আজকাল ওয়েবডেস্ক: ১১ জুন থেকে শুরু হবে ফিফা বিশ্বকাপ। হাতে আর সময় দেড় মাস। কিন্তু প্রশ্ন উঠে গিয়েছে ভারতে আদৌ দেখা যাবে বিশ্বকাপ ফুটবল? কারণ এখনও ভারতে বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব কেউ কেনেনি। ফলে চাপ বাড়ছে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনোর উপর।
এটা ঘটনা, স্টার, সোনির মতো চ্যানেলগুলি এখনও ভারতে বিশ্বকাপ দেখানোর আগ্রহ দেখায়নি। আসল বিষয় হল বিশ্বকাপের সময়। খেলা যেহেতু এবার আমেরিকা, মেক্সিকো ও কানাডায়। ভারতীয় সময় বেশ অদ্ভুত সময়ে পড়েছে বড় ম্যাচগুলি। বেশির ভাগ ম্যাচ শুরু ভারতীয় সময় রাত ১২টার পর। রাত ১২.৩০, রাত ৩.৩০, ভোর ৫.৩০ ও ৬.৩০–এ বেশির ভাগ খেলা রয়েছে। খুব কম খেলা রয়েছে রাত ৯.৩০। সকাল ৭.৩০ সময়ও কয়েকটি ম্যাচ রয়েছে। এই সময়ে বিজ্ঞাপনদাতাদের চাহিদা কম।
এটা ঘটনা, ভারতে মূলত ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থক বেশি। পর্তুগাল, জার্মানি ও ইংল্যান্ডের সমর্থকও আছে। বড় দলগুলির বেশির ভাগ খেলা ভারতীয় সময় মধ্যরাত বা ভোরে। ব্রাজিলের গ্রুপ পর্বের তিনটি খেলার মধ্যে দু’টি রাত ৩.৩০ থেকে। নক আউট পর্বের ম্যাচ শুরু ভারতীয় সময় রাত ১২.৩০, ৩.৩০ ও ভোর ৬.৩০। কোয়ার্টার ফাইনাল হবে রাত ১২.৩০ ও ৩.৩০। সেমিফাইনাল রাত ১.৩০ সময়। ফাইনাল শুরু হবে রাত ১২.৩০ মিনিটে।
জানা গিয়েছে, সন্ধেয় খেলা হলে একটি ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের যা খরচ, রাত ১২টার পর তা ১০ গুণ কমে যায়। রাত ৩.৩০ বা তার পর সেই খরচ আরও কমে। তাতেই হয়েছে সমস্যা। আগ্রহ দেখাচ্ছে না সম্প্রচার সংস্থাগুলি।
এদিকে, ভারতে বিশ্বকাপের সম্প্রচারের জন্য শুরুতে ৯৩৮ কোটি টাকার প্রস্তাব দিয়েছিল ফিফা। এই টাকায় সম্প্রচার স্বত্ব কিনলে ২০২৬ ও ২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ দেখানোর অধিকার পাওয়া যেত। কিন্তু তাতে কেউ রাজি হয়নি। ফলে ফিফা নিজেই টাকার অঙ্ক কমিয়ে ৩২৮ কোটি টাকা করেছে। তাতেও কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছে না। মনে করা হচ্ছে, ফিফা টাকার অঙ্ক আরও কমাতে পারে।
আবার ভারতীয় বাজারে এখন খেলা দেখায় দু’টি সংস্থা। জিওস্টার ও সোনি। ইতিমধ্যেই স্টার স্পোর্টসকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করে নিয়েছে জিও। ফলে বেশি বিকল্পও নেই। তাই এই দুই সংস্থার হাতেই নির্ভর করছে ফিফার ভাগ্য।
কোনও বেসরকারি সংস্থা রাজি না হলে শেষ ভরসা প্রসার ভারতী। সরকারি চ্যানেল দূরদর্শনে এর আগেও ফিফা প্রতিযোগিতা দেখানো হয়েছে।
















