আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া নিয়ে নতুন করে আশা দেখছে ইতালি। একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন মারফত জানা গিয়েছে, ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছে ফিফা।
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের চলতি সংঘাতের কারণে আসন্ন বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। সূত্রের খবর, সেই প্রেক্ষিতেই ফিফা নাকি অভ্যন্তরীণভাবে কিছু ‘কন্টিনজেন্সি প্ল্যান’ বা বিকল্প উপায় নিয়ে আলোচনায় বসেছে।
অন্যদিকে, ইতালির বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করার স্বপ্নও আগেই ভেঙে গিয়েছিল। প্লে-অফে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে হেরে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ মিস করে ইতালি।
এই ব্যর্থতার পরই দলের হেড কোচ জেনারো গাত্তুসো পদত্যাগ করেন। তবে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায়, অল্পের জন্য বাদ পড়া দলগুলিকে নিয়ে একটি বিশেষ প্লে-অফ আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
যদিও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে কোনও বিকল্প পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই ইরান বিশ্বকাপে খেলুক। কোনও প্ল্যান বি, সি বা ডি নেই, শুধু প্ল্যান এ-ই আছে।’
এদিকে রাজনৈতিক পরিস্থিতিও অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই ইরানের অংশগ্রহণে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। বিশ্বকাপে ইরানকে গ্রুপ ‘জি’-তে রাখা হয়েছে।
গ্রুপে তাদের সঙ্গে রয়েছে বেলজিয়াম, মিশর এবং নিউজিল্যান্ড। যদিও এখনও পর্যন্ত ইরানের অংশগ্রহণের সম্ভাবনাই বেশি। তবুও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। আপাতত দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও পাকাপাকি ভাবে নিশ্চয়তা এখনও মেলেনি।
যে কোনও মুহূর্তে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে কী হবে তারও কোনও নিশ্চয়তা মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য কিছু বিকল্প পথ নিয়ে আলোচনা চলছে ফিফার অভন্ত্যরে।
জানা গিয়েছে, ব়্যাঙ্কিং অনুযায়ী বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া দলগুলির পরেই রয়েছে ইতালি। সেক্ষেত্রে তারা সুযোগ পেতে পারে। ইউরোপ ও এশিয়ার মোট চারটি দল নিয়ে একটি ছোট টুর্নামেন্ট হতে পারে।
বিজয়ী দলকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে বিশ্বকাপে। তবে সেক্ষেত্রে এশিয়া থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি বা ইরাকের মতো দলগুলিও কড়া টক্কর দিতে পারে। তবে ইতালির ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি এই সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে চাননি।
তিনি বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ অন্য বিষয়। ইউরোপের ভিতরে কোনও সমস্যা না হলে কোনও আশা করা বৃথা। আমি আপাতত কোনও আশা রাখছি না।’ তবে সব মিলিয়ে, ইতালির বিশ্বকাপে ফেরার সম্ভাবনা এখনও অত্যন্ত ক্ষীণ। এটা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির ওপর।
















