আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফের অশান্ত মণিপুর।‌ দুই নাবালকের মৃত্যুতে দফায় দফায় বিক্ষোভ বিষ্ণুপুর ও সংলগ্ন জেলায়। সেখানেই বেঘোরে প্রাণ হারিয়েছেন বাঙালি এক জওয়ান। মালদহের বাসিন্দা মৃত বিএসএফ জওয়ানের নাম মিঠুন মণ্ডল। স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে তাঁর। 

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১৭০ ব্যাটালিয়নের বিএসএফ পদে নিযুক্ত ছিলেন মিঠুন। মণিপুরের উখরুল জেলায় কর্মসূত্রে থাকতেন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে মংকোট চেপুতে টহল দেওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। 

 

বাংলার জওয়ানের শহিদ হওয়ার খবর পেয়েই শনিবার সন্ধ্যায় মোদি-শাহের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। এক্স হ্যান্ডেলে একটি বড়সড় পোস্টে অভিষেক লিখেছেন, "মালদহের বাসিন্দা বাঙালি বিএসএফ জওয়ান, মণিপুরের উখরুল জেলায় ১৭০ ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদ হয়েছেন। পরিবারে রয়েছে স্ত্রী ও দুই সন্তান। যাঁরা বাংলায় 'পরিবর্তন' নিয়ে বক্তৃতা দেন, তাঁরা নিজেদের নজর এবার মণিপুরে দিন।" 

">  

 

অভিষেক আরও লিখেছেন, "প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এত সময়, সারাক্ষণ বাংলায় প্রচারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন, অথচ মণিপুরে যাওয়ার সময় পান না। গত তিন বছর ধরে যে তাণ্ডব চলছে, তার সুরাহাও করেননি। কমপক্ষে ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ও নিখোঁজ হয়েছেন আরও ১০ হাজার।" 

 

তৃণমূল সাংসদের আরও বক্তব্য, "বাংলায় 'পাল্টানো দরকার' স্লোগান দেওয়ার আগে, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 'অষ্টলক্ষ্মী' রাজ্যের অসহায় মানুষের জন্য কিছু কাজ করুন।" 

 

প্রসঙ্গত, সেই বিষ্ণুপুর। আবারও জ্বলছে মণিপুরের এই জেলা। কারণ? ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণে মর্মান্তিক পরিণতি দুই নাবালকের। গুরুতর আহত তাদের মা। এই বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘিরে বিষ্ণুপুর-সহ পাশ্ববর্তী জেলাগুলিতেও তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়েছে। 

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সন্দেহজনক রকেট হামলার জেরে আবারও দফায় দফায় বিক্ষোভ হচ্ছে মণিপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায়। এর জেরে গত মঙ্গলবার থেকে মণিপুরের পাঁচ জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ ছিল। কারফিউ জারি হয়েছে এক জেলায়। 

 

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছিল, পূর্ব ইম্ফল, পশ্চিম ইম্ফল, বিষ্ণুপুর, কাকচিং, থৌবলে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি বিষ্ণুপুর জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছিল। 

 

মৈরাংয়ে কী ঘটেছে? 

পুলিশ জানিয়েছে, দুষ্কৃতীরা মোইরাং ট্রোংলাওবিতে এক বিএসএফ জওয়ানের বাড়ি লক্ষ্য করে রকেট হামলা করে। সেই বিস্ফোরণের জেরেই ওই জওয়ানের পাঁচ বছরের ছেলে এবং ছ'মাসের সদ্যোজাত মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। সকলেই ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। এই হামলায় তাঁর স্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। 

 

এই ঘটনার পরেই ট্রোংলাওবি এলাকা থেকে ২০০ মিটার দূরে স্থানীয় সিআরপিএফ ক্যাম্পে হামলা চালায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। কয়েকটি পণ্যবাহী ট্রাকে আগুন জ্বালিয়ে দেন। মৈরাং থানার সামনে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। গুলির শব্দও শোনা যায়। এই বিক্ষোভের জেরে আরও চারজন আহত হয়েছেন। 

 

এই ঘটনার পরেই মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী খেমাচন্দ সিং ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই মৃত দুই শিশুর আহত মায়ের সঙ্গে ইম্ফলের হাসপাতালে দেখা করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, "এটি বর্বোরচিত হামলা। মণিপুরের শান্তি নষ্ট করার ষড়যন্ত্র। এই হামলার তীব্র নিন্দা করছি। যে বা যারা দোষী, তাদের খুঁজে বের করে কড়া শাস্তি দেওয়া হবে। কোনওভাবেই এই ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বরদাস্ত করব না।"