আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত ২০ মার্চ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করল তৃণমূল। ইস্তেহারে ১০টি বিষয়ে নজর দেওয়া হয়েছে। কৃষি, স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে শিল্প, শিক্ষা, কর্মসংস্থান সব বিষয়ে নজরে দেওয়া হয়েছে। বাংলার মানুষকে ‘১০টি প্রতিজ্ঞা’ করেছেন মমতা। যা যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা সাধারণ মানুষের কাছে আরও ভাল ভাবে পৌঁছে দিতে নতুন উদ্যোগ নিল রাজ্যের শাসকদল। তৈরি করা হল ‘প্রতিজ্ঞা স্তম্ভ’। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য আলাদা আলাদা ‘প্রতিজ্ঞা স্তম্ভ’-এ নির্দিষ্ট করে তুলে ধরা হয়েছে বিধানসভাভিত্তিক প্রতিজ্ঞার তালিকা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূলের তরফ থেকে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। একটি পোস্টে লেখা হয়েছে, “বাংলাজুড়ে ১৫ বছর ধরে ঘরে ঘরে উন্নয়ন পৌঁছে দিয়েছে মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মা-মাটি-মানুষের সরকার। আগামীতেও বিধানসভা ধরে ধরে আরও বহু ক্ষেত্রে হবে উন্নয়ন। সেই উন্নয়নের প্রতিজ্ঞা নিয়েছেন জননেত্রী নিজেই। এলাকার মানুষ সেগুলিই দেখতে পাবেন এই প্রতিজ্ঞা স্তম্ভে।”
তৃণমূল সূত্রে খবর, ২৯১টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটিতে বিধানসভা ভিত্তিক প্রতিশ্রুতি। প্রত্যেক প্রার্থীর কার্যালয়ের সামনে একটি আলোকোজ্জ্বল স্তম্ভ থাকবে। যা সকলের সামনে দায়বদ্ধতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হবে। তৃণমূল ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের অঙ্গ হিসেবে ২৯১টি কেন্দ্রের প্রত্যেকটিতে তাদের প্রার্থীদের কার্যালয়ের বাইরে একটি করে 'প্রতিজ্ঞা স্তম্ভ' বসাতে শুরু করেছে। প্রার্থীরা ইতিমধ্যেই সেই সকল স্তম্ভের সামনে এসে পর্দা উন্মোচন করেছেন, সমাবেশে বক্তব্য রেখেছেন এবং যে জনগণের কাছে তাঁরা ভোট চাইছেন, মানুষের সামনে জোর গলায় নিজেদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এই কর্মসূচি এখন সর্বত্র চলছে, একের পর এক নির্বাচনী ক্ষেত্রে এটি হচ্ছে এবং ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে সত্যই এটি নজিরবিহীন।
তৃণমূলের দাবি, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কার্যকলাপের থেকে 'প্রতিজ্ঞা স্তম্ভ'-কে যা আলাদা করে তুলেছে, এটি যে বার্তা বহন করছে। প্রতিটি স্তম্ভে ১০টি প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এই ১০টি প্রতিশ্রুতির প্রতিটি সেট আলাদা, যা শুধুমাত্র সেই নির্দিষ্ট কেন্দ্রের প্রয়োজন, অবস্থা এবং আকাঙ্ক্ষার উপর ভিত্তি করে তৈরি। এগুলি হল প্রকৃত বিধানসভাভিত্তিক দায়বদ্ধতা, যা প্রতিটি অঞ্চলের প্রয়োজন অনুযায়ী তৈরি করেছেন সেই প্রার্থী, যাঁর নাম ইভিএমে থাকছে এবং যা প্রার্থীর কাজের জায়গায় স্থায়ীভাবে জনসমক্ষে বসানো হয়েছে। ভারতের কোনও দলই এর আগে বিধানসভা-স্তর পর্যন্ত গিয়ে প্রত্যেক প্রার্থীকে তাঁদের নিজস্ব এলাকার জন্য নির্দিষ্ট ১০টি প্রতিশ্রুতি দিতে বলেনি এবং সেই প্রতিশ্রুতিগুলিকে এমনভাবে সামনে রাখেনি, যাতে সেগুলি এড়িয়ে যাওয়া বা ভুলে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। এই মুহূর্তে সারা বাংলাজুড়ে তৃণমূল ঠিক সেটাই করছে।
‘প্রতিজ্ঞা স্তম্ভ’টি পিছন থেকে আলোকিত। সূর্যাস্তের পরও এটি ভালোভাবেই দেখা যাবে। এটি সারা সন্ধ্যা, সারা রাত এবং ভোটগ্রহণের দিন পর্যন্ত প্রতিটি সপ্তাহে দাঁড় করানো থাকবে— প্রার্থী কী কী দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার উজ্জ্বল স্মারক হিসেবে। তৃণমূলের দাবি, এই প্রতিশ্রুতিগুলি এমন কোনও জনসভায় করা হচ্ছে না, যা ভিড় সরে গেলেই শেষ হয়ে যায়। এগুলি করা হচ্ছে প্রকাশ্যে, প্রার্থীর কাজের জায়গায়, যেখানে যে কোনও ভোটার তাঁদের দায়বদ্ধ করতে চাইলে, ঠিক কোথায় যেতে হবে তা জানেন। প্রতিটি ‘প্রতিজ্ঞা স্তম্ভ’-এর সঙ্গে থাকবে ইস্তেহারের লিফলেট। যা এই একই প্রতিশ্রুতিগুলিকে নির্বাচনী ক্ষেত্রের প্রতিটি বাড়ি, বাজার এবং মোড়ে পৌঁছে দেবে।















