শীতকে ত্বকের জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সময় বলা হয়। এই সময় শুষ্ক হাওয়ার কারণে ত্বক রুক্ষ এবং নিষ্প্রাণ দেখাতে শুরু করে। নারী হোক বা পুরুষ, এই সমস্যা এড়াতে অনেকেই নানা ধরনের ক্রিম, ময়েশ্চারাইজার ও বিউটি প্রোডাক্ট ব্যবহার করেন। তবে বাজারে পাওয়া বহু জিনিস যেমন দামি, তেমনই অনেক সময় ত্বকের ক্ষতিও করতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত খরচ না করে যদি শীতকালেও ত্বককে গোলাপি, নরম ও উজ্জ্বল রাখতে চান, তাহলে একটি সহজ ঘরোয়া উপায় আপনার কাজে আসতে পারে। যে উপাদানটির কথা বলা হচ্ছে, তা প্রায়শই মানুষের বাড়ির টব বা বাগানেই সহজে পাওয়া যায়।
আসলে এখানে কথা হচ্ছে অ্যালোভেরা নিয়ে, যাকে আয়ুর্বেদে ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী বলে মনে করা হয়। শীতকালে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যায়, যার ফলে শুষ্কতা ও নিষ্প্রাণভাব বেড়ে যায়। এই অবস্থায় অ্যালোভেরা একটি প্রাকৃতিক ও নিরাপদ বিকল্প।
অ্যালোভেরায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ময়েশ্চারাইজিং গুণ ত্বককে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে। এটি ত্বককে ভিতর পর্যন্ত পুষ্টি জোগায়, যার ফলে দাগছোপ, ব্রণ ও অতিরিক্ত শুষ্কতার সমস্যা কমে। নিয়মিত অ্যালোভেরা ব্যবহার করলে ত্বক নরম, মসৃণ ও উজ্জ্বল থাকে।
অ্যালোভেরা ব্যবহার করার পদ্ধতিও খুবই সহজ। অ্যালোভেরার একটি পাতা কেটে তার ভিতরের জেল বের করে নিতে হবে। এই জেল রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে মুখে ও শরীরের যেসব অংশ বেশি রুক্ষ ও নিষ্প্রাণ দেখায়, সেখানে লাগাতে হবে। সকালে উঠে জল দিয়ে মুখ ও শরীর ধুয়ে নিতে হবে। নিয়মিত এইভাবে ব্যবহার করলে ত্বকের রুক্ষতা কমে এবং মুখের দাগছোপেও অনেকটাই উন্নতি দেখা যায়।
শীতে যদি প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বকের যত্ন নিতে চান, তাহলে অ্যালোভেরার এই ঘরোয়া টোটকা নিঃসন্দেহে বেশ কার্যকর হতে পারে। সামান্য সচেতনতা ও সঠিক অভ্যাসই পারে বড় পার্থক্য গড়ে দিতে। বাহ্যিক সৌন্দর্যের পেছনে না দৌড়ে যদি প্রাকৃতিক ও নিরাপদ উপায়ে শরীর ও ত্বকের যত্ন নেওয়া যায়, তবে তার সুফলও হয় দীর্ঘস্থায়ী। তাই যে কোনও পরামর্শ অন্ধভাবে অনুসরণ না করে নিজের শরীরের প্রয়োজন বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
