আজকাল ওয়েবডেস্ক: কাটোয়া স্টেশনের প্লাটফর্মে ট্রেনে দাউ দাউ আগুন। এই ঘটনার ফরেনসিক তদন্ত শুরু হল। সোমবার বিশেষজ্ঞ দল ট্রেনের কামরার ভেতরে দাহ্যবস্তু ও আগুনের উৎসর সন্ধান করায় কাটোয়া রেলওয়ে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের কামরায় আগুন লাগার ঘটনায় তদন্তে গতি এল।
আগুন লাগার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে রাজ্য ও কেন্দ্রের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা নেমেছেন ময়দানে। সোমবার সকাল থেকেই দুর্গাপুর থেকে আসা রাজ্য ফরেনসিক দলের আঞ্চলিক তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেন। ফরেনসিক দল প্রথমেই আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কামরাটিকে ঘিরে রেখে সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ শুরু করেন।
খবর, কামরার ভেতরে কোনও দাহ্যবস্তু ছিল কি না, আগুনের উৎসস্থল কোথায় এই দু'টি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা কামরার বিভিন্ন অংশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন এবং সম্ভাব্য দাহ্য পদার্থের উপস্থিতি খতিয়ে দেখেন।
কেন্দ্রীয় ফরেনসিক বিভাগ সহকারী আধিকারিক ডক্টর পাওয়ার রমেশ জানান, "আগুনের সূত্রপাত কোথা থেকে হয়েছে তা নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে কামরার মেঝে, সিটের অংশ, বৈদ্যুতিক সংযোগ ও জানালার পাশের অংশ বিশেষভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।" যদিও প্রাথমিকভাবে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে ট্রেনটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ ছিল, তবুও সমস্ত সম্ভাবনাকেই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা কামরার ভেতরে ঢুকে প্রতিটি কোণ বিস্তারিতভাবে পরিদর্শন করেন। শুধু তাই নয়, গোটা প্রক্রিয়ার ভিডিও রেকর্ডিং সংগ্রহ করেন, যাতে পরবর্তী বিশ্লেষণে কোনও তথ্য বাদ না যায়। ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে আগুনে পুড়ে যাওয়া কামরাটিকে ইতিমধ্যেই কার সেডে সরিয়ে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি যাতে প্রমাণ নষ্ট না হয় সেজন্য কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
রেল সূত্রে খবর, ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে পেলেই স্পষ্ট হবে এই অগ্নিকাণ্ড নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনও কারণ রয়েছে। কাটোয়া স্টেশনের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
