হাইপারইউরিকেমিয়া অর্থাৎ শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়া একটি বেশ সাধারণ সমস্যা। এই অবস্থায় গাউট, জয়েন্টের ব্যথা, এমনকি কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। ইউরিক অ্যাসিড আসলে আমাদের শরীরের বিপাকক্রিয়ার একটি বর্জ্য পদার্থ, যা কিডনি ছেঁকে শরীর থেকে বার করে দেয়।

অনেকেই মনে করেন, ডালজাতীয় খাবারে পিউরিন বেশি থাকায় ইউরিক অ্যাসিড বাড়ার আশঙ্কা থাকলে সব ধরনের ডাল একেবারে এড়িয়ে চলা উচিত। তবে পুষ্টিবিদ কিরণ কুকরেজার মতে, এই ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়। সব ডালে পিউরিনের পরিমাণ একরকম নয়, তাই অযথা সব ডাল বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কোন ডাল কতটা খাওয়া নিরাপদ, সেটাই জানা জরুরি। একই সঙ্গে নিজের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা জানা থাকাও খুব গুরুত্বপূর্ণ।

পিউরিন হল নাইট্রোজেনযুক্ত এক ধরনের যৌগ, যা শরীরে ভেঙে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি করে। ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা আগে থেকেই বেশি থাকলে পিউরিনসমৃদ্ধ খাবার অতিরিক্ত খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। এই কারণেই অনেক মানুষ ইউরিক অ্যাসিড কমানোর আশায় পুরোপুরি ডাল খাওয়া বন্ধ করে দেন। কিন্তু কিরণ বলছেন, এতটা চরম সিদ্ধান্তের দরকার নেই। সঠিক ডাল বেছে নেওয়া এবং পরিমাণের দিকে নজর রাখলেই যথেষ্ট।

ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, সকলের শরীর একরকম নয়। অন্যের ক্ষেত্রে যা কাজ করে, তা আপনার জন্য নাও উপযুক্ত হতে পারে। ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা যদি খুব বেশি হয়, বিশেষ করে যদি তা আট মিলিগ্রাম প্রতি ডেসিলিটারের বেশি হয়, তাহলে মাঝারি পিউরিনযুক্ত খাবারও এড়িয়ে শুধুমাত্র কম পিউরিনযুক্ত খাবারে সীমাবদ্ধ থাকতে হতে পারে।

পিউরিনের পরিমাণের দিক থেকে হলুদ মুগ ডাল সবচেয়ে নিরাপদ বলে ধরা হয়। এতে পিউরিন কম থাকায় এটি প্রায় প্রতিদিনই খাওয়া যেতে পারে। মুসুর ডাল এবং সবুজ খোসাসহ মুগ ডালে পিউরিনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে একটু বেশি হলেও কম পর্যায়েই থাকে। এগুলি সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন খাওয়া যেতে পারে। তবে খাওয়ার আগে অন্তত ছ’থেকে আট ঘণ্টা ভিজিয়ে নেওয়া ভাল। লোবিয়া, মুগ ডালের মতো ডালগুলি পিউরিনের মাত্রা মাঝারি। তাই এগুলো সপ্তাহে দু’থেকে তিন দিনের বেশি না খাওয়াই শ্রেয়। ছোলা, রাজমা ও কালো ছোলায় পিউরিনের পরিমাণ আরও কিছুটা বেশি থাকে, ফলে এগুলো খুব ঘনঘন না খেয়ে ১০ থেকে ১৫ দিনে একবার খাওয়া নিরাপদ। অন্য দিকে সয়াবিন ও সোয়া চাঙ্কসে পিউরিনের মাত্রা খুব বেশি।ইউরিক অ্যাসিড বেশি হলে ক্ষেত্রে এগুলি পুরোপুরি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণের জন্য সব ডাল একেবারে বাদ দেওয়া নয়, বরং নিজের শরীরের অবস্থা বুঝে সঠিক ডাল ও সঠিক পরিমাণ বেছে নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।