আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ও জাতীয় দলের কোচ সঞ্জয় বাঙ্গারের কন্যা অনয়া বাঙ্গার আগামী মার্চ মাসে লিঙ্গের  অস্ত্রোপচার করাতে চলেছেন। নিজেকে একজন 'ট্রান্স নারী' বা রূপান্তরকামী হিসেবে প্রকাশ্যে তুলে ধরা অনয়া একজন ক্রিকেটার এবং ট্রান্স অধিকারকর্মী হিসেবেও পরিচিত। দীর্ঘদিনের মানসিক সংগ্রাম, সামাজিক লড়াই ও পারিবারিক টানাপোড়েনের পর অবশেষে বাবা-মায়ের পূর্ণ সমর্থন পাওয়াকে তিনি জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি বলে মনে করছেন।

টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনয়া জানিয়েছেন, তিনি থাইল্যান্ডের একটি বিশেষ ক্লিনিকে 'ভ্যাজিনোপ্লাস্ট্রি' করাবেন। অস্ত্রোপচারের পর অন্তত এক মাস তাঁকে সেখানে থাকতে হবে এবং সম্পূর্ণ সুস্থ হতে আরও কিছু সময় লাগবে। এই কারণে অন্তত ছয় মাস ক্রিকেট থেকে দূরে থাকতে হবে তাঁকে। তবু অনয়ার কথায়, এই অপেক্ষা সার্থক। “পাঁচ বছর ধরে এই মুহূর্তটার জন্য অপেক্ষা করেছি। জানি কিছুদিন ক্রিকেট খেলতে পারব না, কিন্তু এই সিদ্ধান্ত আমাকে ভেতর থেকে শান্তি দিচ্ছে,” বলেন তিনি।

অনয়া স্পষ্ট করে জানান, এই সিদ্ধান্ত কোনও তাড়াহুড়োর ফল নয়। দীর্ঘদিন ধরে থেরাপি, মানসিক কাউন্সেলিং ও চিকিৎসা মূল্যায়নের মধ্য দিয়েই তিনি এই পর্যায়ে পৌঁছেছেন। “আমি কখনওই জন্মের সময় নির্ধারিত লিঙ্গের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারিনি। বহু আত্মবিশ্লেষণ ও চিকিৎসার পর নিশ্চিত হয়েছি—এটাই আমি,” বলেন অনয়া। এই অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতিতে তাঁকে পথ দেখিয়েছেন ফ্যাশন ডিজাইনার সাইশা শিন্ডে ও অভিনেত্রী ত্রিনেত্রা হালদার গুম্মারাজু, যাঁরাও একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন।

&t=2s

এর আগে অনয়া প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, এক সময় তাঁর বাবা তাঁকে বলেছিলেন যে ক্রিকেটে তাঁর আর ভবিষ্যৎ নেই। সেই সময়টা তাঁর জীবনে অত্যন্ত কঠিন ছিল। অনয়ার কথায়, তিনি একা যুক্তরাজ্যে ছিলেন, পরিবার থেকেও দূরে, এবং সামাজিক স্তরে প্রবল অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে। সমাজে মানুষের সমর্থন, সম্মান এবং তাঁর নিজের দৃঢ় অবস্থান ধীরে ধীরে বাবা-মায়ের মনোভাবও বদলে দেয়।

“আমার বাবা দেখেছেন মানুষ আমার সঙ্গে ছবি তুলছে, আমার পাশে দাঁড়াচ্ছে, আমাকে সম্মান করছে। তখনই তাঁরা বুঝেছেন এটা কোনও ‘ফেজ’ নয়। আমি আমার জীবন নিয়ে সত্যিই সিরিয়াস,” বলেন অনয়া। বর্তমানে তাঁর অস্ত্রোপচারের সমস্ত খরচ বহন করছেন সঞ্জয় বাঙ্গার নিজেই—যা অনয়ার কাছে শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং দীর্ঘদিনের মানসিক দূরত্ব কাটিয়ে ওঠার এক শক্তিশালী প্রতীক।

অনয়া জানান, তাঁর ছোট ভাই অথর্ব শুরু থেকেই তাঁর পাশে ছিলেন। বাবা-মায়ের এই বদলানো অবস্থান তাঁকে নতুন করে সাহস জুগিয়েছে। ভারতের মতো দেশে, যেখানে এখনও পরিবারের ভেতরেই লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে কথা বলা কঠিন, সেখানে এই সমর্থন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

নিজের ব্যক্তিগত যাত্রার পাশাপাশি অনয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলিটদের অন্তর্ভুক্তির পক্ষেও ধারাবাহিকভাবে কথা বলে চলেছেন। তাঁর বিশ্বাস, খেলাধুলোর ক্ষেত্রেও লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে বৈজ্ঞানিক বোঝাপড়া ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি।

“আমি আশা করি আমার কথা বলা এবং আমার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো অন্য অনেক ট্রান্স মহিলার জন্য সাহস হয়ে উঠবে। হয়তো এর ফলে কোনও বাড়িতে এই কথাগুলো বলা একটু সহজ হবে,” বলেন অনয়া। তাঁর মতে, এমন এক সমাজে যেখানে লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে নীরবতা এখনও গভীর, সেখানে পরিবারের সমর্থনই সবচেয়ে বড় শক্তি।