নারীরা খুব অল্প বয়স থেকেই চোখের সৌন্দর্য বাড়াতে কাজল ব্যবহার করে থাকেন। সাজগোজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসাবেই কাজলকে ধরা হয়। কাজল লাগালে চোখ আরও আকর্ষণীয় ও গভীর দেখায়। তবে জানেন কি, প্রতিদিন চোখে কাজল ব্যবহার করলে কিছু বড় ক্ষতিও হতে পারে? বিশেষ করে সঠিকভাবে ব্যবহার না করলে বা নিম্নমানের পণ্য ব্যবহার করলে চোখের জন্য ঝুঁকি বাড়ে।
যাঁরা নিয়মিত কাজল ব্যবহার করেন, তাঁদের উচিত ভাল মানের, প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি ও হাইপোঅ্যালার্জেনিক কাজল বেছে নেওয়া। এগুলোর দাম তুলনামূলক বেশি হলেও চোখের ক্ষতির আশঙ্কা কম থাকে। নিম্নমানের কাজল ব্যবহার করলে চোখে সংক্রমণসহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই প্রতিদিন কাজল ব্যবহারের আগে সম্ভাব্য ক্ষতিগুলো জানা অত্যন্ত জরুরি।
বাজারে পাওয়া কাজল মাঝেমধ্যে ব্যবহার করলে সমস্যা নাও হতে পারে। কিন্তু অতিরিক্ত ব্যবহারে চোখে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ে। অনেক কাজলে ক্ষতিকর রাসায়নিক বা ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, যা চোখের সংক্রমণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই কাজল ব্যবহার করলে তার গুণমানের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।
অনেকেই জানেন না, কাজল থেকেও চোখে অ্যালার্জি হতে পারে। বাজারচলতি বহু কাজলে এমন রাসায়নিক উপাদান থাকে, যা চোখে অ্যালার্জির সৃষ্টি করে। এর ফলে চোখ লাল হয়ে যাওয়া, ফোলা কিংবা জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাঁদের ত্বক সংবেদনশীল, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি, কারণ তাঁদের চোখও তুলনামূলকভাবে বেশি সংবেদনশীল।
নিয়মিত কাজল ব্যবহার করলে চোখের অশ্রুনালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এর ফলে চোখে ফোলা বা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। অনেক সময় অতিরিক্ত কাজল চোখের ভিতরে ঢুকে পড়ে, যা চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতায় প্রভাব ফেলে। এর কারণে ঝাপসা দেখা বা চোখে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।
দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত কাজল ব্যবহার করলে চোখের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতাও কমে যেতে পারে। কাজলে থাকা কিছু ক্ষতিকর উপাদান দীর্ঘমেয়াদে চোখের ক্ষতি করতে পারে। তাই কাজল কেনার সময় ভালভাবে দেখে নেওয়া উচিত, এতে কোনও ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে কি না।
আগে ঘরেই কাজল তৈরি করা হত। সেই কাজল ছিল একেবারে খাঁটি এবং রাসায়নিকমুক্ত। সাধারণত এই কাজল কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজে থেকেই মুছে যেত। সময়ের সঙ্গে বাজারে আসতে শুরু করে ওয়াটারপ্রুফ ও স্মাজপ্রুফ কাজল, যা একবার লাগালে ১০–১২ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকে। তবে দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর ক্ষতিকর দিকগুলিও বেড়েছে। সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
