কৌশিক রায়: হার্লে কাপ। যাঁরা ভারতের ঘরোয়া ফুটবলের খবরাখবর রাখেন তাঁদের কাছে এই ঐতিহাসিক টুর্নামেন্ট অজানা নয়। দার্জিলিংয়ের এই টুর্নামেন্ট ১১০ বছরের পুরনো টুর্নামেন্ট। কিন্তু আধুনিক ফুটবল, আইএসএলের যুগে জৌলুস হারিয়েছে এই হার্লে কাপ। তবে টুর্নামেন্টের জৌলুস কিছুটা কমলেও প্রতিভার কোনও খামতি নেই। তফাৎ একটাই।

এই প্রতিভাদের খবর দার্জিলিংয়ের বাইরে পৌঁছয় না। যে পাহাড় থেকে উঠে এসে বাইচুং ভুটিয়া, সুনীল ছেত্রীরা রাজ করেছেন ভারতীয় ফুটবলে সেই পাহাড়কেই এখন ব্রাত্য করার অভিযোগ উঠছে। উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে প্রচুর ফুটবলার কলকাতা ময়দানে খেললেও সুযোগ আসছে না দার্জিলিংয়ের ফুটবলারদের কাছে। বেঙ্গল ন্যাশনাল চেম্বার অফ কমার্স এবং টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের সহযোগিতায় 'নর্থ বেঙ্গল কলিং কনক্লেভ'-এর পর এবার পার্বত্য জেলার ফুটবলারদের কাছে বড় সুযোগ আসতে চলেছে। সব কিছু ঠিক থাকলে পাহাড়ের প্রতিভাবান ফুটবলারদের খেলতে দেখা যেতে পারে কলকাতা ময়দানে, হয়তো বা তিন প্রধানের কোনও একটা ক্লাবেও। দার্জিলিংয়ের ফুটবলারদের প্রতিভা দর্শনের জায়গা বলতে এই হার্লে কাপই। 

দার্জিলিংয়ে উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিএনসিসিআইয়ের তরফে যে যে সেক্টরের দিকে নজর দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে ক্রীড়াও। বৈঠকে বিএনসিসিআইয়ের তরফে ক্রীড়ার দিকটা দেখছিলেন সিদ্ধার্থ রায়(পপ)। তিনি মোহনবাগান এবং ডালহৌসি ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত। তাছাড়া, শহরে তাঁর নিজস্ব টেনিস অ্যাকাডেমি রয়েছে। অন্যদিকে, দার্জিলিংয়ের তরফে বৈঠকে এসেছিলেন বিবেক রঞ্জন।

তাঁর ফুটবল অ্যাকাডেমি রয়েছে পাহাড়ে। আজকাল ডট ইনকে একপ্রকার আক্ষেপের সুরেই বলছিলেন, 'ডুরান্ড কাপ নিয়ে কীভাবে মাতামাতি হয় বলুন তো। আমি হলফ করে বলতে পারি, আমাদের দার্জিলিংয়ের ছেলেরা কোনও অংশে কম নয়। এই হার্লে কাপের চাপ কম কিছু ভাববেন না। আগে নেপাল, ভুটান থেকে ফুটবলাররা এখানে খেলতে আসত। এখন সেটা একটা মাত্র মাঠে খেলা হয়। একটু প্রচার হলে, এখানকার ছেলেরা কলকাতায় খেলার সুযোগ পেলে কার না ভাল লাগে বলুন।'

এই হার্লে কাপের ফাইনাল হয় স্বাধীনতা দিবসের দিন। কিন্তু ততদিনে কলকাতায় ফুটবল মরশুম শুরু হয়ে যায়। বিএনসিসিআইয়ের এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য হিসেবে সিদ্ধার্থ বলছিলেন, 'নর্থ ইস্ট থেকে প্রচুর ফুটবলার উঠে আসছে। দার্জিলিং বাংলার নিজের জায়গা। সেখান থেকে প্রতিভা উঠে এলে কেন তাঁদের ময়দানে খেলাব না। বৈঠকেও সেটাই বলেছি। প্রতিভাদের আমাদের হাতে তুলে দিন। তাঁদের বিভিন্ন ক্লাবে খেলানোর দায়িত্ব আমরা দেখব। বাইচুং ভুটিয়াও এখান থেকেই উঠে এসেছে। কোথা থেকে প্রতিভা উঠে আসবে সেটা তো বলা যায় না। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল সব ক্লাবই তো করে আসছে এভাবেই। এপ্রিলের আগে হার্লে কাপ আয়োজন করা হোক দার্জিলিংয়ে। এখান থেকে ভাল ফুটবলার উঠে এলে তাঁরা কলকাতায় বড় ক্লাবে খেলার সুযোগ পাবে।'