আজকাল ওয়েবডেস্ক: গুরবাজ সেঞ্চুরি করে রেকর্ড গড়েছিলেন। তাঁর ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ে আফগানিস্তান পৌঁছে গিয়েছিল ১৯৪ রানে। কিন্তু রান তাড়া করতে নেমে ভারত খুব সহজেই প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ জিতে নিল। ভারত অধিনায়ক শেষ পর্যন্ত ৮৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। লোকেশ রাহুল ১৯ বলে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের মতো ঝোড়ো ব্যাটিং করে ৩৯ রানে অপরাজিত থেকে গেলেন। ১৩ বল বাকি থাকতে ৭ উইকেটে প্রতম ওয়ানডে জিতে নিল ভারত।
বৃষ্টির জন্য নির্ধারিত সময়ে খেলা শুরু হয়নি। দীর্ঘ চার ঘণ্টার অপেক্ষা করতে হয়। শেষে ম্যাচের ওভার সংখ্যা কেটে ফেলা হয়। খেলা হয়ে যায় ২৫ ওভারের। অনেকটা ঠিক কুড়ি ওভারের। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে আফগানরা খুবই শক্তিশালী।
বৃষ্টি-বিঘ্নিত ম্যাচে ২৫ ওভারের খেলায় ভারতের বোলারদের কার্যত ছিন্নভিন্ন করে গুরবাজ খেলেন ১০২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস।
মাত্র ৪৮ বলে সেঞ্চুরি করে ইতিহাস গড়েন গুরবাজ। আফগানিস্তানের হয়ে ওয়ানডেতে দ্রুততম শতরানের রেকর্ড গড়লেন তিনি। তাঁর এই ঝোড়ো ইনিংসের সৌজন্যে আফগানরা ভেসে থাকে ম্যাচে।
ইনিংসের শুরুটা যদিও সহজ ছিল না আফগানিস্তানের জন্য। মাত্র ২৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল। তবে সেই চাপ সামলিয়ে একাই লড়াই চালান গুরবাজ। তাঁর ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ৮টি ছক্কা, যেখানে ভারতের প্রায় সব বোলারকেই তিনি অনায়াসে আক্রমণ করেন।
শুরুর দিকেই ভাগ্যও ছিল তাঁর সহায়। আর্শদীপ সিংয়ের একটি জোরালো এলবিডব্লিউ আবেদন আম্পায়ার নাকচ করে দেন, আর ভারত রিভিউ না নেওয়ায় বেঁচে যান এই ব্যাটার। পরে রিভিউতে দেখা যায়, বল স্টাম্পে লাগত।
এরপর থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে পুরো ম্যাচের রাশ নিজের হাতে নিয়ে নেন গুরবাজ। অভিষেককারী হর্ষ দুবের ওভার থেকে ১১ রান তুলে তিনি ব্যাটিং তাণ্ডব শুরু করেন। যার ফলে ভারতীয় দল চাপে পড়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ১৬তম ওভারে নীতিশ কুমার রেড্ডির ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে থামেন তিনি। তবে তাঁর এই ইনিংস ইতিমধ্যেই জায়গা করে নিয়েছে ইতিহাসে। ভারতের বিরুদ্ধে ওয়ানডেতে দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরির মালিক এখন রহমানুল্লাহ গুরবাজ। তিনি কেবল শাহিদ আফ্রিদির পিছনে রয়েছেন।
গুরবাজ ৫১ বলে ১০২ রানের ইনিংস খেলেন। আর আফগানিস্তান পুরো ২৫ ওভার টিকতে পারেনি। ২৪.৫ ওভারে আফগানিস্তান শেষ হয়ে যায় ১৯৪ রানে। গুরবাজ ছাড়া হাশমাতুল্লা শাহিদি (২৭) ও ওমরজাই (২৬) উল্লেখযোগ্য রান করেন। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে ব্রার ও হর্ষ দুবে তিনটি করে উইকেট নেন। অন্যদিকে অর্শদীপ সিং ও নীতীশ কুমার রেড্ডি ২টি করে উইকেট নেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভারত ২২.৫ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয়। সবার নজরে ছিলেন রোহিত শর্মা। হিটম্যান এদিন ছন্দে ছিলেন না। ১৬ বলে ১৬ রান করে তিনি ফেরেন। ভারতের রান তখন ৪৬। এরপরে শুভমন গিল ও ঈশান কিষান ৭০ রানের জুটি গড়েন। ঈশান কিষান ২২ বলে ৩৪ রান করেন। শ্রেয়স আইয়ার (১২) এদিন ব্যর্থ হন। লোকেশ রাহুল এসে যোগ দেন গিলের সঙ্গে। বাকি কাজটা দুই ব্যাটারই করে দেন। গিলের ৬৬ বলে ৮৪ রানের ইনিংসে সাজানো ছিল ১১টি চার ও ২টি ছক্কা। এই ভারত দারুণ শক্তিশালী। তাদের বেগ দেওয়া রীতিমতো কঠিন।















