আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডকে কড়া হওয়ার বার্তা দিলেন গৌতম গম্ভীর। বিসিসিআই এবার কড়া অবস্থান নিতে চলেছে। তার ফলে জশপ্রীত বুমরাহর চিন্তা কিন্তু বাড়ছে। 

পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে  বুমরাহ তিনটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। বেছে বেছে টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন তিনি। আর এতেই ভারতের চ্যাম্পিয়ন বোলারের উপরে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন ক্রিকেটাররা। 

সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় চুক্তি রয়েছে যে সব তারকাদের, তারা বাছাই করে খেলতে পারবেন না। আলোচনা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতাধীন খেলোয়াড়রা, বিশেষ করে যাঁরা নিয়মিত ফরম্যাটে রয়েছেন, তাঁদের কাছে এই বার্তা পাঠানো হবে যে অদূর ভবিষ্যতে বাছাই করে করে খেলা যাবে না। 

আরও পড়ুন: কেন রোনাল্ডোর সেলিব্রেশন নকল করেন সিরাজ? খোলসা করলেন গুজরাট টাইটান্সের সতীর্থ ...

ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের দোহাই দিয়ে বুমরাহ বেছে বেছে টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন ইংল্যান্ডে। ওভালে দরকার ছিল বুমরাহকে। কিন্তু তাঁকে পাওয়া যায়নি। 

তিনি না থাকায় সব চাপ এসে পড়ে মহম্মদ সিরাজের উপরে। পাঁচটি টেস্টে সিরাজ একাই ১৮৫.৩ ওভার বল করেছেন। বল হিসেবে ধরলে এক হাজারের বেশি বল করেছেন তিনি। তবুও চোট আঘাতের লাল চোখ দেখতে হয়নি তাঁকে। তিনি নাগাড়ে বল করে গিয়েছেন। যখনই দরকার হয়েছে, তখনই বল হাতে ছুটেছেন। 

হায়দরাবাদি পেসার প্রশংসিত হয়েছেন সর্বত্র। প্রতিপক্ষের ক্রিকেটাররাও  ভারতীয় পেসারের পারফরম্যান্স দেখে মুগ্ধ। ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক নাসের হুসেন তাঁর নিজস্ব কলামেও  সিরাজকে নিয়ে খেলেছেন। লিখেছেন, সিরাজ এমন একজন ক্রিকেটার যাঁকে সব অধিনায়কই দলে রাখতে চাইবেন। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা ভিডিও আপলোড করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। সেখানেই দেখানো হয়েছে সাজঘর ও মাঠের অবস্থা। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা, ‘‌বিশ্বাস, প্রত্যাশা, উল্লাস! ওভালে ভারতের বিশেষ জয়ের পর আবেগের বিস্ফোরণ।’‌ 

ওই ভিডিওয় দেখা গেছে, ড্রেসিংরুমে সহকারী কোচ রায়ান টেন দুশক্যাতে, মর্নি মর্কেল, সীতাংশু কোটাক ও বাকি সাপোর্ট স্টাফদের সঙ্গে রয়েছেন গম্ভীর। তাঁদের চোখ মাঠের দিকে। তখন ইংল্যান্ডের জিততে দরকার ১৭ রান। ভারতের চাই ২ উইকেট। সেই পরিস্থিতিতে ভারতীয় দলের অন্দরে বিশ্বাস রয়েছে যে তাঁরা জিতবেন। সেই বিশ্বাস ধরা পড়েছে গম্ভীরদের চোখেমুখে। শেষ দিকে যখন ইংল্যান্ডের ৭ রান দরকার ও ভারতের ১ উইকেট চাই, তখন ড্রেসিংরুমে দাঁড়িয়ে ছটফট করছেন গম্ভীর। বাকিরা দেওয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে। সকলেই প্রত্যাশা করছেন যে তাঁরা জিতবেন।

মহম্মদ সিরাজের বলে গাস অ্যাটকিনসনের স্টাম্প ছিটকে যাওয়ার পরেই উল্লাস শুরু হয় ভারতের ড্রেসিংরুমে। গম্ভীরকে ধরে রাখা যাচ্ছিল না। মর্কেল, দুশখ্যাতেদের জড়িয়ে ধরে লাফাচ্ছিলেন তিনি। তার পর দেখা যায়, বাকি সব সহকারী কোচ গম্ভীরকে কোলে তুলে নিয়েছেন। গম্ভীর সাধারণত গম্ভীরই থাকেন। এতটা উল্লাস বা আবেগ তিনি দেখান না। কিন্তু এই ম্যাচের পর পারেননি। মর্কেলকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন গম্ভীর। ওভালে হারের মুখ থেকে জিতে সিরিজ ড্রয়ের পর গম্ভীরের উচ্ছ্বাস বুঝিয়ে দিয়েছে কতটা স্বস্তি পেয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: সিরাজ, শুভমন বা জাদেজা নন, সিরিজের ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে কাকে বাছলেন গম্ভীর জানুন