আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ জট এখনও কাটেনি। তবুও শুক্রবার থেকে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলতে রাজি হলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দপ্তরে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সচিব ইফতেকার রহমানের সঙ্গে সে দেশের ক্রিকেটারদের সংগঠন ‘কোয়াব’–এর বৈঠকের পর এই বিষয়ে সহমত পোষণ করেছে দু’পক্ষ। যদিও বিসিবির অন্যতম ডিরেক্টর নাজমুল ইসলামকে নিয়ে দু’পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড়।


বৃহস্পতিবার বিপিএলের যে দু’টি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল, সেগুলি শুক্রবার হবে বলে ঠিক হয়েছে। আর শুক্রবারের ম্যাচগুলি একদিন পিছিয়ে হবে শনিবার। একদিন করে সূচি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এলিমিনেটর এবং প্রথম কোয়ালিফায়ার ১৯ জানুয়ারির পরিবর্তে ২০ জানুয়ারি হবে। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার এবং ফাইনালের দিন পরিবর্তন করা হয়নি। 


বৃহস্পতিবার রাতে ইফতেকার রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন কোয়াব সভাপতি মহম্মদ মিঠুন এবং কয়েক জন সদস্য। তার আগে বিপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির সঙ্গে বৈঠক সারেন বিসিবির অন্যতম ডিরেক্টর রহমান। কোয়াবের সঙ্গে বৈঠকে খেলা শুরুর সিদ্ধান্ত হওয়ার পর তা ঘোষণা করা হয়েছে।


বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত টি–২০ বিশ্বকাপ না খেললে ক্রিকেটাররা বিসিবির কাছ থেকে কোনও ক্ষতিপূরণ পাবেন কিনা, এই প্রশ্নের উত্তরে গত বুধবার বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন নাজমুল। তাঁর বক্তব্যে ক্ষুব্ধ কোয়াব অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট বয়কটের ডাক দিয়েছিল। বুধবার রাতে মিঠুন বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার মধ্যে নাজমুল ইস্তফা না দিলে বিপিএলের ম্যাচ খেলতেও মাঠে নামবেন না ক্রিকেটাররা। বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য নাজমুলকে ক্ষমা চাইতে হবে বলেও দাবি করেন তিনি। কোয়াবের দাবি মতো নাজমুল ইস্তফা না দেওয়ায় বিপিএলের ম্যাচ খেলতে বৃহস্পতিবার মাঠেই যায়নি কোনও দল। আম্পায়াররা মাঠে এসেও ফিরে যান। 


এরপর পরিস্থিতি সামলাতে বিসিবি নাজমুলকে অর্থ কমিটির প্রধান–সহ সব দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়। তবে তাঁর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি মানতে নারাজ বোর্ড কর্তারা। মাঠে ফিরতে রাজি হলেও মিঠুনরা জানিয়েছেন, তাঁরা দাবি থেকে সরছেন না। রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর মিঠুন বলেছেন, ‘ক্রিকেটের স্বার্থে আমরা আবার খেলা শুরু করছি। বোর্ডের সঙ্গে আমাদের আলোচনা ভাল হয়েছে। আলোচনায় দু’পক্ষ একটা জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছি। কোয়াবের সদস্য এবং খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে যাঁরা বৈঠকে ছিলেন, তাঁরা সকলে মাঠে ফিরতে জারি হয়েছেন।’ অন্যদিকে, রহমান আবার বলেছেন, ‘চেষ্টা করেও আমরা নাজমুলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। সকালেই তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে জবাব দিতে হবে। এর পর তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগের তদন্ত হবে।’ এর প্রেক্ষিতে মিঠুন আবার বলেছেন, ‘‌এই মুহূর্তে নাজমুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। বোর্ড কর্তারা কথা দিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে আমাদের দাবি পূরণের চেষ্টা করবেন। আমরা চাই বোর্ডের নিয়ম এবং পদ্ধতি মেনেই সব কিছু হোক।’‌


এছাড়া ওই বৈঠকে আরও কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যার সমাধান এখনও হয়নি। তবে শর্তসাপেক্ষে মাঠে নামতে রাজি হয়েছেন ক্রিকেটাররা।