আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ রঞ্জি ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনালে অন্ধ্রপ্রদেশের বিরুদ্ধে মাত্র এক রানের জন্য ত্রিশতরান হাতছাড়া করলেন বাংলার সুদীপ ঘরামি। তিনি আউট হন ২৯৯ রানে। কল্যাণীর মাঠে তিনি আউট হন শেখ রশিদের বলে। তবে ত্রিপল সেঞ্চুরি করতে না পারলেও বাংলার ব্যাটার ছুঁয়ে ফেলেছেন ডন ব্র্যাডম্যানের কীর্তি। পাশাপাশি, প্রথম ভারতীয় ক্রিকেটার হিসাবে আরও একটি নজির গড়েছেন তিনি।


সুদীপের আগে মাত্র চার জন ক্রিকেটার ২৯৯ রানে থেমেছেন। প্রথম কীর্তি ব্র্যাডম্যানের। ১৯৩২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে অ্যাডিলেড টেস্টে তিনি ২৯৯ রানে আউট হয়ে যান। এর পর ১৯৮৯ সালে নিউজিল্যান্ডের মার্টিন ক্রো শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে একটি টেস্টে ২৯৯ রানে আউট হন।


শেষ বার এমন ঘটেছিল ২০০৬ সালে। কাউন্টি ম্যাচে গ্ল্যামারগনের মাইক পাওয়েল ২৯৯ রানে আউট হয়ে যান গ্লস্টারশায়ারের বিরুদ্ধে। তার পর সোমবার সুদীপ সেই তালিকায় নতুন সংযোজন। এর মাঝে ১৯৮৯ সালে মহারাষ্ট্রের শান্তনু সুগবেকর ২৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন মধ্যপ্রদেশের বিরুদ্ধে। তিনি এখনও পর্যন্ত একমাত্র অপরাজিত থাকা ক্রিকেটার।


প্রসঙ্গত, আজ পর্যন্ত প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ভারতের কোনও ক্রিকেটার ২৯৯ রানে আউট হননি। সুদীপ সেই তালিকায় প্রথম। নিশ্চিত ত্রিশতরান অপেক্ষা করছিল তাঁর জন্য। কিন্তু এক রান আগেই থামতে হয়েছে। প্রথমে ব্যাট করে অন্ধ্রপ্রদেশের ২৯৫ রানের জবাবে বাংলা তুলেছে ৬২৯। সেমিফাইনালের দিকে এক পা বাড়িয়ে রেখেছে তারা। সুদীপের ৫৯৬ বলের ইনিংসে রয়েছে ৩১টি চার এবং ৬টি ছয়।

এদিকে, রঞ্জির শেষ চারে বাংলা। প্রায়। এটা ঘটনা, তৃতীয় দিনের শেষে অন্ধ্রপ্রদেশের থেকে ১২৩ রানে এগিয়ে ছিল বাংলা। চতুর্থ দিন বাংলার প্রথম ইনিংস শেষ হওয়ার সময় ব্যবধান বেড়ে দাঁড়াল ৩৩৪ রান। অর্থাৎ, আরও ২১১ রান করল বাংলা। যার সিংহভাগ এল সুদীপ ঘরামি ও শাকির হাবিব গান্ধীর ব্যাট থেকে। মাত্র এক রানের জন্য ত্রিশতরান হাতছাড়া হল সুদীপের। পাঁচ রানের জন্য শতরান করতে পারলেন না শাকির। কিন্তু বাংলাকে চালকের আসনে নিয়ে গেলেন তাঁরা। রঞ্জি ট্রফির তিনটি কোয়ার্টার ফাইনালের ফলাফল হয়ে গিয়েছে। বাংলা বনাম অন্ধ্রপ্রদেশ ম্যাচের ফলাফল না হলেও যা পরিস্থিতি সেখান থেকে বাংলার হারার সম্ভাবনা প্রায় নেই। বলে দেওয়া যায়, বাংলা রঞ্জির সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।