। ম্যাচ শেষে নরওয়ের ফুটবলাররা মাঠে বসে সারিবদ্ধভাবে সেই ঐতিহ্যবাহী উদযাপন করেন।
অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড ঢোল বাজিয়ে ছন্দ তৈরি করেন, আর গ্যালারি থেকে সমর্থকদের গর্জন পুরো স্টেডিয়ামে ছড়িয়ে পড়ে। তবে নরওয়ের সমর্থকরা ম্যাচের আগেই নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়ার দখল করে এই উদযাপনের আবহ তৈরি করেছিলেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখায় নরওয়ে। প্রথমার্ধের ৪৩ মিনিটে সেনেগালের রক্ষণভাগের ভুল কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায় তারা। কুলিবালির ভুল ক্লিয়ারেন্স থেকে বল পেয়ে মার্কাস পেডারসেন জোরালো শটে গোল করে নরওয়েকে এক গোলে এগিয়ে দেন।
বিরতির আগে ব্যবধান বাড়ানোর একাধিক সুযোগ পেয়েছিল নরওয়ে। তবে সেনেগালের গোলরক্ষক মেন্ডির দুর্দান্ত সেভ এবং হালান্ডের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসায় ব্যবধান বাড়েনি।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই নিজের নাম স্কোরশিটে তোলেন আর্লিং হালান্ড। ৪৮ মিনিটে মার্টিন ওডেগার্ডের নিখুঁত থ্রু বল পেয়ে ম্যাঞ্চেস্টার সিটির তারকা স্ট্রাইকার কোনও ভুল করেননি। তাঁর শট সরাসরি জালে গিয়ে পৌঁছয়।
নরওয়ে এগিয়ে যায় ২-০ ব্যবধানে। তবে হাল ছাড়েনি সেনেগাল। ৫৩ মিনিটে সাদিও মানের দুর্দান্ত পাস থেকে ইসমাইল সার গোল করে ব্যবধান কমান। এর মাত্র পাঁচ মিনিট পর ফের আঘাত হানে নরওয়ে।
প্যাট্রিক বার্গের ক্রস থেকে প্রথম টাচেই ভলিতে গোল করেন হালান্ড। বল ক্রসবারে লেগে জালে ঢুকে যায়। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে মাত্র দুই ম্যাচে হালান্ডের গোলসংখ্যা দাঁড়াল চার।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ইসমাইল সার নিজের দ্বিতীয় গোল করে সেনেগালকে ফের লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামলে জয় নিশ্চিত করে নরওয়ে।
এই জয়ের ফলে গ্রুপ আই থেকে ফ্রান্সের সঙ্গে রাউন্ড অফ ৩২-এ পৌঁছে গেল নরওয়ে। এবার গ্রুপের শীর্ষস্থান দখলের লড়াইয়ে আগামী ২৭ জুন ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে হালান্ডের দল। দুই দলেরই পয়েন্ট সমান থাকায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে ম্যাচটি।
















