ওজন কমানো বা মাংসপেশি গড়ার কথা উঠলেই একটি প্রশ্ন প্রায় সকলের মনেই আসে। ডিমের কুসুম খাওয়া উচিত নাকি শুধু সাদা অংশই যথেষ্ট? অনেকেই সম্পূর্ণ তথ্য না জেনেই কুসুম ফেলে দেন। অথচ বাস্তব সত্য হল, ডিমের সাদা অংশ ও কুসুম, দু’টিরই আলাদা আলাদা পুষ্টিগুণ রয়েছে, যা জানা খুবই জরুরি।
বলিয়ার জনপ্রিয় চিকিৎসক ডা. রীতেশ সোনির মতে, শুধুমাত্র প্রোটিনের পরিমাণের দিক থেকে বিচার করলে ডিমের সাদা অংশ এগিয়ে। একটি ডিমের সাদা অংশে প্রায় ৩.৬ গ্রাম প্রোটিন থাকে, যা মোট প্রোটিনের প্রায় ৬০ শতাংশ। এই কারণেই জিমে যাওয়া মানুষদের মধ্যে এগগ হোয়াইটের চাহিদা বেশি।
ডিমের সাদা অংশে প্রোটিন বেশি হলেও ফ্যাট প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে অতিরিক্ত ক্যালোরি না বাড়িয়ে এটি মাংসপেশির রিপেয়ার ও বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। যাঁরা ওজন কমাতে চান বা লো-ফ্যাট ডায়েট মেনে চলেন, তাঁদের কাছে এটি আদর্শ খাবার হিসাবে ধরা হয়। ফিটনেস ডায়েটে তাই ডিমের সাদা অংশের ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়।
অন্য দিকে, ডিমের কুসুম আকারে ছোট হলেও পুষ্টিগুণে ভরপুর। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে। পাশাপাশি থাকে আয়রন, জিঙ্ক, ক্যালশিয়াম এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এই সব উপাদান মস্তিষ্কের কার্যকারিতা, চোখের স্বাস্থ্য, হাড়ের মজবুতির পাশাপাশি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল, ডিমের কুসুম খেলে কোলেস্টেরল বাড়ে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, সীমিত পরিমাণে কুসুম খেলে সুস্থ মানুষের কোনও ক্ষতি হয় না। আসলে অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই কোলেস্টেরল বাড়ার বড় কারণ। দিনে এক বা দু’টি ডিম খাওয়ায় সাধারণত ক্ষতি হয় না।
তাহলে কার জন্য কী খাবেন? যদি লক্ষ্য শুধুমাত্র ওজন কমানো বা উচ্চ প্রোটিন গ্রহণ হয়, তবে ডিমের সাদা অংশ ভাল বিকল্প হতে পারে। কিন্তু যদি সম্পূর্ণ পুষ্টি পেতে চান, তাহলে পুরো ডিম খাওয়াই বেশি উপকারী। যাঁদের কোলেস্টেরল বা হৃদরোগ সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে, তাঁদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ডিমের সাদা অংশ প্রোটিনের রাজা হলেও কুসুম হল পুষ্টির ভাণ্ডার। এই দু’টি একসঙ্গেই ডিমকে প্রকৃত ‘সুপারফুড’ করে তোলে। কোনও বিশেষ শারীরিক সমস্যা না থাকলে দিনে এক বা দু’টি সম্পূর্ণ ডিম খাওয়াই স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভাল বলে মনে করা হয়। সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করলেই নিরাপদ ও উপকারী।
