আজকাল ওয়েবডেস্ক: নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে অজিত আগরকরের মেয়াদ বাড়াতে চলেছে বিসিসিআই। জানা গিয়েছে, ২০২৭ সালের আইসিসি ওডিআই বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দল গঠনে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে বোর্ড।
আগরকরের বর্তমান মেয়াদ ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা। তবে বোর্ড সূত্রে খবর, তাঁর সময়কালে দলের পারফরম্যান্স এবং ট্রানজিশন প্রক্রিয়ায় সন্তুষ্ট বিসিসিআই।
বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ভারতের সাম্প্রতিক সাফল্য আগরকরের মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিয়েছে। সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, বোর্ডের এক সূত্র জানাচ্ছেন, আগরকরের নেতৃত্বে দল নির্বিঘ্নভাবে ট্রানজিশনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। এমনকী, সাহসী সিদ্ধান্ত নিতেও পিছপা হয়নি। সেই কারণেই তাঁর চুক্তি নবীকরণের দিকে এগোচ্ছে বোর্ড।
আগরকরের আমলে ভারত ২০২৪ সালে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০২৬ সালেও ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জিতেছে। পাশাপাশি ২০২৫ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিও জিতেছে ভারতীয় দল।
এর আগে ২০২৩ সালে ঘরের মাঠে আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালেও পৌঁছেছিল ভারত। যা সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ধারাবাহিক সাফল্যের প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও নজর কেড়েছে বিসিসিআইয়ের। আগরকর নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান থাকাকালীনই ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দল আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে।
যে সমস্ত ক্রিকেটাররা দ্রুত রান তুলতে পারেন তাঁদের দলে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল নির্বাচনে ভারসাম্য ও ফর্মকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল।
এমনকী, বড় নাম হিসেবে শুভমান গিলকে বাদ দিতেও পিছপা হয়নি বোর্ড। তবে লাল বলের ক্রিকেটে ভারতের পারফরম্যান্স কিছুটা উদ্বেগের কারণ হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে নিউজিল্যান্ড এবং নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে সিরিজ হারতে হয়েছে।
ফলে, ঘরের মাটিতে দীর্ঘদিন অপরাজিত থাকার রেকর্ড ভেঙে গিয়েছে। যদিও এই সময় ভারতীয় দল একাধিক ট্রানজিশনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। ইংল্যান্ডের মাটিতে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা অনুপস্থিতি এবং জসপ্রীত বুমরাকে সব ম্যাচ না খেলিয়েও টেস্ট সিরিজ ২-২ ব্যবধানে ড্র করেছিল টিম ইন্ডিয়া।
সব মিলিয়ে, বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ভারতের সাফল্যই বোর্ডকে আশ্বস্ত করেছে, আগরকরের নেতৃত্বে দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে যৌক্তিকতা রয়েছে। কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিকতা এবং নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়াই সাম্প্রতিক সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বলে মনে করা হচ্ছে।
পরের বছরে ওডিআই বিশ্বকাপের আগে দল গঠনে কোনও রকম বিঘ্ন চাইছে না বিসিসিআই। সে কারণেই আগরকরের মেয়াদ বৃদ্ধি এখন কার্যত সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করা হচ্ছে।
















