আজকাল ওয়েবডেস্ক: ডালাস মেসিময়, থুরি বিশ্বকাপ মেসিময়। হ্যাটট্রিকের পর জোড়া গোল। ফুটবল জীবনের শেষ বিশ্বকাপে সেরা পারফরম্যান্স। দুই ম্যাচে পাঁচ গোল মেসির। আর্জেন্টিনার গোল সংখ্যাও তাই। সোমবার ভারতীয় সময় মধ্যরাতে অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোল হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ছাড়পত্র সংগ্রহ করল আর্জেন্টিনা। মেসি -২, অস্ট্রিয়া - ০।
আর মেসির দ্বিতীয় গোলের পরে উদযাপন নিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে চর্চা। গোলের পরে সাধারণত গোলদাতারা সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনে মেতে ওঠেন। কিন্তু লিও মেসি কার সঙ্গে গোল উদযাপন করলেন?
দুরন্ত গোলের পরে মেসি ছুটলেন গোলপোস্টের পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা এক সাংবাদিকের দিকে। তাঁর সঙ্গে হাত মেলালেন। ক্যামেরায় ধরা পড়ে যায় মুহূর্তটি। তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। শুরু হয়ে যায় আলোচনা, কে এই ব্যক্তি, যাঁর সঙ্গে হাত মেলালেন মেসি?
যাঁর সঙ্গে মেসি হাত মিলিয়েছেন, আনন্দ শেয়ার করে নিয়েছেন, সেই সাংবাদিকের নাম জোয়াকিন ব্রুনো। আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ক্রীড়া চ্যানেল টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদক। ম্যাচ শেষে নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে ব্রুনো জানান, তাঁর কাছেও অবিশ্বাস্য ঠেকছে সব।
শুরুতেই পেনাল্টি নষ্ট করেন মেসি। পেনাল্টি স্পট থেকে গোললাইন পৃথিবীর রহস্যময় সরণী। সেই সরণীতে অনেকেই পথ হারান। লিও মেসিও সেই রাস্তা হারিয়ে ফেললেন। অত্যন্ত হতশ্রী পেনাল্টি শট নেন। বল টার্গেটেও ছিল না।
কিন্তু গোল করতে না পারার গ্লানি তাঁকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিল। আলমাদার ফলস থেকে বল পেয়ে মেসি প্রথম গোলটি করেন। সবাই যখন ধরেই নিয়েছেন খেলার ফল হবে আর্জেন্টিনা ১ অস্ট্রিয়া ০, ঠিক তখনই গর্জে উঠল মেসির বাঁ পা।
মেসির দ্বিতীয় গোলের পরে আর স্থির থাকতে পারেননি সেই সাংবাদিক। তিনি একাই ছিলেন গোলের পিছনে। গোলের পরে তিনি চিৎকার করে ওঠেন। মুহূর্তের জন্য ভুলে যান তিনি সাংবাদিক। তখন তিনি আর্জেন্টিনার প্রবল সমর্থক। ব্রুনো বলেন, ''আমি দেখতে পেলাম লিও আমার দিকে এগিয়ে আসছে। আমি তখনও চিৎকার করছি, আর লিও আমার দিকে তাকিয়ে আছে। কাছে এসে আমার সঙ্গে হাত মিলিয়ে উদ্যাপন করল।''
এই মুহূর্ত ব্রুনোর জীবনের সেরা। সেই মুহূর্তের ছবিও রয়েছে তাঁর কাছে। কিন্তু ব্রুনো কে? টিওয়াইসি স্পোর্টসের পরিচিত মুখ ব্রুনো সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন আর্জেন্টাইন ক্লাব রেসিংয়ের খবর কভার করার মাধ্যমে। বর্তমানে তিনি টিওয়াইসি স্পোর্টসের হয়ে বিশ্বকাপ কভার করছেন।















