আজকাল ওয়েবডেস্ক: যে স্ত্রী ছয় ছয়টি বছর শয্যাশায়ী স্বামীর সেবাযত্ন করে তাঁকে সারিয়ে তুললেন, সুস্থ হতেই তাঁকেই কি না ডিভোর্স! এখানেই শেষ নয়, বিচ্ছেদের এক সপ্তাহের মধ্যেই অন্য এক মহিলাকে বিয়েও করে ফেললেন সেই ব্যক্তি। মালয়েশিয়ার এই ঘটনায় তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে নেটদুনিয়ায়।
মালয়েশিয়ার একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালে নুরুল শাযওয়ানি নামে ওই মহিলা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এক পুত্রসন্তানও হয় দম্পতির। বিয়ের দু’বছর পর থেকে কর্মসূত্রে স্বামী স্ত্রী আলাদা শহরে থাকতে শুরু করেন। এর পরেই এক গাড়ি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তাঁর স্বামী। আঘাত এতই প্রবল ছিল যে ওই ব্যক্তি সাময়িক ভাবে পঙ্গু হয়ে পড়েন। সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী হয়ে যান। টানা ছ’বছর ধরে নড়াচড়ার ক্ষমতা ছিল না তাঁর। এই দীর্ঘ সময়ে দিনরাত এক করে স্বামীর পরিচর্যা করেন শাযওয়ানি।

আরও পড়ুন: শুক্রাণু দান করে কত টাকা আয় হয়? ভারতে বীর্য দাতা হতে গেলে কোন কোন নিয়ম জানতে হবে?
আরও পড়ুন: লাবুবু ঘিরে বাড়ছে আতঙ্ক! পুতুল, নাকি শয়তানের দূত? ভয়াবহ অভিজ্ঞতায় সন্ত্রস্ত বলি নায়িকাও

নাকে নল দিয়ে খাওয়ানো, ডায়াপার বদলানো থেকে শুরু করে স্নান করানো, সবই নিজের হাতে যত্ন নিয়ে করতেন তিনি। ২০১৯ সাল থেকে শাযওয়ানি ফেসবুকে নিজের এই লড়াইয়ের কথা সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিতে শুরু করেন। বহু মানুষ তাঁর কাজকে অনুপ্রেরণা হিসাবে গ্রহণ করেন। নুরুল এতই যত্নবতী ছিলেন যে, স্বামীর সামান্য কাশি হলেও তিনি ভয় পেয়ে যেতেন। প্রতিদিন নিয়ম করে স্বামীর রিহ্যাবিলিটেশনও করাতেন তিনি। স্বামীর প্রতি তাঁর এহেন আচরণে তাঁর পরিবারও সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছিল।
কিন্তু সম্প্রতি শাযওয়ানি একটি বিয়ের ছবি পোস্ট করেন। আর তাতেই তুমুল শোরগোল পড়ে যায় সমাজমাধ্যমে। কারণ ওই ছবিতে যাঁর বিয়ে হচ্ছে তিনি আর কেউ নন, তাঁর নিজের স্বামী! ছবিতে স্পষ্ট দেখা যায় তাঁর স্বামী অন্য এক মহিলাকে বিয়ে করছেন।
স্বামীর জন্য এত কিছু করার পর এই দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান তাঁর অনুরাগীরা। ছবির সঙ্গে শাযওয়ানি লেখেন, “আমার ‘স্বামী’কে অভিনন্দন। আশা করি, তুমি যাকে বেছে নিয়েছ, তার সঙ্গে সুখী হবে। আইফা আইজ়াম(নতুন স্ত্রী), দয়া করে আমার মতো করেই ওর যত্ন নিও। ওর প্রতি আমার যা করার ছিল, তা শেষ। এ বার তোমার পালা।”
এর পরেই তাঁর অনুরাগীরা ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় তোলেন। পরিস্থিতি দেখে শাযওয়ানি পোস্টটি মুছে দেন। অন্য একটি পোস্টে তিনি জানান, গত ৬ অক্টোবর তাঁদের আইনত বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে। তিনি আরও বলেন, তাঁরা একসঙ্গেই সন্তানের দেখভাল করবেন। পাশাপাশি বিচ্ছেদের এই সিদ্ধান্তের জন্য তাঁদের সমালোচনা না করার অনুরোধও জানান তিনি। লেখেন, “যা কিছু ঘটে, তার পিছনে কোনও না কোনও কারণ থাকে।”
শাযওয়ানি বিষয়টি উদারতার সঙ্গে মেনে নিলেও, নেটিজেনরা কিন্তু তাঁর প্রাক্তন স্বামীর অকৃতজ্ঞতা মেনে নিতে পারেননি। এক জন লিখেছেন, “আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না। কেউ এত অকৃতজ্ঞ কী করে হতে পারে? ওঁর কি হৃদয় বলে কিছু নেই?”
অনেকেই আবার শাযওয়ানির পাশে দাঁড়িয়ে লিখেছেন, যা হয়েছে ভালই হয়েছে। যে পুরুষ এমন অকৃতজ্ঞ সে তাঁর মতো একজন মহিলাকে ডিজার্ভ করে না। আগামীতে নুরুলের ভবিষ্যৎ সুন্দর হোক বলেও প্রার্থনা করেছেন অনেকে।