আজকাল ওয়েবডেস্ক: ল্যাজেগোবরে করে টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়ন ভারতকে সিরিজে হারাল ইংল্যান্ড। পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ইংরেজরা জিতল ৪-০-এ।

এদিন প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ড করেছিল ৩ উইকেটে ২৫৭ রান। ভারত সেই রান তাড়া করার আগেই হেরে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত টিম ইন্ডিয়া করে  ৮ উইকেটে ২০১ রান। ৫৬ রানে হারল ভারত।

আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হেরে ইংল্যান্ডে খেলতে এসেছিল ভারতীয় দল। সেখানেও একই ছবি। একটা ম্যাচও জিতল না ভারত। টি-টোয়েন্টিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এই পরিণতি দেখে করুণা হওয়ারই কথা। সেট দল কীভাবে, তৈরি হয়ে যাওয়া সিস্টেম কীভাবে ভাহতে হয়, তা ভারত দেখাল। বোলিং হতশ্রী, ব্যাটিও তথৈবচ। কী হল হঠাৎ ভারতীয় ক্রিকেটের?

২৫৭ রানের পাহাড়প্রমাণ রান তাড়া করতে নেমে যেভাবে শুরু করার কথা, তার ধারেপাশে ছিল না ভারতীয় দল। অভিষেক শর্মা ব্যর্থ। সঞ্জু স্যামসন ১৪ বলে ২৭ করলেন। ঈশান কিষান (৫৬) ও তিলক ভার্মা (৫৩) কিছুটা লড়লেন। বাকিরা এলেন আর গেলেন। ভারতের ক্রিকেটে কোনও পরিকল্পনা চোখে পড়ল না। 

উলটে ভারতের বিরুদ্ধে নিজেদের সর্বোচ্চ টি-টোয়েন্টি স্কোর গড়ে তুলল ইংল্যান্ড। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২৫৭ রান তুলেছে ইংল্যান্ড।

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতের বোলিং আক্রমণকে শুরু থেকেই চাপে রাখেন ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা। জস বাটলার ৬৪ বলে ১৩১ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন। দ্বিতীয় উইকেটে হ্যারি ব্রুকের সঙ্গে তিনি ২৩৩ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়ে ভারতের বোলারদের সম্পূর্ণ অসহায় করে দেন। এই জুটির সামনে ভারতীয় বোলিং কার্যত ছেলেখেলার পর্যায়ে নেমে আসে। 

সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে ঘরের মাঠে ভারত টি-টোয়েন্টি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কিন্তু ভারতীয় নির্বাচকরা কোনও এক অজ্ঞাত কারণে সূর্যকে বসিয়ে শ্রেয়স আইয়ারকে ক্যাপ্টেন করেন। তাঁদের যুক্তি ছিল শ্রেয়স আইয়ার আইপিএলে ভাল ক্যাপ্টেন্সি করেছেন। কিন্তু আইপিএল আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তো এক নয়। এতদিনেও এই সারসত্যটা বুঝতে পারলেন না ভারতের নির্বাচকরা। ইংল্যান্ড সফরে এসেই কঙ্কাল বেরিয়ে পড়ল ভারতীয় দলের। শ্রেয়স আইয়ারের দল হতশ্রী পারফরম্যান্স করছে। যেমন জঘন্য ব্যাটিং, তেমনই বোলিং। রক্তাল্পতা সর্বত্র।

এদিন একা বাটলার ভারতীয় বোলারদের বেদম প্রহার করলেন। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দিলেন হ্যারি ব্রুক। দুই ইংরেজ ব্যাটারদের থামানোর কোনও অস্ত্রই নেই ভারতীয় বোলারদের। ফলে যাও হওয়ার তাই হল। বিশাল রানের পাহাড় গড়লেন ইংরেজরা। এর আগে টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। তবে যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ে মাঠে পৌঁছতে না পারায় টস কিছুটা দেরিতে হয়। ভারতের একাদশে দুটি পরিবর্তন করা হয়। বৈভব সূর্যবংশীর পরিবর্তে সুযোগ পান সঞ্জু স্যামসন এবং ওয়াশিংটন সুন্দরের জায়গায় দলে আসেন সূর্যবংশ শেডগে। ইংল্যান্ডের একমাত্র পরিবর্তন ছিল রেহান আহমেদের বদলে লিয়াম ডসনের অন্তর্ভুক্তি।

ইতিমধ্যেই সিরিজ নিজেদের দখলে নিয়েছে ইংল্যান্ড। আর শেষ ম্যাচে ব্যাট হাতে এমন বিধ্বংসী পারফরম্যান্স করে ভারতের সামনে পাহাড়প্রমাণ ২৫৮ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিল স্বাগতিকরা। অর্শদীপ সিং, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা, প্রিন্স যাদব, অক্ষর প্যাটেল, সূর্যাংশ শেডগে ও শিবম দুবে রান দিয়েছেন প্রচুর। শিবম দুবে এক ওভারে ২২ রান দিলেও ২ উইকেট নেন। সিরিজ শেষ। গৌতম গম্ভীরকে এই দল নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা উচিত।