বরিস সিং ২০১৬ সালে এএফসি অনূর্ধ্ব ১৬ চ্যাম্পিয়নশিপে ইরানের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন। সেই ঘটনার কারণে তিনি এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হন। ফলে ভারতের প্রথম ফিফা অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ম্যাচটি খেলতে পারেননি। সেটা ছিল দেশের ফুটবলের ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
2
9
একবার ইম্ফালের একটি ছোট মাঠের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বরিসের বাবা তাঁর ছেলেকে ফুটবল খেলতে দেখছিলেন। সেই সময় বরিস নিজের দলের অর্ধেক মাঠ থেকে দারুণ একটি পাস দিয়েছিলেন নিজের দলের স্ট্রাইকারকে।
বরিসের বাবা খুবই মুগ্ধ হয়েছিলেন এবং তাঁর ছেলেকে ফুটবলের প্রতি মনোযোগ দিতে বলেছিলেন। সেই সময়ে বরিসের আগ্রহ বেশি ছিল অ্যাথলেটিক্সের প্রতি।
3
9
বরিস যখন স্কুলে পড়তেন, তখন টেনিস বল দিয়ে ফুটবল খেলতেন। তখন তাঁদের কাছে টেনিস বলই থাকত। আর সেটাই তাঁরা কাজে লাগানোর চেষ্টা করতেন।
4
9
বরিসের বাবা আগে তাঁর মাকে একটি মুদির দোকান চালাতে সাহায্য করতেন, কিন্তু দোকানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তিনি দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ শুরু করেন।
5
9
ফুটবল বরিসকে স্বাধীনতা দিয়েছিল। মাঠে তিনি যা করতে চাইতেনম, তা-ই করতে পারতেন। আর সেটা তাঁর অসাধারণ লাগত। ফুটবল বরিসকে যেন জীবন দিয়েছিল।
6
9
কিন্তু আদর্শ ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর মতোই, বরিসের যাত্রা সহজ ছিল না। বরিস স্মরণ করেন, “আমার বাবা চাইতেন আমি পড়াশোনা করি এবং বাবা খুবই কঠোর ছিলেন।''
7
9
প্রথমে একজন রাইট-উইঙ্গার হিসেবে খেলা শুরু করেছিলেন বরিস সিং। মণিপুরে জন্ম নেওয়া বরিস সিং এখন রাইট-ব্যাক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন।
8
9
আক্রমণাত্মক দক্ষতাও ধরে রেখেছেন বরিস। প্রতি মরশুমেই অন্তত দু’বার গোল করেছেন। বরিস বলেন, “আধুনিক ফুল-ব্যাকরা শুধু ক্রস বা ওয়ান-অন-ওয়ান নিয়ে পড়ে থাকে না। একজন অলরাউন্ডার হতে হবে।''
9
9
সূত্রের খবর, বরিস সিংকে এবার ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে দেখা যেতে পারে। বরিসের অন্তর্ভূক্তি ইস্টবেঙ্গলের শক্তি বাড়াবে। একাধিক ক্লাবে খেলে বরিস সিং এবার আসছেন লেসলি ক্লডিয়াস সরণীর ক্লাবে। তিনি শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি প্রতিনিয়ত নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে গড়ে তোলার গল্প লিখে যান।