আজকাল ওয়েবডেস্ক: অনলাইন প্ল্যাটফর্ম রেডিটের জনপ্রিয় সাবরেডিট 'r/marriageadvice'-এ প্রকাশিত এক পোস্ট ঘিরে সম্প্রতি তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ৪৩ বছর বয়সি এক মহিলা অভিযোগ করেছেন, তাঁর স্বামী ঘুমের মধ্যে বারবার তাঁর শরীরে অস্বস্তিকর স্পর্শ করেন, যা তিনি দীর্ঘদিন ধরে আপত্তি জানিয়ে এলেও বন্ধ হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তিনি জানতে চেয়েছেন তিনি কি অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন, নাকি এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্তিগত সীমারেখা লঙ্ঘন?

ওই মহিলার দাবি, ১৭ বছরের দাম্পত্য জীবনে এবং তিন সন্তানের মা হওয়ার পর থেকে তাঁর ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ স্বামী মাঝরাতে তাঁকে জাগিয়ে বা ঘুমের মধ্যেই স্তন চেপে ধরেন, এমনকি কখনও আলাদা ঘরে ঘুমালেও তা ঘটে। তাঁর বক্তব্য, এই অভিজ্ঞতা তাঁকে মানসিকভাবে বিরক্ত করছে এবং স্বামীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আরও কমিয়ে দিচ্ছে। স্বামীর পাল্টা যুক্তি, তাঁদের যৌনজীবন সক্রিয় না হওয়াতেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে।

এই পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় শতাধিক মন্তব্য জমা পড়েছে। অধিকাংশ মন্তব্যকারী স্পষ্ট ভাষায় একে ‘সম্মতিহীন আচরণ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অনেকেই লিখেছেন, বিবাহিত সম্পর্ক হলেও প্রতিটি শারীরিক ঘনিষ্ঠতার ক্ষেত্রে সম্মতি অপরিহার্য। ঘুমের মধ্যে স্পর্শ বা অনুপ্রবেশ যদি তা আগে থেকে সম্মত না হয় তবে তা দাম্পত্য অধিকার নয়, বরং গুরুতর সীমালঙ্ঘন।

একাধিক ব্যবহারকারী মন্তব্যে জানিয়েছেন, “বিয়ে মানেই সারাজীবনের স্বয়ংক্রিয় সম্মতি নয়।” কেউ কেউ এটিকে আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে ‘যৌন নিপীড়ন’-এর পর্যায়ে ফেলেছেন। অনেকেই পরামর্শ দিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে খোলামেলা ও কঠোর আলোচনা প্রয়োজন, প্রয়োজনে দম্পতি কাউন্সেলিং বা থেরাপিস্টের সাহায্য নেওয়া উচিত।

অন্যদিকে, অল্প কিছু মন্তব্যে বলা হয়েছে কিছু দম্পতির ক্ষেত্রে ঘুমের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা পারস্পরিক সম্মতির অংশ হতে পারে। তবে সেখানেও জোর দিয়ে বলা হয়েছে, সম্মতি থাকলেই কেবল তা গ্রহণযোগ্য। এক পক্ষের স্পষ্ট আপত্তি থাকলে সেটি কোনওভাবেই স্বাভাবিক বা বৈধ নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিতর্ক আসলে বৃহত্তর এক সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন। এখনও বহু সমাজে দাম্পত্য সম্পর্কে নারীর শারীরিক স্বাধীনতাকে পুরোপুরি স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। কিন্তু আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে, বিবাহিত সম্পর্কেও সম্মতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

সব মিলিয়ে, রেডিটের এই আলোচনাটি ঘুমের মধ্যে স্পর্শের একটি ব্যক্তিগত অভিযোগের গণ্ডি ছাড়িয়ে দাম্পত্য সম্পর্কের ভিতরে সম্মতি, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং নারীর অধিকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।