আজকাল নুন যেন ‘খলনায়ক’ হয়ে উঠেছে। অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই নুন একেবারে বাদ দিচ্ছেন, এই বিশ্বাসে যে নুন মানেই ক্ষতিকর। কিন্তু বাস্তবটা এত সরল নয়। অতিরিক্ত নুন যেমন কিছু নির্দিষ্ট রোগে বিপজ্জনক হতে পারে, তেমনই অকারণে এটি পুরোপুরি বর্জন করাও শরীরের জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে।
২০ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞ ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ও ফাংশনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সঞ্জয় ভোজরাজ এই বহুদিনের বিতর্কে নতুন আলো ফেলেছেন। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তিনি ব্যাখ্যা করেন, নুন শরীরে কীভাবে কাজ করে এবং কেন চিকিৎসকের সঠিক পরামর্শ ছাড়া নুন কমানো বা বাদ দেওয়া উচিত নয়।
ডা. ভোজরাজের মতে, নুন বেশির ভাগ মানুষের জন্য খুব উপকারী না হলেও, তা স্বভাবগতভাবে ক্ষতিকরও নয়। বরং শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্মের জন্য নির্দিষ্ট মাত্রায় সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্লোরাইডের মতো ইলেকট্রোলাইট অপরিহার্য। স্নায়ুর সঙ্কেত আদানপ্রদান, পেশির সংকোচন এবং শরীরের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে এগুলি গুরুত্বপূর্ণ। সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন মাত্রা ছাড়িয়ে যায়।
তিনি বলেন, “নুন সবার জন্য খারাপ নয়। শরীর ঠিকভাবে কাজ করতে কিছু নির্দিষ্ট ইলেকট্রোলাইট দরকার। সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্লোরাইড। তাই এগুলোকে পুরোপুরি খারাপ বলা যায় না।”
ডা. ভোজরাজ জানান, অতিরিক্ত সোডিয়াম রক্তনালির জন্য সরাসরি ক্ষতিকর হতে পারে। এতে রক্তচাপ বাড়ে, কিডনির উপর চাপ পড়ে এবং শরীরের তরল ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। বেশি নুন খেলে শরীরে জল জমে, যা হৃদরোগে আক্রান্তদের জন্য মারাত্মক হতে পারে। তাই হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনি সংক্রান্ত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের নুন খাওয়ার সময় বিশেষ সতর্ক থাকতে হয়।
তাঁর কথায়, “সোডিয়াম রক্তনালির জন্য বিষের মতো কাজ করতে পারে, তাই রক্তচাপ বাড়ে। কিডনির উপরও চাপ পড়ে। আর কিছু হৃদরোগে বেশি নুন মানে বেশি জল ধরে রাখা, যা রোগীর পক্ষে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।”
ডা. ভোজরাজ জোর দিয়ে বলেন, নুন ভাল না খারাপ, এই প্রশ্নের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, নির্দিষ্ট একজন মানুষের শরীর কতটা নুন সহ্য করতে পারেন এবং তাঁর স্বাস্থ্যের অবস্থা কী। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হঠাৎ নুন একেবারে কমিয়ে দিলে শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
তিনি বলেন, “কারও ক্ষেত্রে সোডিয়াম কমালে রক্তচাপ ভাল হয়, আবার কারও ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন নুন কম খেলে স্ট্রেস হরমোন বেড়ে উপসর্গ আরও খারাপ হতে পারে। আসল প্রশ্ন হল, কাকে নুন খাওয়া এড়াতে বলা হচ্ছে, আর সেটা কি সত্যিই তাঁর শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়।”
