আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেখতে দেখতে শতবর্ষে পা রাখল জর্জ টেলিগ্রাফ স্পোর্টস ক্লাব। শনিবার সন্ধেয় দক্ষিণ কলকাতার এক অভিজাত ক্লাবে পালন করা হয় জর্জ স্পোর্টস ক্লাবের শতবর্ষ। ছিলেন ক্লাবের সচিব সুব্রত দত্ত, আইএফএ সচিব এবং ক্লাবের যুগ্মসচিব অনির্বাণ দত্ত। এছাড়াও ছিলেন অনিন্দ দত্ত, অধিরাজ দত্ত। অতীত এবং বর্তমানের ফুটবলাররা মিলত হয় এক ছাদের তলায়। ছিলেন ক্রিকেটের প্রশাসকরাও। তালিকায় ছিলেন অভিষেক ডালমিয়া। সংবর্ধিত হন সিএবি সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি। বিশ্বনাথ দত্ত জীবনকৃতি সম্মান পান প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। ক্রিকেট জীবনে এবং পরবর্তীতে প্রচুর পুরস্কার এবং সম্মান পেয়েছেন। কিন্তু এই সম্মানের একটি বিশেষ জায়গা রয়েছে তাঁর কাছে।
সৌরভ বলেন, 'পুরস্কারের নাম বিশ্বনাথ দত্ত জীবনকৃত সম্মান। ১৫ বছর বয়সে অনূর্ধ্ব-১৯ দলে সুযোগ পাওয়ার পর বাবা সিএবিতে নিয়ে যান ওনার সঙ্গে আলাপ করাতে। তারপর খেলার জন্য বিভিন্ন জায়গায় চলে যেতে হয়। আর দেখা হয়নি। কিন্তু এই ক্লাবের সঙ্গে আমার পরিচয় দীর্ঘদিনের। খেলা ছাড়ার পর কর্তাদের সঙ্গে সম্পর্ক বেড়ে উঠেছে। জগমোহন ডালমিয়া আমাকে মাঠে নিয়ে আসে। সারা বছর পর প্লেয়ারদের পারফরম্যান্স স্বীকৃতি পায়। এই সম্মান ভাল খেলতে উদ্বুদ্ধ করে। এখানে এমন অনেকে আছে যাদের খেলা দেখেছি আমি যখন স্কুলে পড়তাম। বিকেল চারটেয় মাঠে গিয়ে মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, আলোক মুখার্জি, প্রশান্ত ব্যানার্জি, সুব্রত ভট্টাচার্যদের খেলা দেখেছি। আমি ইস্টবেঙ্গলে ১৭ বছর খেলেছি। খেলোয়াড়দের যদি ইচ্ছে থাকে, চেষ্টা থাকে, তাঁরা সবকিছু পারে। আশা করব এই ক্লাব ভবিষ্যতে তরুণদের আরও উন্নতমানের পরিকাঠামো দেবে। আশা করি ভবিষ্যতে যারা বাংলার নাম উজ্জ্বল করবে, তাঁরা এই সম্মান পাবে।'
জর্জ টেলিগ্রাফ স্পোর্টস ক্লাবের সচিব সুব্রত দত্ত বলেন, 'এটা শুধু জর্জ টেলিগ্রাফের নয়, কলকাতা ময়দানের কাছে গর্বের দিন। বিশ্বনাথ দত্ত, প্রদ্যুৎ দত্তরা যেভাবে আমাদের ক্লাবকে উজ্জ্বল করেছেন, ফুটবল আর ক্রিকেটকে সর্বোচ্চ সিংহাসনে নিয়ে গিয়েছেন, পরবর্তী প্রজন্ম সেটা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।' মনোরঞ্জন ভট্টাচাৰ্য, ষষ্ঠী দুলে, গৌতম ঘোষ, রঘু নন্দী, রঞ্জন ভট্টাচাৰ্যদের মতো ফুটবলার এবং কোচ ময়দানকে উপহার দিয়েছে জর্জ টেলিগ্রাফ ক্লাব। ক্লাবের শতবর্ষ উপলক্ষে এদিন ১১জন খেলোয়াড়কে পুরস্কৃত করা হয়। সেরা অ্যাথলিটের সম্মান পান মিষ্টি কর্মকার। সেরা সাঁতারু হন সৌব্রিতি মন্ডল। সেরা টেনিস প্লেয়ার আলিনা ফরিদ। সেরা ফুটবলার চাকু মান্ডি। সুদীপ ঘরামী সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার পান। সেরা ব্যাডমিন্টন প্লেয়ার হন বিতামা পাল। শুটিংয়ে সেরা অভিনব শ। হকিতে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান করণ শ। সেরা আর্চার হন প্রাপ্তি বটব্যাল। দাবাতে সেরা দীপ সেনগুপ্ত। বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয় মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং ঝুলন গোস্বামীকেও।















